করোনায় গোলাপগঞ্জের ঈদ উৎসব মলিন

58

গোলাপগঞ্জ প্রতিনিধি

মহামারী করোনাভাইরাসে কাবু গোটা বিশ্ব। করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে তাই সামাজিক দূরত্ব মেনে চলায় গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। মানুষের প্রাণ বাঁচাতে কারফিউ, লকডাউন দেওয়া হয়েছে ঈদের দিনেও। বহু দেশে ঈদের জামাত না করার অনুরোধ ও ফতোয়া দেওয়া হয়েছে। গণপরিবহন ও যান চলাচল বন্ধ থাকায় অনেকেই ফিরতে পারেননি পরিবারের কাছে। বন্ধু ও আত্মীয়ের বাসায় বেড়ানো যাবে না। বন্ধ রয়েছে দেশে দেশে শপিং মল, পর্যটন কেন্দ্র। ঈদ উৎসবের এমন চিত্র অভাবনীয়।

দীর্ঘ একমাস সিয়াম সাধনার পর আসে মুসলমানদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদ উপলক্ষে ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের মনে আনন্দের সীমা থাকে না। ঈদের দিন সকাল থেকে প্রতিটি পাড়া-মহল্লায় শুরু হয়ে যায় ঈদের আমেজ। ছোট শিশুরা নতুন কাপড় পরিধান করে রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে বেড়ায়। বড়রা মসজিদে নামাজ পড়তে যান ঈদে কেনা পছন্দের পাঞ্জাবি পড়ে। গায়ে খুশবু লাগিয়ে জায়নামাজ হাতে নিয়ে মসজিদের দিকে রওয়ানা দেন তারা।

কিন্তু এবারের ঈদ ধর্মপ্রাণ মুসলমানদের জন্য একেবারে ভিন্ন। সিলেটের গোলাপগঞ্জে প্রতিবছর ঈদের এই দিনে কত রকমের আনন্দ-উল্লাস বয়ে গেছে ছোট-বড়, শিশু-কিশোর, নারী-পুরুষের মনে। কিন্তু মহামারী করোনায় এবারের ঈদে সেই চিরচেনা আনন্দ-উল্লাস নেই। করোনায় সবকিছু বন্ধ। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকায় যেতে বারণ করা হয়েছে। এমনকি যাওয়া যাচ্ছে না প্রতিবেশীর কাছেও।

ইতোমধ্যে গোলাপগঞ্জ উপজেলা সিলেটে করোনার হটস্পটে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিন বাড়ছে উপজেলায় করোনা আক্রান্তের সংখ্যা। উপজেলায় মোট করোনা রোগীর সংখ্যা ৩৫ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৩ জন সুস্থ হয়েছেন এবং একজন মৃত্যুবরণ করেছেন।

ফলে অন্যবারের মতো এবারের ঈদে মানুষ কোথাও বেড়াতে যেতে পারছেন না। এক এলাকা থেকে অন্য এলাকা বা পাশের বাড়ি, সবখানে যাওয়া থেকে বিরত থাকতে হচ্ছে উপজেবাসীকে।

আজ সোমবার (২৫ মে) ঈদের দিন উপজেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা যায়, উপজেলাজুড়ে বিরাজ করছে নীরবতা, নিস্তব্ধতা। করোনায় সবকিছু ওলটপালট করে দিয়েছে। থমকে দাঁড়িয়েছে উপজেলার প্রতিটি জায়গা। কোথাও আনন্দ-উল্লাস নেই, ম্লান ঈদের আমেজ।

স্থানীয় যুবক হৃদয় আহমদ বলেন, ঈদের দিনে কত জায়গায় বেড়াতে যেতাম। আনন্দ করতাম। বন্ধুদের সাথে ঘুরতে বের হতাম। কিন্তু এবার করোনা ঈদের আনন্দটা কেড়ে নিয়েছে। নিজেকে বন্দি করে তবু চাই পৃথিবীটা ঠিক আগের জায়গায় ফিরে আসুক।

কামাল উদ্দিন বলেন, নামাজ পড়ে বাসায় এসে কোথাও বের হইনি। কোথাও তো আর এখন যাওয়া যাবে না। আমাদের উপজেলার মানুষ অন্য উপজেলায় গেলে মানুষ বিভিন্ন ধরণের কথাবার্তা বলেন। তাই এবারের ঈদটা পরিবার-পরিজনের সাথেই কাটাতে চাই।

করোনা একদিন শেষ হবে। তবে এর মধ্যে নিয়ে যাচ্ছে, নিয়ে যাবে অনেক তরতাজা প্রাণ। হয়তো পৃথিবী শিগগির আবার হেসে উঠবে। যারা করোনাযুদ্ধে বেঁচে থাকবেন, তারা জীবনেও এই মহামারীকে ভুলতে পারবেন না। আজকের দিন অর্থাৎ ঈদের দিনটি চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবে সবার হৃদয়ে।

  •