বড়লেখার কামাররা ঈদে ক্রেতা না পেয়ে অলস সময় পার করছেন

8
No description available.
বড়লেখা প্রতিনিধি 
মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলায় কোরবানির ঈদকে সামনে রেখে ক্রেতা না থাকায় অলস সময় কাটাচ্ছেন কামারপট্টির কামারেরা।কোরবানির ঈদ উপলক্ষে দা,ছুরি,বটি,চাপাতিসহ বিভিন্ন যন্ত্রের চাহিদা বাড়ে কয়েকগুণ। সেই চাহিদার জোগান দিতেই মৌলভীবাজারের বড়লেখা উপজেলার ১০ টি ইউনিয়নের হাট-বাজারের কামারপট্টিগুলো ব্যস্ত হয়ে পড়ে। তবে এবার ক্রেতা না পেয়ে হতাশ হয়ে পড়েছেন কামারপট্টিগুলোর কামাররা। অথচ, এই এক মৌসুমের আয়েই তাদের সারা বছরের ভরসা।
এই মৌসুমের জন্য কামাররা ব্যাপক উৎসাহ নিয়ে ধার-দেনা করে কাঁচামাল কিনে প্রস্তুত করেন কোরবানির পশু কাটার যন্ত্রপাতি। প্রতিবছর প্রত্যাশা অনুযায়ী মুনাফাও অর্জিত হয়। এবার সারি সারি ছুরি,চাকু,দা,বটি,চাপাতি দোকানের সামনে সাজিয়ে রাখলেও ক্রেতার দেখা না পাওয়ায় সারা বছরের আগুনের উত্তাপ গায়ে জড়িয়ে লোহা পিটিয়ে যন্ত্রে পরিণত করা কারিগরের কপালে এখন শঙ্কার ভাঁজ পড়েছে। তবে ঈদের আগে বাকি দিনগুলোতে বেঁচা-কেনা বাড়বে এই প্রত্যাশায় যন্ত্র তৈরির কাজ করেই যাচ্ছেন কামাররা।
কামারপট্টিতে দা-ছুরির শাণ দিতে আসা আব্দুস সবুর জানান, করোনা ও বন্যার প্রভাবে অনেক মানুষ আর্থিক সংকটে পড়েছেন। এ কারণে এ বছর অনেকেই কোরবানি দিতে পারছেন না। এজন্য কামারপট্টিতে ক্রেতার আনাগোনা কম।
উপজেলার দাসের বাজারের কামার জিতেন্দ্র মালাকার জানান, প্রতিবছর কোরবানির ঈদের ১৫দিন আগে থেকেই ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড় থাকে। কেউ নতুন ছুরি, চাকু, দা, বটি, চাপাতি আবার কেউ কেউ পুরনো গুলোকে শান দিতে আনেন। এবার তার উল্টোটাই ঘটছে। সকাল থেকে রাত অবধি দোকানে যন্ত্রপাতি নিয়ে বসে থাকলেও মিলছে না ক্রেতা। শান দিতেও আসছে না।
উপজেলার উত্তর শাহবাজপুর ইউনিয়নের কামার ফারুক উদ্দিন জানান, ‘বংশপরম্পরায় কামার শিল্পের সঙ্গে জড়িত তিনি। বর্তমানে ব্যবসায় খরা আর আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহারে লৌহজাত পণ্যের চাহিদা কমে যাওয়া,পন্য তৈরির সরমজাম লোহা,কয়লাসহ অন্যান্য জিনিসপত্রের দাম বেশি হওয়ায় বেশি দাম বিক্রি করার পরও লাভ হয় না। এরপরও নানান প্রতিকূলতার মাঝে কোনরকমে ঠিকে আছি।’
  •