যুক্তরাষ্ট্র নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গাড়ি পার্কিং নিয়ে মারামারি, গাড়ি ভাঙচুর

57

কামরুজ্জামান হেলাল,
যুক্তরাষ্ট্র:

নিউইয়র্কের জ্যাকসন হাইটসে গাড়ি পার্কিং নিয়ে মারামারির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার রাত ১০.৩০ মিনিটের সময় ৭৩ স্ট্রিট ও নিকটবর্তী ৩৭ এভিনিউতে সাদা রঙের একটি গাড়ি পার্ক করা থাকা অবস্থায় অন্য আরেকটি গাড়ি পার্ক করতে গিয়ে ওই গাড়ির চালক সামনের গাড়িতে ধাক্কা দেন।
এরপর সাদা রঙের গাড়িটির মালিক ধাক্কা দিয়েছেন এবং সতর্কতা অবলম্বন করে গাড়ি পার্ক করার কথা বলতেই ওপর গাড়ির চালক বাংলাদেশি আলী নামের ওই ব্যক্তি গাড়ি থেকে নেমেই গালাগালি শুরু করেন। শুধু গালাগালি করেই থামেননি তিনি। একপর্যায়ে ধাক্কা দেওয়া ওই সাদা রঙের গাড়ির মালিককে ধাক্কা দিয়েছি বেশ করেছি বলে তার গ্যাং গ্রুপকে ফোন করে আসতে বলেন।
আলী নামের ওই ব্যক্তির গ্যাং গ্রুপ আসার পর সাদা রঙের গাড়ির মালিক ও বাংলাদেশি যুবককে ছুরি নিয়ে মারার হুমকি দেয়। ঘটনার সময় দাঁড়িয়ে থাকা ওই যুবকের বন্ধুরা নিজেদের আত্মরক্ষার্থে আলীর গ্যাং গ্রুপকে ধাওয়া করে।ধাওয়া খাওয়ার পর আলী ৯১১ কল দেন। কিছুক্ষণের মধ্যে জ্যাকসন হাইটস এলাকায় প্রায় ১০ -১২টি পুলিশের গাড়ি অবস্থান নেয়।পুলিশ আসার পর আবারও আলীর গ্রুপ এসে উল্টো তাদেরকে আক্রমণ করে বলে একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান।
একপর্যায়ে পুলিশের সামনে আলী গ্রুপের কয়েকজন ও কয়েকজন নারী দাঁড়িয়ে থাকা এক যুবকের গায়ে হাত তুলে এবং মারার হুমকি দেন। এমনকি পুলিশের সামনেই আলী গ্রুপের একজন নারী পার্কিং করা গাড়ির মিরর(আয়না) ভেঙে ফেলেন।

কয়েকঘন্টা ধরে পুলিশের সাথে দু’পক্ষের চলমান বাকবিতন্ডার ঘটনার নিস্পত্তি হয়। কিন্তু ঘটনা শেষ হতে না হতেই কয়েকঘন্টা পর রাত অনুমানকি ১ টার সময় আবারও আলী গ্রুপের ওই গ্যাংরা এসে লাগাতার কয়েকটি গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে।
ভাঙচুরের ওই ঘটনার দৃশ্য দেখে স্থানীয় কয়েকজন প্রত্যক্ষদর্শী ৯১১ ফোন করলে পুলিশ আবারও ঘটনাস্থলে আসে।পুলিশ আসার সাথে সাথেই আগে অবস্থা টের পেয়ে আলী গ্রুপের গ্যাং সদস্যরা স্থান ত্যাগ করে।
উপস্থিত প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, “তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে আলী নামের ওই বাংলাদেশির গ্যাং গ্রুপের সদস্যরা ছুরি, ভারী অস্ত্র নিয়ে এসে যেভাবে গাড়ি ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করল আমাদের চেয়ে চেয়ে দেখা ছাড়া আর কিছু করার ছিল না।”
তারা আরও জানান, আমরা প্রবাসীরা নিউইয়র্কে খুব আতঙ্কে আছি। নিউইয়র্কে ৯১১ কল দিলে পুলিশ আসে কিন্তু পুলিশের কিছুই করার নেই। এর জন্য সিটি মেয়র দায়ী। এভাবে চললে যেকোন সময় তুচ্ছ ঘটনার কারণে আরও বড় দুর্ঘটনা, এমনকি প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটবে।
উল্লেখ্য, গত কয়েকমাস ধরে নিউইয়র্ক নগরীতে অপরাধের কেন্দ্রস্থল পরিণত হয়েছে। হত্যা, চুরি ডাকাতি, রাহাজানি, ধর্ষণ, বন্দুকযুদ্ধসহ হেন অপরাধ নেই, যা এই নগরে ঘটছে না। নিউইয়র্ক এখন রীতিমতো আতঙ্কের নগরে পরিণত হয়েছে।হঠাৎ করে অপরাধ বেড়ে যাওয়ার পেছনে আমেরিকার রক্ষণশীল নেতারা এই পরিস্থিতির জন্য নিউইয়র্ক অঙ্গরাজ্য ও নগরের ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতৃত্বকে দায়ী করছেন।
এদিকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এ বছরের ২৬ জুলাই পর্যন্ত প্রায় ৭ মাসে নিউইয়র্ক সিটিতে দুর্বৃত্তরা ৭৪৫টি গুলি ছুড়েছে। আগের বছরের একই সময়ে সে সংখ্যা ছিল ৪৩১ অর্থাৎ বেড়েছে ৭৩ শতাংশ। খুনের ঘটনা গত বছরের এ সময়ে ছিল ১৭৬। এবার খুন হয়েছে ২২৭। দুর্বৃত্তের গুলিতে নিহতদের মধ্যে এক বছর বয়েসী এক শিশুও রয়েছে।

  •