জামালগঞ্জে ঈদ আনন্দ নেই আশ্রয়কেন্দ্রের ৪০৬টি পরিবারের

40

জামালগঞ্জ প্রতিনিধি ::
করোনা বন্যায় সবকিছু ল-ভ-। পানি নামছে না অনেকের বাড়ি থেকে। দিনে দু’বেলা খাবারের আশায় ব্যাকুল আশ্রয়কেন্দ্রের পরিবারগুলো। তাদের মাঝে ঈদের আনন্দ পৌঁছেনি। বরং দিনগুলো অন্যান্য দিনের চেয়ে কঠিন ও সংগ্রামী। ঈদের সেমাই পায়েস কুরবানীর মাংসের চেয়ে পানিতে তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি উদ্ধার কাজে ব্যস্ত সবাই। তলিয়ে যাওয়া ঘরবাড়ি পুনঃরায় তৈরি করাই এখন তাদের প্রধান কাজ। এমনি কেটেছে এবারের ঈদে জামালগঞ্জ উপজেলার ৪৬টি আশ্রয়কেন্দ্রের ৪০৬টি পরিবারের কয়েক হাজার মানুষের।

হাজারও মানুষ এখনও আশ্রয়কেন্দ্রে। এছাড়াও অনেকের নিজ বাড়িতে মাচাং করে বসবাস করছে। ঈদের আনন্দ উৎসব থেকে বঞ্চিত হয়ে সহ¯্রাধিক পরিবার অর্ধাহারে-অনাহারে পানিবন্দী অবস্থায় দিনাতিপাত করছে।

ফেনারবাঁক ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর টিডি মাদ্রাসার আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা ৪র্থ শ্রেণির ছাত্র ইমরান আহমেদ বলেন, ‘খাওয়া-দাওয়া হচ্ছে না ঠিকমতো। আমাদের এবার ঈদ নাই। অনেকেই ত্রাণ দিয়ে গেছে। কেউ তো ঈদের পোশাক দেয়নি। আমরা কিভাবে ঈদের নামাজ পড়ব।’

জামালগঞ্জ সরকারি ডিগ্রি কলেজের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা মো. আশরাফ আলী জানান, ‘বন্যায় ঘরে কোমরসম পানি হয়েছে। এখনও ঘরে পানি ও কাদা আছে। দিনে বাড়িঘর মেরামতের কাজ করি, রাতে আশ্রয়কেন্দ্রে এসে পরিবার সাথে বসবাস করি। এমন দূরাবস্থার মাঝে নামাজ আদায়ের মাধ্যমেই আমাদের ঈদ করতে হয়েছে। কুরবানীর মাংস খাওয়ার আনন্দের চেয়ে বাড়িঘরের মেরামত কাজই জরুরী। তাই ঈদের নামাজ শেষে বাড়িঘরে মেরামত কাজে যাবেন বলে জানান।’

একই কেন্দ্রে থাকা ২০২০ সালে এসএসসি উত্তীর্ণ ছাত্রী তানিয়া বেগম বলেন, ‘আমাদের তিনবেলা ঠিকমতো খাবারই জুটছে না। তাই ঈদ নিয়ে কোন চিন্তা নেই। ঘরে যা ছিল সবকিছু বন্যায় নিয়ে গেছে। অনেক কষ্টে আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। বাড়িতে থাকলে আত্মীয়-স্বজনসহ ঈদের আনন্দ উপভোগ করতাম। পানি ঘর থেকে না নামায় বাড়িতে যাওয়া হচ্ছে না।’

জামালগঞ্জ সদর ইউনিয়নের সাফিজ উদ্দিন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের আশ্রয়কেন্দ্রে থাকা আছিয়া খাতুন জানান, ‘আমরা ২০ দিন ধইরা আশ্রয়কেন্দ্রে আছি। ঘর-বাড়িতে এখনও পানি আছে। তাই বাড়িতে যাইতে পারছি না। বাড়িতে থাকনের জায়গাই নাই তো ঈদ দিয়া কি করমু। বানের পানিতে সয়-সম্বল সবকিছু হারিয়ে আশ্রয়কেন্দ্রে আশ্রয় নিয়েছি।’

এ ব্যাপারে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘পরপর তিনবারের বন্যায় অধিকাংশ বাড়িঘর পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় বন্যা কবলিতরা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে। সরকারি সাহায্য পেলেও তারা অনেক কষ্টে দিনাতিপাত করছে। বন্যায় অনেকের বাড়িঘর তলিয়ে যাওয়ায় তাদেরকে আশ্রয়কেন্দ্রে এবারের ঈদ করতে হচ্ছে। আশ্রয়কেন্দ্রে যারা আছে তারা আমাদের মেহমান। ঈদের আগের দিন প্রতি পরিবারে ৫ কেজি করে চাল দেওয়া হয়েছে। আশ্রয়কেন্দ্রের প্রতিটি পরিবারের যেকোন সমস্যায় উপজেলা প্রশাসন সার্বিক সহায়তা দিয়ে যাবে।’

  •