ভবিষ্যতে মানুষের স্বাস্থ্য সেবা পাওয়া নিয়ে রিজভীর শঙ্কা

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
স্বাস্থ্য খাতে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্য হাসপাতালে অনুমতি ছাড়া অভিযান না চালানোর নির্দেশনা দেয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে বিএনপি।

নতুন এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, এর ফলে সামনের দিনগুলো স্বাস্থ্য খাতে আরও ভয়ঙ্কর হবে। মানুষ কোনো সেবাই পাবে না। এতে প্রমাণিত হয়েছে সরকার দুর্নীতিকে সংরক্ষণ করতে চায়।

বৃহস্পতিবার কুড়িগ্রামে নিজ বাসভবন থেকে ভার্চুয়াল সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।

রিজভী বলেন, স্বাস্থ্য খাতে এক ভয়ঙ্কর দুর্নীতি বিরাজ করছে। দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস হয়ে গেছে। এর মধ্যে গতকাল স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় একটি পরিপত্র জারি করেছে, সরকারি অনুমতি ছাড়া কোনো হসপিটালে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো অভিযান পরিচালনা করতে পারবে না। এর মাধ্যমে প্রমাণিত হয়েছে সরকার দুর্নীতিকে সংরক্ষণ করতে চায়, প্রটেকশন দিতে চায়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযান পরিচালনা না করলে গ্রুপের চেয়ারম্যান সাহেদ এবং জেকেজির চেয়ারম্যান ডাক্তার সাবরিনার দুর্নীতি প্রকাশ পেতো না। দুর্নীতির সাথে যারা জড়িত তারা সরকারি দলের লোকজন। তাদের প্রটেকশন দেওয়ার জন্যই এই পরিপত্র জারি করা হয়েছে। এর ফলে সামনের দিনগুলো স্বাস্থ্য খাতে আরও ভয়ঙ্কর হবে। মানুষ কোনো সেবাই পাবে না।

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব বলেন, দুর্নীতিতে স্বাস্থ্য খাত ধ্বংস হওয়ার পরও সরকারের টনক নড়েনি। তারপরও গতকালকে মূলত দুর্নীতির পক্ষে পরিপত্র জারি করেছে। করোনা মোকাবেলায় সরকারের কোনো প্রতিকারের ব্যবস্থা ছিল না। কার্যত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেনি দেশবাসী তা দেখেছে। চিকিৎসা না পেয়ে মানুষ রাস্তায় অ্যাম্বুলেন্সে মারা গেছে। সরকার মানুষের সেবা দিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তিনি বলেন, কিছু নদীর পানি কমতে থাকলেও অনেক এলাকায় বন্যার অবনতি হয়েছে। ইতিমধ্যে বন্যায় মানুষের ঘরবাড়ি-গবাদিপশু ভেসে গেছে। ফসল নষ্ট হয়ে গেছে। এক্ষেত্রে সরকার কোনো পদক্ষেপ নেয়নি। ত্রাণ এবং বন্যা মোকাবেলায় নানা ধরনের পদক্ষেপ নেওয়ার কথা থাকলও আমি তা দেখিনি। বানভাসি মানুষ খাদ্যের অভাবে মানবতার জীবন যাপন করছে। কুড়িগ্রামে করোনা ব্যাপক প্রভাব বিস্তার করছে। মানুষ মারা যাচ্ছে। যেখানে ঢাকাতে কোনো চিকিৎসা নেই সেখানে কুড়িগ্রামে প্রত্যন্ত অঞ্চলে চিকিৎসা পাওয়া কল্পনাও করা যায় না। এখানে চিকিৎসা ব্যবস্থা না থাকায় নরকতুল্য বিরাজ করছে। করোনা মোকাবেলায় কোনো ধরনের প্রতিকারের ব্যবস্থা নেই।