তারাপুর বাগানে চা শ্রমিকদের বিক্ষোভ-কর্মবিরতি

38

স্টাফ রিপোর্টার::
সিলেট তারাপুর বাগানের হাজিপুর এলাকায় চা শ্রমিকদের দখলে থাকা এবং তাদের ব্যবহৃত জায়গা ও রাস্তা আরেকপক্ষের কাছে লিজ দেয়ার প্রতিবাদে বিক্ষোভ প্রদর্শন ও কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা। বাগান কর্তৃপক্ষ এসে সামাধান করার আগ পর্যন্ত চা শ্রমিকরা কর্মবিরতি পালন করবেন বলে জানিয়েছেন।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) সকাল থেকে সিলেট তারাপুর চা বাগানের হাজিপুর এলাকায় এই বিক্ষোভ প্রদর্শন ও কর্মবিরতি পালন করছেন চা শ্রমিকরা।
চা শ্রমিকদের অভিযোগ- তাদের পঞ্চায়েত কমিটিকে না জানিয়ে বাগানের সেবায়েত পংকজ গুপ্ত (শংকর) চা শ্রমিকদের দখলে থাকা প্রায় ১০ শতক জায়গা অন্য একটি পক্ষের কাছে লিজ দিয়ে দিয়েছেন। এর ভেতরে চা শ্রমিকদের যাতায়াতের একটি রাস্তাও রয়েছে। যারা লিজ নিয়েছেন তারা ইতোমধ্যে এই জায়গায় ঘর তুলতে শুরু করেছেন। বিষয়টি জানতে পেরে আজ শনিবার সকালে চা শ্রমিকরা ওই জায়গায় বাঁশের বেড়া দিয়ে আসেন।
পরে লিজ নেয়া পক্ষের লোকজন এসে সেই বেড়া তুলে ফেলে দেন। খবর পেয়ে সে জায়গায় ছুটে আসেন চা শ্রমিকরা এবং বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন। এছাড়াও বিষয়টি সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত কর্মবিরতি পালন করবেন বলে ঘোষণা দিয়েছেন চা শ্রমিকরা।
এ বিষয়ে বাগানের চা শ্রমিকদের পঞ্চায়েক কমিটির সভাপতি চৈতন্য মোদী জানান, আমাদের না জানিয়ে এ জায়গা অন্যকে লিজ দিতে পারেন না সেবায়েত। এটি অন্যায়। আমরা উনার সঙ্গে বার বার যোগাযোগ করার চেষ্টা করলেও তিনি আমাদের সঙ্গে এ বিষয়ে তিনি কথা বলেননি, দেখাও করেননি। তাই আমরা বিক্ষোভ করছি এবং কর্মবিরতি পালন করছি। বিষয়টি সমাধান হওয়ার আগ পর্যন্ত কাজে যাবো না।
এ প্রসঙ্গে কথা বলতে বাগানের সেবায়েত পংকজ গুপ্তের ফোনে একাধিকবার কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।
তবে ম্যানেজার বিজয় কান্তি দে এ বিষয়ে বললেন ভিন্ন কথা। তিনি জানান, জায়গাটি স্থানীয় রুবেল ও কামালের নেতৃত্বে প্রভাবশালী ও সন্ত্রাসী একটি পক্ষ জোরপূর্বক দখল করে নিয়েছে এবং সেখানে ঘরও তুলে দিয়েছে। এ বিষয়ে বাগান কর্তৃপক্ষ এসএমপি’র এয়ারপোর্ট থানায় মামলা করেছেন।

চৌহাট্টায় বোমাসদৃশ্য বস্তু : এখনও চলছে তদন্ত
স্টাফ রিপোর্টার::
সিলেটের চৌহাট্টায় বোমাসদৃশ্য বস্তুটি ঘিরে অভিযান শেষে একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন উদ্ধারের ৪৮ ঘণ্টা পার হয়ে গেলেও এখনও জানা যায়নি এর প্রকৃত রহস্য। কে, কীভাবে, কেন রেখেছিল এটি- জনমনে এমন প্রশ্ন ঘুরপাক খেলেও এখনও মেলেনি উত্তর। প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, ‘তদন্ত চলছে। তদন্ত শেষে সব জানানো হবে।’
গত বুধবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় হঠাৎ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ঘিরে ফেলে নগরীর চৌহাট্টা মোড়। ফিতা টেনে বন্ধ করে দেওয়া হয় সড়কে গাড়ি ও জনসাধারণের চলাচল। শুরু হয় একটি মোটরসাইকেল ঘিরে গুঞ্জন। ‘মোটরসাইকেলে বাঁধা বোমাসদৃশ্য বস্তু’- এমন সংবাদে আতঙ্ক ছড়ায় শহরজুড়ে। কিছুসময় পর প্রশাসনের পক্ষ থেকে গণমাধ্যমকে জানানো হয় মোটরসাইকেলটি সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ট্রাফিক সার্জন চয়ন নাইডুর। এখানে গাড়িটি রেখে তিনি অন্যত্র গেলে ফিরে এসে দেখেন গাড়িতে একটি বোমাসদৃশ্য বস্তু। সঙ্গে সঙ্গে জানান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে। সেই থেকে অভিযান শুরু, যে অভিযানের সমাপ্তি ঘটে সেনাবাহিনীর হাত ধরে। বৃহস্পতিবার (৬ আগস্ট) বিকেল প্রায় ৪টার দিকে সেনাবাহিনীর বোম ডিসপোজাল ইউনিট এসে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করে একটি গ্রাইন্ডিং মেশিন উদ্ধার করে। এর মাঝখানে চলে যায় প্রায় ২২ ঘণ্টা।
উদ্ধারের পর পর প্রেসব্রিফিংয়ে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের ডিসি (উত্তর) আজবাহার আলী শেখ সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল ও আশেপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে পর্যালোচনা করছি। হতে পারে এটি আতঙ্ক ছড়ানোর জন্য কেউ রাখতে পারে। তবে আমরা আরও তদন্ত করছি।’
পুলিশের এ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তার বক্তব্যের মধ্য দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে আসল রহস্য বের হবে এমন প্রত্যাশা করেছিলেন সাধারণ জনগণ। কিন্তু অভিযান শেষে ৪৮ ঘণ্টা পার হলেও ঘটনাটি সম্পর্কে এখনও স্পষ্ট করে কিছু বলতে পারছে না প্রশাসন।
আজ শনিবার (৮ আগস্ট) এ ব্যাপারে জানতে চাইলে সিলেট মেট্রোপলিটন পুলিশের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (ট্রাফিক ও অতিরিক্ত দায়িত্ব গণমাধ্যম) জ্যোতির্ময় সরকার জানান, ‘আমাদের তদন্ত চলছে। আশপাশের সকল সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করা হয়েছে। তদন্তের স্বার্থে আপাতত কিছু বলা যাচ্ছে না। তদন্ত শেষ হলে বিস্তারিত জানানো হবে।’