বৈরুতে সরকারবিরোধী বিক্ষোভে সংঘর্ষ, পুলিশ নিহত

5

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনায় ব্যাপক হতাহতের পর সরকারবিরোধী বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশ ও বিক্ষোভকারীদের মধ্যে সংঘর্ষে একজন পুলিশ কর্মকর্তা নিহত হয়েছেন। আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

এক প্রতিবেদনে এপি জানায়, শনিবার (৮ আগস্ট) রাতে বিক্ষোভকারীরা সরকারি বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে হামলা চালালে নিরাপত্তা বাহিনীর সাথে তাদের কয়েক ঘণ্টা সংঘর্ষ হয়। পরে তাদের দমনে কাঁদানে গ্যাস এবং রাবার বুলেট ছোড়ে পুলিশ।

বৈরুতে বিস্ফোরণে আহত বাংলাদেশিদের দূতাবাসে যোগাযোগের আহ্বান
মঙ্গলবার বৈরুত বন্দরে বিস্ফোরণে অন্তত ১৬০ জনের মৃত্যু হয়। আহত হন প্রায় ছয় হাজার মানুষ। এছাড়া এখনও নিখোঁজ রয়েছেন অনেকে।

এ বিস্ফোরণের পর ইতোমধ্যেই চরম অর্থনৈতিক সংকটে থাকা দেশটিতে সাধারণ মানুষের ক্ষোভও নতুন মাত্রা পেয়েছে।

বৈরুতের গভর্নর অফিসের তথ্য অনুসারে, ছয় বছরেরও বেশি সময় ধরে বৈরুত বন্দরে অরক্ষিতভাবে সংরক্ষণ করা কয়েক হাজার টন অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটে আগুন লেগে এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে। লেবাননের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিস্ফোরণের ঘটনা এটি। এর ফলে দেশটির আর্থিক ক্ষতি হয়েছে আনুমানিক ১০ থেকে ১৫ বিলিয়ন ডলার।

এছাড়া, বিস্ফোরণে ছয় হাজারেরও বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে, যার ফলে গৃহহীন হয়ে পড়েছে কয়েক লাখ মানুষ।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার লেবাননের স্থানীয় সময় সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে ঘটা বিস্ফোরণের তীব্রতায় গোটা শহরই কেঁপে ওঠেছিল। ২৪০ কিলোমিটার দূর থেকেও টের পাওয়া য়েছিল বিস্ফোরণের তীব্রতা। শক ওয়েবে ভেঙে পড়েছিল ৫ কিলোমিটারের মধ্যকার দালানগুলোর জানালার কাচ। ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বৈরুতের ৪০ শতাংশ ঘরবাড়ি।

বিস্ফোরণে বৈরুত শহরজুড়ে আতঙ্ক তৈরি হয়। শহরের বাসিন্দারা বলেছেন, বিস্ফোরণে তাদের শহরটি ভূমিকম্পের মতো কেপে ওঠে।

ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, বৈরুতের বন্দর এলাকা থেকে বড়ু গম্বুজ আকারে ধোঁয়া উড়ছে, এর কিছুক্ষণের মধ্যে বিকট বিস্ফোরণে গাড়ি, ভবন উড়ে যেতে দেখা যায়।

ভিডিওতে মানুষের চিৎকার ও ছুটোছুটি করতে দেখা যায়। বাড়িঘরের জানালার কাচ ও বেলকনি ভেঙেও অনেকে আহত হন।