করোনার প্রভাব জামালগঞ্জে বিপাকে প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা

38

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ ::
জামালগঞ্জে প্রতিমা তৈরির শিল্পীরা ভালো নেই। করোনা ভাইরাস মহামারী তাদের ব্যস্ততা থামিয়ে দিয়েছে। আয়-রোজগার বন্ধ হওয়ায় ভবিষ্যৎ ও পরিবার-পরিজন নিয়ে বিপাকে আছেন প্রতিমা শিল্পীরা। হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের বিভিন্ন পুজোর আয়োজন হয় বাংলা পঞ্জিকা অনুসারে। তাই মৃৎ শিল্পীরা তাদের কাজের হিসাব করে থাকেন বাংলা বছর অনুযায়ী। বৈশাখ মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে মূলত প্রতিমা তৈরির কাজ শুরু করেন শিল্পীরা। অন্যান্য বছর এই সময়ে ব্যস্ত থাকলেও এ বৎসর অনেক শিল্পীরা অলস সময় পার করছেন।

জামালগঞ্জ উপজেলায় বংশানুক্রমে পাল সম্প্রদায়ের যারা প্রতিমা তৈরি করেন তাদের আদি নিবাস বেহেলী ইউনিয়নের বদরপুর ও বেহেলী গ্রামে। সেখান থেকে অনেকে অনেক জায়গায় এলাকাভিত্তিক বসবাস করছেন। এপ্রিলে বাংলাদেশে করোনা ভাইরাসের বিস্তার শুরু হওয়ার পর অনেকটা কমে গেছে মনসা পূজার আয়োজন। মাসখানেক পর দুর্গা পূজার আয়োজন নিয়েও দ্বিধাদ্বন্দ্বে আছেন অনেকে। প্রতিমা শিল্পীদের আয়ের সিংহভাগই আসে মনসা ও দুর্গা পূজাকে কেন্দ্র করে।

জামালগঞ্জ উত্তর ইউনিয়নের সাচনা গ্রামের প্রতিমা শিল্পী মধু পাল, দিপংকর পার, রাবণ পাল জানান, আমরা শত বছরের পূর্বপুরুষদের ঐতিহ্যবাহী পেশা খুবই কষ্টে ধরে রেখেছি। আমাদের পূর্বপুরুষদের এ পেশায় ছিল বলে আমরা এ পেশায় আছি। কোনো জমিজমা না থাকায় এ পেশায় কোনো সময় লাভ, কোন সময় লোকসান হলেও এ পেশাই করে যেতে হচ্ছে।
তারা আরও জানান, আমরা মনসা, দুর্গা, কালী, লক্ষ্মী, সরস্বতী, বিশ্বকর্মাসহ বিভিন্ন প্রতিমা তৈরি করে থাকি। করোনার আগে গত বছর এই সময়ে প্রায় ২০০ মনসা মূর্তি তৈরি করতাম। এবার শুধু ৮০টি প্রতিমা তৈরি করেছি। তাও বিক্রি করা যাবে কি না সন্দেহ আছে। প্রতি বছর তিন ধাপে মনসা, দুর্গা, সরস্বতীসহ অন্যান্য প্রতিমা তৈরি করি।

ধনঞ্জয় পাল বলেন, ‘দুর্গা পূজার আয়োজন আরম্ভ হবে কি হবে না সে ব্যাপারে সরকার এবং পূজা কমিটির নির্দেশনা দরকার। দুর্গা প্রতিমার কাজ দীর্ঘমেয়াদী হয়ে থাকে। অনেকেই এক থেকে দুই মাস ধরে প্রতিমা তৈরির কাজ করে থাকেন। তবে এবার আমরা উভয় সঙ্কটে আছি। কাজ শুরু করব কি না। যদি এক মাস আগে বলা হয় পূজা হবে তাহলে আমরা প্রতিমার কাজ নিয়ে আয়োজকদের বুঝিয়ে হিমশিম খেমে হবে।’

বাবার পেশাগত দায়িত্বে থাকা দক্ষিণ সুরমা সরকারি কলেজের সমাজ বিজ্ঞান বিভাগের অনার্স শেষ বর্ষের ছাত্র দিপংকর পাল জানান, অন্যান্য সময়ে বছরজূড়েই প্রতিমা তৈরির কাজ থাকে। তবে এবার ব্যাতিক্রম। বাসন্তী পূজা হলো না, তারপর চার মাস কাজ নেই। সংসার চালানোর জন্য ধারদেনা করে চলতে হচ্ছে। দুর্গা পূজার বিনিয়োগ করে পূজা না হলে আমাদের কি হবে। সরকার অনেকের জন্য প্রণোদনার ব্যবস্থা করলেও আমরা স্বীকৃতিপ্রাপ্ত না থাকায় প্রণোদনা থেকে বঞ্চিত হচ্ছি। কত অনেকেই অনেক সাহায্য পেয়েছে। কিন্তু আমাদের সাহায্যে কেউ এগিয়ে আসেনি।