গোলাপগঞ্জে চোরাই মোটর সাইকেল আটক, দুইজনের মালিকানা দাবি

198
ফাইল ছবি

সৈয়দ জেলওয়ার হোসেন স্বপন, গোলাপগঞ্জ
গোলাপগঞ্জ উপজেলা সদর থেকে একটি ডিসকোভারী মোটরসাইকেল সিলেট হ- ১৩-৩১৩৩ আটক করা হয়েছে। তাৎক্ষনিক ওই মোটরসাইকেলের মালিকানা দাবি করেন দুই ব্যক্তি। একজনের বাড়ি উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির বানিগ্রামে অপর দাবিদার হলেন ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারি একই উপজেলার কুড়িরবাজার এলাকার মাছুম আহমদ।

এনিয়ে উপজেলা সদর ছাত্রলীগ কর্মীরা জড়ো হয়ে মোটর সাইকেলটি জোরপুর্বক নিয়ে যেথে চাইলে পুলিশের উপস্থিতিতে মোটর সাইকেল ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার করে গোলাপগঞ্জ মডেল থানায় জব্দ করেন এবং মোটর সাইকেল সিজার লিস্ট করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেন। এ নিয়ে উপজেলা জুড়ে নানা রহস্য দেখা দিয়েছে। অবিজ্ঞ মহলের দাবি প্রকৃত মোটর সাইকেলের মালিক কে? ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারিরা কেন রয়েছেন ধরা ছুয়ার বাহিরে। আটক মোটর সাইকেল নিয়ে সচেতন মহলের মধ্যে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

শুক্রবার বিকেলে উপজেলা সদরের ট্রাস্ট ব্যাংকের নীচে চামেলী কসমেটিকস দোকানের সামনে একটি ডিসকোভারী মোটরসাইকেল সিলেট হ- ১৩-৩১৩৩ দাড় করা অবস্থায় দেখতে পান উপজেলার বুধবারীবাজার ইউপির বানিগ্রাম এলাকার মৃত আব্দুস শহীদের ছেলে মোঃ শাহজাহান আহমদ।

উক্ত মোটর সাইকেলের নাম্বার প্লেটে তার চুরি হওয়া মোটর সাইকেলের নাম্বার প্লেট সংযুক্ত থাকায় তার চুরি হওয়া মোটর সাইকেল মনে করে তিনি মোটর সাইকেলের পাশ থেকে অদুরে অপেক্ষা করছিলেন ওই মোটর সাইকেলটি কে ব্যবহার করছেন তা জানার জন্য। সন্ধার কিছুক্ষণ আগে ২৫/২৬ বছরের এক ব্যক্তি মোটর সাইকেল চালিয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নিলে শাহজাহান আহমদ এগিয়ে এসে বলেন এই মোটর সাইকেলটি আমার নিজের সেটি চুরি হয়েছে প্রায় দুই সপ্তাহ আগে। গোলাপগঞ্জ থানায় এনিয়ে একটি সাধারণ ডায়েরীও করেছি।

এনিয়ে উপজেলা সদরে মোটর সাইকেল আরোহির ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারির সাথে বাকবিতন্ডা হয়। মুহর্তের মধ্যে ছাত্রলীগ পরিচয় দানকারি বেশ কয়েকজন দুর্বৃত্তরা জড়ো হয়ে মোটর সাইকেলটি তাদের দাবি করেন। এ নিয়ে উত্তেজনা দেখা দেয়। সংবাদ পেয়ে এসআই জাহাঙ্গীর আলম ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে মোটর সাইকেলটি উদ্ধার করতে চাইলে ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারিরা মোটর সাইকেলটি থানায় নিয়ে যেথে বাধা প্রদান করেন। পরে ওই পুলিশ অফিসার কৌশল অবলম্বন করে মোটর সাইকেল উদ্ধার করে থানায় নিয়ে যান।

সেখানে শাহজাহান আহমদের জিডি কপি ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র পুলিশ অফিসারের কাছে প্রদর্শন করেন। এ সময় শাহজাহান আহমদের প্রয়োজনীয় কাগজপত্রের সাথে শুধুমাত্র মোটর সাইকেলের নাম্বারটি মিল থাকলেও ইঞ্জিন ও চেসিস নাম্বারের মিল পাওয়া যায়নি। এদিকে অপর পক্ষ উপজেলার ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারিরা মোটর সাইকেলের কোন ডকুমেন্ট ও প্রয়োজনীয় কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। পরে পুলিশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম মোটর সাইকেলটি জব্দ করে সিজার লিস্ট করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করেছেন বলে জানা যায়।

এদিকে পুলিশ অফিসার জাহাঙ্গীর আলম জানান, উপজেলা ভাদেশ্বর কুড়িরবাজার এলাকার বাসিন্দা ছাত্রলীগ পরিচয় দানকারি মাছুম আহমদ তিনি ওই মোটর সাইকেলের মালিকানা দাবি করেছেন তবে কোন বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেননি। অপর মালিকানা দাবিদার মোঃ শাহজাহান আহমদ তার বৈধ কাগজপত্র ও তার চুরি হওয়া মোটর সাইকেল জিডি কপি প্রদর্শন করলে ওই ডকুমেন্টে শুধুমাত্র মোটর সাইকেলের নাম্বারটির মিল রয়েছে তবে ইঞ্জিন ও চেসিস নাম্বারের সাথে মিল না থাকায় প্রাথমিক ভাবে উভয়ই মোটর সাইকেলের মালিক নয় বলে প্রতিয়মান হয়েছে।

উক্ত বিষয়ে মোটর সাইকেল সিজার লিস্ট করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এদিকে রহস্যজনক কারণে পুলিশ বলছে মালিক বিহীন মোটর সাইকেল উদ্ধার করা হয়েছে। সচেতন মহলের দাবি তাহলে পূর্বের দাবিকৃত ছাত্রলীগপরিচয়দানকারিরা কারা ছিল। থানার সিসি ক্যামেরার ফুটেজ তদন্ত করে মূল রহস্য উদঘাটন করার জন্য আইন শৃঙ্খলা বাহিনীর দৃষ্টি কামনা করা হচ্ছে।
এ ব্যপারে গোলাপগঞ্জ মডেল থানার অফিসার ইনচার্জ (প্রশাসন) হারুনুর রশীদ চৌধুরীর সাথে যোগাযোগ করলে তিনি এ প্রতিবেদককে জানান, উপজেলা সদর থেকে মালিক বিহীন একটি ডিসকোভারী সিলেট হ ১৩-৩১৩৩ মোটর সাইকেল উদ্ধার করে থানায় জব্দ করা হয়েছে এবং সেটি সিজার লিস্ট করে বিজ্ঞ আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে।

এদিকে ছাত্রলীগ পরিচয়দানকারীরা মোটর সাইকেল দাবি করেন ওরা কারা? এ বিষয়ে তিনি কোন সন্তুষ্ট জনক জবাব না দিয়ে এড়িয়ে গিয়ে এ প্রতিবেদককে জানান, বিজ্ঞ আদালতে মোটর সাইকেলের সিজার লিস্ট করে প্রেরণ করা হয়েছে আদালতের নির্দেশে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

  •