সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে হরিন শিকার, বন বিভাগের ভুমিকা প্রশ্ন বিদ্ধ

13

চুনারুঘাট প্রতিনিধি ::
হবিগঞ্জের চুনারুঘাট উপজেলার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে একটি হরিণ শিকার করে মাংস ভাগাভাগি করেছে একদল শিকারী। এ খবর পেয়ে সেই শিকারীর বাড়ি থেকে হরিণের মাথা ও মাংস উদ্ধার করেছে বন বিভাগ। তবে কাউকে গ্রেফতার করেনি বন বিভাগ।

বন বিভাগের লোকজন বিফল নামের এক শিকারীর কাছ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে বিষয়টি ধামাচাপা দেয়। এর আগেও কয়েকবার সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান থেকে হরিণ শিকার করে নিয়ে যায় চক্রটি। এঘটনায় বন বিভাগে তোলপাড় চলছে।

বন বিভাগ ও স্থানীয় সুত্র জানায়, বৃহস্পতিবার দুপুরে সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের রামগঙ্গা চা বাগানের পাতিঘরের উত্তর দিকের বন থেকে রামগঙ্গা চা বাগানের কাটুরিয়া বিফল বাড়াইক একটি মায়া হরিণ শিকার করে। রাতেই হরিনের মাংস ভাগাভাগির সময় খবর পেয়ে সাতছড়ি রেঞ্জের বিট কর্মকর্তা সামসুদ্দিন রুমির নেতৃত্বে একদল বনকর্মী ঘটনাস্থলে যায়।

এসময় বিফলের বাড়ি থেকে হরিণের মাথা ও প্রায় ৭ কেজি হরিণের মাংস উদ্ধার করেন। তবে এসময় কাউকে গ্রেফতার করা হয়নি বলে জানায় বন বিভাগ। এ নিয়ে তারা কোন মামলাও দায়ের করেনি।

গত শনিবার বিকেলে বিফল বাড়াইক ও তার ছেলে গনেশ বাড়াইক জানায়, হরিণটি আধামরা অবস্থায় আমরা পাই। তাই জবাই করে বাড়ি নিয়ে আসি। রাতে বনবিভাগের লোকজন এসে মাংস নিয়ে যায় এবং আমাকে মামলায় জড়িত করবে না মর্মে ৩০ হাজার টাকা দাবী করে। পরে বিফল একটি গরু ২০ হাজার টাকায় বিক্রি করে সেই টাকা বিট কর্মকর্তাকে দিয়ে মামলা থেকে রেহাই পান।

বনবিভাগের তেলমাছড়া বিট কর্মকর্তা মাহমুদ হোসেন জানান, হরিণের মাথা ও মাংস উদ্ধারের পর বিভাগীয় বনকর্মকর্তার নির্দেশে তা পুড়িয়ে নষ্ট করা হয়।
এবিষয়ে চুনারুঘাট উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও সহ-ব্যবস্থাপনা কাউন্সিলের সভাপতি সত্যজিত রায় দাশ জানান, তিনি এ বিষয়ে কোন কিছু জানেন না। তবে তিনি এ বিষয়ে খোজ নিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহনের কথা জানান।

  •