সিলেটে আটক হওয়া জঙ্গিরা কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টারের নামে বাসাভাড়া নেয়

96
ছবি-এম.আজমল আলী

সেলিম হাসান কাওছার

সিলেট নগরের টিলাগড়ের শাপলাবাগে নবনির্মিত শাহ ভিলার একটি ইউনিট ‘কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার’ খোলার কথা বলে ভাড়া নেয় নব্য জেএমবির সদস্যরা। তবে তারা এই বাসায় থাকত না। মঙ্গলবার রাতে দুই জঙ্গিকে সঙ্গে নিয়ে ওই বাসায় র‌্যাব ও পুলিশ অভিযান চালায়। তবে ওই বাসা কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।

সিলেটে গত দুইদিনের অভিযানে গ্রেফতার হওয়া ৫ জঙ্গির মধ্যে নব্য জেএমবির সিলেট অঞ্চলের কমান্ডার শাবিপ্রবির ছাত্র নাইমুজ্জামান নাইম ও মদনমোহন সরকারি কলেজের ছাত্র সায়েমকে নিয়ে ১১ আগস্ট রাত সাড়ে নয়টায় নগরের টিলাগড়ের শাপলাবাগ আবাসিক এলাকার ৩ নম্বর সড়কে ডি ব্লকের ৪০/এ ‘শাহ ভিলা’ নামের বাসায় অভিযান চালায় র‌্যাবের ও পুলিশ সদস্যরা। অভিযানে ওই বাসায় জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।

‘শাহ ভিলা’র মালিক শাহ মো. শামদ আলী সাংবাদিকদের জানান, প্রায় দুই মাস আগে জঙ্গি নাইমুজ্জামান ও সায়েম তার কাছে এসে নবনির্মিত বহুতল বাসার একটি ইউনিট ভাড়া নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলে। ওই সময় তারা এক মাসের ভাড়া অগ্রিম দেয়। নাইম ও সায়েম বলেন, ‘আমরা এখানে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার করতে চাই। চুক্তিপত্র তৈরি করে কয়েকদিন পরে আসব। এরপর আমরা বাসায় উঠব’। কিন্তু মাসখানেক তারা আর কোনো যোগাযোগ করেননি। হঠাৎ গত ২ জুলাই তারা এসে আরও একমাসের ভাড়া দিয়ে চলে যায়’।

তিনি জানান, ‘শাহ ভিলা’ নতুন বাসা। প্রায় সব ফ্ল্যাটই খালি। প্রথম আলোচনায় তারা বলে ৪-৫ জন এমসি কলেজের শিক্ষার্থী মিলে একটি কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সেন্টার খুলবে। এ কথা বলেই চারতলার একটি ইউনিট ভাড়া নেয় জঙ্গি নাইমুজ্জামান নাইম ও সায়েম। কিন্তু তারা এ বাসায় কোনো কিছু আনেনি।

এ বিষয়ে এসএমপির শাহপরান সেকেন্ড অফিসার উপ-পরিদর্শক (এসআই) সোহেল রানা জানান, ঢাকা মহানগর পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিটের সাথে র‌্যাব ও আমাদের থানাপুলিশ টিলাগড় এলাকায় অভিযানে ছিল। তবে ওই বাসায় কোনো কিছু পাওয়া যায়নি।

এর আগে রাত সাড়ে আটটায় জঙ্গি সানাউল ইসলাম সাদের নগরের জালালাবাদ আবাসিক এলাকায় ৪০/১০ নম্বর বাসায় পুলিশের কাউন্টার টেররিজম ইউনিট ও এসএমপি পুলিশের সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বোমা এবং বোমা তৈরির সরঞ্জাম ও জঙ্গি তৎপরতায় ব্যবহৃত কম্পিউটার উদ্ধার করে।
সাদ মুক্তিযোদ্ধা মইনুল আহমদের ছেলে। সে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র বলে জানা গেছে।

সর্বশেষ এই দুই স্থানে অভিযান শেষে গ্রেফতার পাঁচ জঙ্গিকে নিয়ে মঙ্গলবার রাতেই ঢাকার উদ্দেশ্যে রওয়ানা দিয়েছে পুলিশ। এর আগে গত ৯ আগস্ট থেকে সিলেট নগরী এবং আশপাশের কয়েকটি এলাকায় জঙ্গি ধরতে অভিযান চালায় পুলিশ। এ সময় নিষিদ্ধ ঘোষিত জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশ বা নব্য জেএমবির পাঁচ সদস্যকে গ্রেফতার করে পুলিশের কাউন্টার টেরোরিজম ইউনিট (সিটিটিসি)।

ওইদিন সিলেট নগরের মিরাবাজার উদ্দীপন-৫১ নম্বর বাসা থেকে নাইমুজ্জামান নাইমকে গ্রেফতার করা হয়। তিনি নব্য জেএমবির ‘সিলেট আঞ্চলিক কমান্ডার’ বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে। নাইমের কাছ থেকে তথ্য পেয়ে সোমবার রাতে ও মঙ্গলবার ভোরে পৃথক দুটি অভিযানে গ্রেফতার করা হয় আরও চারজনকে। এর মধ্যে জালালাবাদ আবাসিক এলাকা থেকে সানাউল ইসলাম সাদকে গ্রেফতার করে সিটিটিসি।

এছাড়া টুকেরবাজার এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয় তিনজনকে। নাইম ও সাদ শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। গ্রেফতার বাকি তিনজনের মধ্যে দু’জন কলেজ শিক্ষার্থী। এই পাঁচ ‘জঙ্গি’ সিলেটে হজরত শাহজালাল (রহ.) মাজারে হামলার পরিকল্পনা করছিল বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।