প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পর মনু নদীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে- কুলাউড়ায় পানি সম্পদ সচিব

16

মোঃ নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া ::
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার বলেছেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের সকল নদ-নদী রক্ষায় ডেল্টা প্লান ঘোষণা করেছেন। এই ডেল্টা প্লানে হাওর অধ্যুষিত ৬টি জেলাকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। ডেল্টা প্লানে দেশকে ৬ টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। ভৌগলিক এবং পানি সম্পদ ব্যবস্থাপনার খাতিরে চিন্তা করে এই ডেল্টা প্লান করা হয়েছে। তাতে এই হাওর অঞ্চলকে আলাদাভাবে ভাগ করা হয়েছে। সেখানে বেশ বড় বড় কয়েকটি প্রকল্প পাশ হয়েছে। আরো কয়েকটি প্রকল্প অনুমোদনের অপেক্ষায় আছে।

(১২ আগষ্ট) বুধবার দুপুরে বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড (বাপাউবো) মৌলভীবাজার জেলা কার্যালয়ের আয়োজনে কুলাউড়ার ফানাই ব্রীজ সংলগ্ন এলাকায় জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এর জন্মশতবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত বৃক্ষরোপন কর্মসূচী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব কবির বিন আনোয়ার এই কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন, সারাদেশের নদ-নদী ও খালের পাশে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় দশ লক্ষ চারা গাছ রোপন করার উদ্যোগ নিয়েছে পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়। এরই ধারাবাহিকতায় মৌলভীবাজারের কুলাউড়ার ফানাই নদীর পাড়ে বৃক্ষরোপন করা হয়েছে। তিনি আরো বলেন, মৌলভীবাজার বাসীর দুঃখ হিসেবে অভিহিত মনু নদীর দুঃখ অচিরেই ঘুচবে।

মৌলভীবাজার সদর উপজেলা, কুলাউড়া ও রাজনগর উপজেলায় মনু নদী রক্ষায় ৯৯৬ কোটি টাকার প্রকল্প একনেকে পাশ হয়েছে। আগামী শুষ্ক মৌসুমে মনু নদীর রক্ষায় প্রকল্পের কাজ শুরু হবে। এই প্রকল্প বাস্তবায়ন হওয়ার পর আশা করছি মনু নদীকে নিয়ন্ত্রণ করা যাবে। সকল সমস্যা কমে যাবে, যখন-তখন বন্যা কমে যাবে। মনু নদীর নাব্যতা বৃদ্ধিতে খনন কাজ চলমান রয়েছে। প্রতিটি জেলা ও উপজেলায় ছোট-বড় খালবিল খনন করা হবে। নদী ও খালের পাড়ে গাছ লাগানোর মধ্যে দিয়ে তীরের মাটি রক্ষার জন্য ন্যাচার বেইজ পদ্ধতিতে প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষায় গাছ লাগানো হবে। সবকিছু মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী ঘোষিত ডেল্টা প্লান বাস্তবায়ন হলে দেশে ৬০% নদী ভাঙ্গন রোধ সম্ভব হবে।

করোনাকালীন সময়েও এপ্রিল মাস থেকে দেশের প্রতিটি জেলা-উপজেলায় বন্যা নিয়ন্ত্রণে বাঁধ মেরামত করা হয়েছে। নদী ও খালের তীরে গাছ লাগানোর পর স্থানীয় জনগণকে এ কাজে সম্পৃক্ত করা হচ্ছে এবং জনগণ একদিন এ থেকে সুফল ভোগ করবে। জনপ্রতিনিধি ও স্থানীয় প্রশাসনসহ সবার সম্মিলিত সহযোগিতায় নদ-নদীর ভারসাম্য রক্ষা সম্ভব হবে বলে মনে করছি।

বৃক্ষরোপন কর্মসূচীতে অন্যান্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী এস এম শহীদুল ইসলাম, উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান একেএম সফি আহমদ সলমান, পানি উন্নয়ন বোর্ডের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী (মৌলভীবাজার সার্কেল) প্রকাশ কৃষ্ণ সরকার, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা এটিএম ফরহাদ চৌধুরী, মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী, উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) নাজরাতুন নাঈম, পৌর মেয়র শফি আলম ইউনুছ, পাউবো’র উপ-বিভাগীয় প্রকৌশলী খালিদ বিন অলীদ, মো. খোরশেদ আলম, মো. মোখলেছুর রহমান, উপ-সহকারী প্রকৌশলী সরওয়ার আলম চৌধুরী, মো. আব্দুল বাতেন, ব্রাহ্মণবাজার ইউপি চেয়ারম্যান মো. মমদুদ হোসেনসহ স্থানীয় এলাকার জনপ্রতিনিধি, গণমান্য ব্যক্তিবর্গ ও গণমাধ্যকর্মীরা।

মৌলভীবাজার পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী রণেন্দ্র শংকর চক্রবর্তী বলেন, কুলাউড়ার ভূকশিমইল থেকে কর্মধা ইউনিয়নের মহিষমাড়া পর্যন্ত ১৭ কোটি টাকা ব্যয়ে ৩৯.৫০ কিমি ফানাই নদীর খনন কাজের মধ্যে এখন পর্যন্ত ৩৩ কিলোমিটার খনন কাজ সম্পন্ন হয়েছে। খনন কাজের পর নদীর পাড়ের ভারসাম্য রক্ষায় প্রায় ১২ লক্ষ টাকা ব্যয়ে ১২৩৬০ টি ফলজ, বনজসহ বিভিন্ন প্রজাতির গাছের চারা রোপন করা হবে। যারফলে নদীর প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা হবে।