আগস্টে সকল হামলার মাস্টারমাইন্ড বিএনপি: কাদের

9

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
বিএনপি আগস্টের সব হামলার মাস্টারমাইন্ড বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের। তিনি বলেছেন, ১৫ আগস্ট, ১৭ আগস্ট বা ২১ আগস্টের ঘটনা সবই একই সূত্রে গাঁথা। এসব হত্যাকাণ্ডের ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি।

সোমবার সারাদেশে সিরিজ বোমা হামলা দিবস উপলক্ষে বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে দলীয় কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে ঢাকা মহানগর উত্তর ও দক্ষিণ আওয়ামী লীগ আয়োজিত আলোচনা সভায় এ মন্তব্য করেন তিনি। সভায় ওবায়দুল কাদের সংসদ ভবনের সরকারি বাসভবন থেকে ভার্চুয়ালি সংযুক্ত হন।

ওবায়দুল কাদের বলেন, উগ্র ও সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠী এখনো দেশে হামলার জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। তবে যতক্ষণ বঙ্গবন্ধু কন্যা আছেন, ততক্ষণ দেশ সমৃদ্ধির ধারায় অদম্য গতিতে এগিয়ে যাবে।

দেশে সিরিজ বোমা হামলার জন্য বিএনপি সরকারকে দায়ী করে ওবায়দুল কাদের বলেন, ৬৩টি জেলায় একযোগে বোমা হামলার জন্য দীর্ঘ প্রস্তুতি, নেটওয়ার্ক গড়ে তোলা, জনবল ও বোমা সরবরাহ এতসব একদিনে গড়ে ওঠেনি। তবে রাষ্ট্রযন্ত্র সেদিন নীরব ছিল কেন? নিশ্চয়ই সরকার প্রশ্রয়দাতা আর পৃষ্ঠপোষক ছিল। না হলে কিভাবে এ দীর্ঘ প্রস্তুতি জঙ্গিরা গ্রহণ করল এ দেশের রাজনীতিতে তেমনি ১৫ আগস্টের মাধ্যমে নির্মম হত্যাকাণ্ডের সূচনা হয়েছিল তার ধারাবাহিকতায় ২০০৪ সালের ২১ আগস্ট বঙ্গবন্ধু এভিনিউতে গ্রেনেড হামলা চালানো হয়েছিল আবার ২০০৫ সালে সিরিজ বোমা হামলাও সেই আগস্ট মাসে। তাই বলব ১৫ আগস্ট ১৭, আগস্ট ২১ আগস্ট সবই একসূত্রে গাঁথা। এসকল হত্যা ও ষড়যন্ত্রের মাস্টারমাইন্ড বিএনপি, এ সকল হত্যা, সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের অংশ।

বিএনপিকে জঙ্গিবাদের আশ্রয়দাতা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এদেশে হত্যা সন্ত্রাস ও ষড়যন্ত্রের পাশাপাশি অগ্র সাম্প্রদায়িকতা আর জঙ্গিবাদকে তারাই প্রশ্রয় দিয়েছে। লালন-পালন করে ক্যান্সারে রূপান্তর করেছে। সেদিনের বোমা হামলা ছিল জেএমবিসহ উগ্র সাম্প্রদায়িক গোষ্ঠীর শক্তি প্রদর্শন এটি ছিল প্রকাশ্যে শক্তি প্রদর্শনের মহড়া। একযোগে তারা তাদের শক্তি জানান দিয়েছিল। ক্ষমতার মসনদে থেকে তাহলে কি করেছিল বিএনপি?

আগস্ট মাস এলেই দলীয় সভাপতি শেখ হাসিনার নিরাপত্তা নিয়ে আওয়ামী লীগ শঙ্কায় থাকে উল্লেখ করে কাদের বলেন, ষড়যন্ত্রকারীরা এখনো সক্রিয় রয়েছে। তারা সুযোগ খুঁজছে। শেখ হাসিনা সরকার জঙ্গিগোষ্ঠীর বিষদাঁত ভেঙে দিলেও গোপনে গোপনে তাদের এখনো সক্রিয়তার প্রমাণ পাওয়া যাচ্ছে। আমাদের আত্মতুষ্টিতে ভোগার সুযোগ নেই। সচেতন থাকতে হবে। আর কোন ১৫ আগস্ট, ২১ আগস্ট এ দেশে যেন না আসে। না আসে ১৭ আগস্ট সিরিজ বোমা হামলা কিংবা হলি আর্টিজানে ঘটনা। চাই না রমনা বটমূলের মতনই নৃশংস ঘটনার পুনরাবৃত্তি।

১৫ আগস্ট জাতির জাতির পিতাকে সপরিবারে নির্মমভাবে হত্যার পর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেশে ফেরার প্রসঙ্গ টেনে ওবায়দুল কাদের বলেন, প্রতিকূলতার স্রোত মারিয়া ইতিহাসের নানা বাঁক পেরিয়ে বঙ্গবন্ধুর আদর্শ আর রক্তের উত্তরাধিকার ১৯৮১ সালে দেশে ফিরে আসেন। ফিরে আসেন আরেক বাংলাদেশ। শুরু করেন দল গোছানোর কাজ। গড়ে তোলেন ঐক্য। স্বজন হারানোর বেদনাকে তিনি শক্তিতে রূপান্তর করেন। মানুষের জীবন বদলে দেওয়ার মাঝে খুঁজে নেন প্রিয়জন হারানোর কষ্ট।

বিএনপি জামায়াতের প্রতি ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, এ দেশের রাজনীতিতে হত্যা-সন্ত্রাস ষড়যন্ত্র অসাম্প্রদায়িকতার বিস্তার তাদের হাত ধরেই। এখনো তারা সেই অপচর্চা অব্যাহত রেখেছে। নির্লজ্জভাবে তারা গুম-খুনের কথা বলে। আমি জিজ্ঞেস করতে চাই তারা কি অপারেশন ক্লিনহার্ট পরিচালনা করেনি? ২০০২ সালের ১৬ অক্টোবর থেকে ২০০৩ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত সময় ৯৭ জনকে হত্যা করেছিল। অপারেশন ক্লিনহার্টের হত্যার বিচার বন্ধে ইনডেমনিটি দিয়েছিলো। অথচ আজ মানবাধিকার আর হত্যার বিচারের কথা বলে। গুম-খুনের’ কথা বলে। শেখ হাসিনা কোন খুনীতে ইনডেমনিটি দিয়ে বাঁচায়নি, খুনকে জায়েজ করেনি। হত্যা-সন্ত্রাস নির্ভয় রাজনীতির তাদের ঐতিহ্য, যাদের ক্ষমতার উৎস বন্দুকের নলে।

আওয়ামী লীগ সম্পাদক বলেন, উন্নয়ন বিরোধী অপশক্তি এখনো আছে চারপাশে। তারা দেশের উন্নয়ন ও এগিয়ে যাওয়াকে মেনে নিতে পারে না। উগ্র সাম্প্রদায়িক অপশক্তি এখনো সুযোগ খুঁজছে। তারা শান্তি ও স্বস্তির বাংলাদেশ চায় না। শেখ হাসিনার নেতৃত্বে সমৃদ্ধ আগামীর পথে এগিয়ে যাওয়া তাদের গাত্রদাহ। তারা দেশকে পাকিস্তানি ভাবধারায় নিয়ে যেতে চায়, চায় সংঘাতে জর্জরিত রক্তময় প্রান্তর। সাম্প্রদায়িকতার বিষ ছড়িয়ে দেশের এগিয়ে যাওয়ার পথ বন্ধ করতে চায়। কিন্তু যতক্ষণ দেশরত্ন শেখ হাসিনা আছে আমাদের সমৃদ্ধ আগামীর বিনির্মাণে অগ্রযাত্রা এগিয়ে যাবেই। সতর্কতার পাশাপাশি আমাদের সুদৃঢ় ঐক্যের মন্ত্রে উজ্জীবিত হতে হবে সম্মিলিত প্রয়াসে। শেখ হাসিনার হাতকে করতে হবে শক্তিশালী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলা আর দেশরত্ন শেখ হাসিনার স্বপ্নের সমৃদ্ধ বাংলায় কোন ষড়যন্ত্রকারীরাই নেই। প্রশ্রয় নেই কোন জঙ্গি গোষ্ঠী এবং সাম্প্রদায়িক অপশক্তির। সকল ষড়যন্ত্র মাড়িয়ে জনগণের ভালোবাসা এবং সমর্থন নিয়ে উন্নয়ন ও সমৃদ্ধির চলমান যে যাত্রা, তা শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাবে অদম্য গতিতেই। পৌঁছে যাবে অর্জনের সোনালী দিগন্তে।

ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আওয়ামী লীগের সভাপতি আবু আহমেদ মান্নাফি সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য বেগম মতিয়া চৌধুরী যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মাহবুবউল আলম হানিফ, দপ্তর সম্পাদক বিপ্লব বড়ুয়া প্রমুখ।

  •