কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ কেয়ার বাংলাদেশ এর আয়োজনে অনলাইন কর্মশালা অনুষ্ঠিত

16

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
সরকার জাতীয় পুষ্টি নীতি ২০১৫ এর আলোকে জাতীয় পুষ্টি পরিকল্পনা ২০১৬-২০২৫ বাস্তবায়ন করছে। পুষ্টি পরিকল্পনা বাস্তবায়নে সরকারি ভাবে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে পুষ্টি সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। বহুখাতভিত্তিক পুষ্টি কার্যক্রম বাস্তবায়নে কেয়ার বাংলাদেশ কাারিগরী সহযোগীতা প্রদান করে আসছে।

সম্প্রতি জেলা ও উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির সহযোগিতায় সুনামগঞ্জ জেলার জন্য ২০১৯-২০২০ এর জন্য একটি বার্ষিক পুষ্টি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করেছে। কিন্তু করোনা ভাইরাস এবং সাম্প্রতিক বন্যা এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নে বড় ধরনের বাধার সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতি উত্তরনে সকলের কম-বেশী ভূমিকা রয়েছে। সংবাদ মাধ্যম সমাজের দর্পন এবং উন্নয়নের অংশীদার। পুষ্টি উন্নয়নেও রয়েছে এর গুরুত্বপূর্ণ দাযিত্ব। সোমবার সকাল সাড়ে ১০টায় কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ কেয়ার বাংলাদেশ এর উদ্যোগে সংবাদ কর্মীদের জন্য ‘করোনা সংক্রমণ ও সাম্প্রতিক বন্যায় সার্বিক খাদ্য ও পুষ্টি পরিস্থিতি এবং মিডিয়া কর্মীদের ভূমিকা’ বিষয়ক অনলাইন সংলাপে বক্তারা এসব কথা বলেন।

সংলাপে সুনামগঞ্জ জেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটি ও জেলার ১১টি উপজেলা পুষ্টি সমন্বয় কমিটির অন্তর্ভূক্ত সকল সাংবাদিক সদস্যবৃন্দ অনলাইনের মাধ্যমে যোগদান করেন। কেয়ার বাংলাদেশের কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ এর টীম লিডার নাজনীন রহমান সংলাপের শুরুতে সবাইকে স্বাগত জানান। সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি ও দৈনিক সুনামগঞ্জের খবর এর সম্পাদক পঙ্কজ দে এর সভাপতিত্বে সংলাপে প্রধান অতিথি হিসেবে সংযুক্ত ছিলেন জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন। সংলাপে সিনিয়র টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর এডভোকেসি এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ এম হাফিজুল ইসলাম কভিড ১৯ পরিস্থিতি ও সাম্প্রতিক বন্যার উপর দু’টি ভিডিও প্রদর্শন ও আলোচনার সূত্রপাত করেন। টেকনিক্যাল ম্যানেজার কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ মো. হসানউজ্জামান করোনা ভাইরাস ও দীর্ঘমেয়াদী বন্যা পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্য, পুষ্টি ও খাদ্য নিরাপত্তা এবং প্রভাব বিষয়ক পাওয়ার পয়েন্ট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন। প্রধান অতিথির বক্তব্যে জেলা তথ্য কর্মকর্তা মো: আনোয়ার হোসেন বলেন, বাংলাদেশকে পুষ্টিহীনতা মুক্ত করার জন্য সরকার যে পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা বাস্তবয়নে আমাদের সকলের সম্মিলিত প্রচষ্টার প্রয়োজন এবং এক্ষেত্রে সাংবাদিকবৃন্দের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখার সুযোগ রয়েছে। সভাপতির বক্তব্যে সুনামগঞ্জ জেলা প্রেসক্লাবের সভাপতি পঙ্কজ দে বলেন, সারা জেলার সকল সাংবাদিকদের নিয়ে এতবড় ফোরাম এর আগে অনুষ্ঠিত হয়নি। তাই কেয়ার বাংলাদেশকে এই সময়োপযোগী আয়োজন করার জন্য তিনি ধন্যবাদ জানান।

তিনি সঠিক ও বস্তুনিষ্ট সংবাদ প্রতিবেদন প্রকাশ ও প্রচারণার মাধ্যমে করোনা ভাইরাস ও বন্যা পরিস্থিতিতেও সুনামগঞ্জ জেলার পুষ্টি কার্যক্রমকে গতিশীল ও বেগবান করতে সকল সাংবাদিকবৃন্দের আন্তরিক সহযোগিতার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন। এছাড়াও কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ টীম লিডার নাজনীন রহমান সুনামগঞ্জ জেলায় পুষ্টি কার্যমের বিভিন্ন সংবাদ প্রতিবেদন নিয়মিত এবং ফলাও করে প্রকাশ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সকল সাংবাদিকদের ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন সাংবাদিকদের এই প্রচেষ্টা চলমান থাকলে সুনামগঞ্জে পুষ্টি বিষয়ক সচেতনতা বৃদ্ধি পাবে এবং পুষ্টি কার্যক্রমকে আরও গতিশীল হবে । সংলাপে সাংবাদিক শাহজাহান চৌধুরী, খলিলুর রহমান, জিয়াউর রহমান লিটন, আব্দুল আলীম, সেলিম আহমদ, মো. আব্দুল হাই, মো: নুরুল হক প্রমূখ গুরুত্বপূর্ন আলোচনা, মতামত ও সুপারিশ প্রস্তাব করেন।

এছাড়া জেলা ও উপজেলা পর্যায় থেকে আইনুল ইসলাম বাবলু, মো. আকরাম হোসেন, মো. বুরহান উদ্দিন, শাহাবুদ্দিন আহমেদ, স্বপন কুমার বর্মন, সালেহ আহমদ, চিত্তরঞ্জন গোস্বামী, মো. আমিনুল ইসলাম, বাবরুল হাসান বাবুল, রমেন্দ্র নারায়ণ বৈশাখ, হাবিবুর রহমান, জিয়াউর রহমান লিটন, মুজাহিদুল ইসলাম সর্দার, বকুল আহমেদ তালুকদার, পীযুষ শেখর দাস, শান্ত কুমার তালুকদার, শংকর রায়, অমিত দেব, আব্দুল হাই, কাজী মোহাম্মদ জমিরুল ইসলাম মমতাজ, হোসাইন আহমদ, সোহেল তালুকদার, মো: ওয়ালিউল্লাহ সরকার, আকবর হোসেন, হাবিবুর রহমান, সালেহ আহমেদ, ইমাম হোসেন, সেলিম আহমদ, এনামুল হক এনি, আমীর আলী, বিজয় রায়, এমএ মোতালেব ভূঁইয়া, মো: আশিক মিয়া ও এম এ করিম লিলু সহ ৩৫ জন সংবাদ কর্মী সংলাপে অংশগ্রহণ করেন। কেয়ার বাংলাদেশ কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ প্রকল্পের টেকনিক্যাল অফিসারদের মধ্যে মো. নাজমুল হাসান, মো. আব্দুল আলীম, মো. আব্দুস শুকুর, মো. আলাউদ্দিন হোসেন এবং শ্রী অরূপ রতন দাশ কর্মশালায় অংশগ্রহণ করেন। এছাড়া কারিগরী সহযোগীতায় ছিলেন কেয়ার বাংলাদেশ এর আইটি অফিসার একরামুল হক ও প্রজেক্ট সাপোর্ট অফিসার সুমন কুমার দাস। অনলাইনভিত্তিক কর্মশালা সঞ্চালন করেন কেয়ার বাংলাদেশের সিনিয়র টেকনিক্যাল কো-অর্ডিনেটর এডভোকেসি এন্ড ক্যাপাসিটি বিল্ডিং, কালেক্টিভ ইম্প্যাক্ট ফর নিউট্রিশন ইনিশিয়েটিভ এম হাফিজুল ইসলাম।

  •