২ দিনেও চালু হয়নি কমলগঞ্জের দলই চা বাগান, আবারও চা শ্রমিকদের উত্তেজনা

8

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তে ব্যক্তি মালিকানাধীন দলই চা বাগান দীর্ঘ ২২ দিন পর বাগান চালু হওয়ার কথা থাকলেও সকাল থেকেই উত্তেজনা বিরাজ করে ঐ বাগানে। ব্যবস্থাপক পরিবর্তন না হওয়া ও বাগান চালুর নোটিশে শ্রমিকদের দায়ী করায় ক্ষুব্ধ হয়ে উঠেন শ্রমিকরা। বুধবার সকাল ১০ টায় কোম্পানীর এজিএম বাগানে প্রবেশ করতে চাইলে শ্রমিকরা আপত্তি জানান।

এসময় দুই নারী শ্রমিককে টানা হেচড়া করে লাঞ্চিত করায় গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করে টানা চার ঘন্টা এজিএম খালেদ খানকে অবরুদ্ধ করেন শ্রমিকরা। পরে প্রশাসনের নির্দেশে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যানের হস্তক্ষেপে শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে ব্যবস্থাপক ও এজিএমকে পুলিশি সহায়তায় চা বাগান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

জানা যায়, দলই চা বাগানের গেইট বন্ধ করে উত্তেজিত শতাধিক নারী শ্রমিকরা বাগান অবরুদ্ধ করে রাখে। তাদের পিছনে পুরুষ শ্রমিকরা অবস্থান করে। চা বাগান চালু নোটিশ দেয়া হলেও চা বাগান ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলামকে প্রত্যাহার না করে ম্যানেজমেন্ট নোটিশের শুরুতেই শ্রমিকদের বেআইনী আন্দোলনের ফলে বন্ধ হওয়ার কথা তুলে ধরায় শ্রমিকরা ক্ষুব্ধ হন। সকাল থেকেই শ্রমিকরা বাগানের অফিসের সম্মুখে জড়ো হন। ব্যবস্থাপকের অপসারণ দাবি করেন।

কোম্পানীর এজিএম খালেদ খান গাড়ি নিয়ে বাগানে প্রবেশ করতে চাইলে জড়ো হওয়া শ্রমিকরা তাকে আপত্তি জানান। এসময় নারী শ্রমিক খোদেজা বেগম (৫৫) ও ফাতেমা বেগম (৫০) কে টানা হেচড়া করে গাড়িতে তোলার চেষ্টা করা হয়। পরে ক্ষুব্ধ শ্রমিকরা চা বাগানের এজিএম এর গাড়ির গ্লাস ভাঙচুর করেন ও এজিএম ও ব্যবস্থাপককে অবরুদ্ধ করে রাখেন।

পরে স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান শ্রমিকদের রাস্তা থেকে সরিয়ে নিতে চেষ্টা করে পুলিশের সহায়তায় এজিএম ও ব্যবস্থাপককে বাগান থেকে সরিয়ে নেয়া হয়।

চা বাগানের নারী শ্রমিক সবিতা মাদ্রাজী, রীনা রিকমুন, আচামা মাদ্রাজী, দ্বীনি ভূমি, স্বপ্না রিকমন ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ২২দিন পর এজিএম বাগানে এসেই নারীদের গায়ে হাত তুলেছে। তাদের টানা হেচড়া করে গায়ের কাপড় ছিড়ে ফেলছে। এটি কোন মতেই সভ্য আচরণ নয়। তারা আরও বলেন, আমরা এখনও ধৈর্য ধরে আছি। আমরা কোন খারাপ আচরণ করিনি। আমাদের মা বোনদের লাঞ্চিত করেছে।

উল্লেখ্যঃ টানা ২১ দিন চা বাগান বন্ধ থাকার পর সোমবার (১৭ আগস্ট) বিকালে ৪টায় মৌলভীবাজার-৪ আসনের সাংসদ, জেলা প্রশাসক ও পুলিশ সুপারের উপস্থিতিতে বেঠকের সিদ্ধান্তে ২৭ জুলাই সন্ধ্যায় পূর্বের দেয়া নোটিশ প্রত্যাহার করে দলই চা বাগান খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়। বৈঠকের পর এদিন রাতেই ধলই চা বাগান কোম্পানী বিতর্কিত ব্যবস্থাপক আমিনুল ইসলাম ধলই চা বাগানে অনুপ্রবেশ করে।

কমলগঞ্জ থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশ ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, কোম্পানীর জিপ গাড়ি ভাঙ্গচুরের মৌখিক অভিযোগ ও নারী চা শ্রমিক লাঞ্চিত হওয়ারও মৌখিক অভিযোগ থাকলেও থানায় কোন পক্ষ লিখিত অভিযোগ করেনি।

  •