জামালগঞ্জে প্রধানমন্ত্রীর অনুদানে মাথা গোঁজার ঠাঁই পেল ৩৮টি পরিবার

77

মো. ওয়ালী উল্লাহ সরকার, জামালগঞ্জ ::
‘তুফান আইলে লগের বাড়ি যাইতাম। রইদের মধ্যে কলাপাতার ছাপড়া দিয়া থাকতাম। মেঘ আইলে সারের কাগজ মাথায় দিয়া বইয়া থাকতাম। এই রকম কইরা জীবনটা খাটাইছি। ঘরের কষ্টে কইলজা ফাইটা যাইত। মেঘে আর শীতে কয় রাইত ঘুমাইতে পারি নাই তার কোনো হিসাব নাই। কোনোদিন পাক্কা ঘরে ঘুমাইমু স্বপ্নেও ভাবি নাই। শেখের মেয়ে হাসিনা আমরার স্বপ্ন পূরণ করছে। আমরার কোনো করার ক্ষমতা নাই। আল্লাহর কাছে দোয়া করি শেখ হাসিনারে সারাজীবন বাঁচাইয়া রাখুক।’
প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে ঘর পেয়ে আপ্লুত হয়ে কথাগুলো বলছিলেন সুনামগঞ্জ জেলার জামালগঞ্জ উপজেলার উত্তর ইউনিয়নের কালিবাড়ি গ্রামের মৃত রইছ আলীর স্ত্রী মিনারা বেগম (৬০)। তাঁর মতো এ উপজেলায় আরও ৩৮টি পরিবার পেয়েছে প্রধানমন্ত্রীর ত্রাণ তহবিল থেকে দেওয়া এ রকম ৩৮টি পাকা ঘর। আর প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও তার বাবা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্য দোয়া করছেন তারা।

জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১ কোটি ১৩ লাখ ৯৪ হাজার ৬৮০ টাকা ব্যয়ে গ্রামীণ অবকাঠামো রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্পের (টিআর) কর্মসূচির আওতায় উপজেলার ৬টি ইউনিয়নের দুর্যোগ সহনীয় ৩৮টি গৃহ নির্মাণ করা হয়েছে। প্রতিটি ঘর নির্মাণে ব্যয় করা হয়েছে ২ লাখ ৯৯ হাজার ৮৬০ টাকা। পাকা দেয়াল ও টিনসেডের এই ঘরে রয়েছে ২টি থাকার কক্ষ, রান্নাঘর ও স্বাস্থ্যসম্মত পায়খানা। একটি ছোট পরিবারের জন্য উপযুক্ত এই থাকার ঘর। প্রধানমন্ত্রীর এই মহৎ উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে উপজেলার সমুদয় হতদরিদ্র্য পরিবারগুলোকে গৃহ নির্মাণের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম ঘুরে দেখা গেছে হতদরিদ্র্য মানুষগুলো প্রধানমন্ত্রীর দেওয়া ঘর পেয়ে আনন্দে আত্মহারা। তারা সবাই আঁধার থেকে আলোয় ফিরে এসেছেন। তারা যেন এক খ- পূর্ণিমার চাঁদ পেয়েছেন।

সদর ইউনিয়নের নয়াহালট হিন্দু পাড়ার দিনমজুর সুশীল বৈদ্য জানান, ঘরের অভাবে রাইতে ঘুমাইতে পারি নাই। এখন নতুন ঘর পাইয়া পুলাফান লইয়া মনডা ভইরা ঘুমাইতে পারি। হুনছি শেখ হাসিনা আমাদের এই ঘর দিছেন। তারে ভগবান যেন সারাজীবন ক্ষমতায় রাখে। আমরা মন খুইলা দোয়া করি উনার পিতামাতাসহ যারা মারা গেছেন হেরা যেন স্বর্গবাসী হয়।
জামালগঞ্জ উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মো. এরশাদ হোসেন বলেন, ‘২০১৯-২০২০ অর্থবছরে উপজেলার ৬টি ইউনিয়নে ৩৮টি হতদরিদ্র্য পরিবারকে দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। নির্মাণ শেষে এই ঘরগুলোতে তারা বসবাস করছে।’

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা বিশ্বজিত দেব বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুর্যোগ সহনীয় গৃহ নির্মাণ একটি বিশেষ উদ্যোগ। প্রধানমন্ত্রীর প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে উপজেলায় যাচাই-বাছাই শেষে ৩৮টি পরিবারকে গৃহ নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে। এই ঘরে তারা সুখে-শান্তিতে বসবাস করছে। আমি উপজেলার অনেকগুলো ঘরই দেখেছি। ঘরগুলো খুব সুন্দর হয়েছে। তারা প্রত্যেকেই প্রধানমন্ত্রী ও তার পরিবারের জন্য প্রাণভরে দোয়া করছেন।’

  •