গ্রীডে ট্রান্সফরমার বিকল, ভোগান্তিতে লক্ষাধিক গ্রাহক

25

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির কমলগঞ্জ জোনালের অধীনস্থ লক্ষাধিক গ্রাহক, চা কারখানা ও বিভিন ফ্যাক্টরী সমুহ প্রতিদিন চার, পাঁচ ঘন্টা বিদ্যুৎবিহীন থাকায় চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছে। গত ১৯ আগষ্ট সকাল ৮টায় কুলাউড়া গ্রীডে দু’টি ট্রান্সফরমারের মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এর সাপ্লাইকৃত পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি)’র সাপ্লাইকৃত অন্য পাওয়ার ট্রান্সফরমার দিয়ে কমলগঞ্জ জোনালের অধীনস্থ চার উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে লোডশেডিং এর কবলে পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির গ্রাহকরা ভোগান্তি পোহাচ্ছেন।

জানা যায়, পাওয়ার গ্রীড কোম্পানী বাংলাদেশ (পিজিসিবি) এর কুলাউড়া গ্রীডে দু’টি পাওয়ার ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হয়। এরমধ্যে একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার পিডিবিসহ এবং অন্যটি আরইবিসহ বিভিন্ন স্থানে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে। গত ১৯ আগষ্ট সকাল ৮টায় কুলাউড়া গ্রীডে দু’টি ট্রান্সফরমারের মধ্যে বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ড (আরইবি) এর সাপ্লাইকৃত পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি বিকল হয়ে পড়ে। ফলে কমলগঞ্জ, বড়লেখা উপজেলা এবং কুলাউড়া ও জুড়ি উপজেলার আংশিক বিদ্যুৎ সরবরাহে বিপর্যয় নেমে আসে। প্রতিদিন কয়েক দফায় চার থেকে পাঁচ ঘন্টা করে বিদ্যুৎ এর লোডশেডিং করতে হচ্ছে।

কমলগঞ্জ জোনালের অধীনস্থ ৯৭ হাজার ৮শ’ জন বিদ্যুৎ গ্রাহক রয়েছে। এরমধ্যে বেশ কয়েকটি চা কারখানা ও বিভিন্ন মিলকারখানা রয়েছে। বিদ্যুৎ বিপর্যয়ের ফলে গ্রাহকদের ভোগান্তির পাশাপাশি এসব মিলকারখানায়ও উৎপাদন বন্ধ হয়ে পড়ে। কুলাউড়া গ্রীডে বিকল হয়ে পড়ায় নতুনভাবে ৬২ মে.টন ওজনের পাওয়ার ট্রান্সফরমারটি স্থাপনে আরও চার, পাঁচ দিন সময় লাগতে পারে। এতে গ্রাহকদের ভোগান্তি ও কলকারখানায় উৎপাদনেও মারাত্মক প্রভাব পড়বে।

তবে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতির একজন প্রকৌশলী বলেন, কুলাউড়া গ্রীডে পাওয়ার ট্রান্সফরমারে ত্রুটি দেখা দেয় গত কুরবানির ঈদের দিন থেকে। ততোদিনেও সেটি মেরামত না করায় ১৯ আগষ্ট বিকল হয়ে পড়ে। এবিষয়ে তাৎক্ষণিক জোরালো পদক্ষেপ নেয়া হয়নি। ফলে ঘনঘন লোডশেডিং এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ সরবরাহ করতে হচ্ছে।

তবে অভিযোগ করে কবি, গবেষক ও সংগঠক আব্দুস শহীদ সাগ্নিকসহ স্থানীয়রা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ট্রান্সফরমার বিকল, গ্রীডে পাখি বসা ইতোকার অজুহাত দেখিয়ে ঘনঘন বিদ্যুৎ বন্ধ রাখা হয়। এতে সংশ্লিষ্ট গ্রাহকরা সীমাহীন ভোগান্তির মধ্যে পড়েন। বিষয়টি খুবই অসহনীয়। এর একটি স্থায়ী প্রতিকার হওয়া আবশ্যক। নতুবা জনমতে ক্ষোভ বৃদ্ধি পেয়ে নানা অপ্রীতিকর ঘটনার সূত্রপাত হতে পারে।

এ ব্যাপারে মৌলভীবাজার পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি কমলগঞ্জ জোনাল অফিসের ডেপুটি জেনারেল ম্যানেজার গণেশ চন্দ্র দাস সত্যতা স্বীকার করে বলেন, ট্রান্সফরমারটি বিকল হওয়ার পর বর্তমানে পিডিবি’র সাপ্লাইকৃত পাওয়ার ট্রান্সফরমারের সাথে যুক্ত করে তিন উপজেলায় বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। এখানে ৫৩ মেঘাওয়াট বিদ্যুতের চাহিদা থাকলেও একটি ট্রান্সফরমারের মাধ্যমে ৩২ মেঘাওয়াট দিয়ে সরবরাহ করা হচ্ছে।

অবশিষ্ট ঘাটতি ২১ মেঘাওয়াটে শ্রীমঙ্গল থেকে ৬ মেঘাওয়াট আনার পরও ১৫ মেঘাওয়াট বিদ্যুৎ ঘাটতিতে রাত্রিকালীন লোডশেডিং করে চলতে হচ্ছে। তিনি আরও বলেন, চার, পাঁচ দিনের মধ্যে ট্রান্সফরমারটি স্থাপন করা হলে সমস্যার সমাধা হবে।

  •