ছাতকে মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো সক্রিয় বিক্রি হচ্ছে ওপেন-সিক্রেটভাবে

27

ছাতক প্রতিনিধি ::
ছাতকে মাদক ব্যবসায়ীরা আবারো মাথাচাড়া দিয়ে উঠেছে। সন্ধ্যার পর পরই এসব মাদক ব্যবসায়ী ও মাদকসেবকীরা মাদকদ্রব্য বেচা-কেনায় সক্রিয় হয়ে উঠে। শহরের বেশ কয়েকটি স্পটে অনেকটা ওপেন-সিক্রেটভাবেই বিক্রি হচ্ছে ভারতীয় বিভিন্ন ব্রান্ডের মদ, গাঁজা, ইয়াবাসহ বিভিন্ন মাদক দ্রব্য। বিগত দিনে যারা এসব মাদক ব্যবসায় জড়িত ছিল তারাই ভিন্ন কৌশল অবলম্বন করে পুরোনো মাদক ব্যবসা নতুন করে আবারো শুরু করেছে। এ ছাড়া উপজেলার বেশ কয়েকটি এলাকায় প্রতিদিনই বসছে জুয়ার আসর। শহরের কয়েকটি এলাকায় চলছে নিয়মিত পতিতাবৃতি। বৈশ্বিক মহামারি করোনা পরিস্থিতি নিয়ে যখন মানুষ আতংকে দিন কাটাচ্ছে তখন এসব অপকর্মে লিপ্তরা তাদের অসামাজিক কর্মকান্ড প্রসারিত করে সামাজিক অবক্ষয় ঘটাচ্ছে। ফলে প্রায় ঘটছে চুরি ও ছিনতাইর মতো ঘটনা। ওসি মোস্তফা কামাল ছাতক থানায় অফিসার ইনচার্জ হিসেবে দায়িত্ব গ্রহনের পর এসব অপরাধ কর্মকান্ড অনেকটাই নিয়ন্ত্রিত অবস্থায় চলে আসছিল। কিন্তু করোনা পরিস্থিতি নিয়ে এখানে শোরগোল শুরু হলে এ সুযোগটা কাজে লাগাতে আবারো সক্রিয় হয়ে উঠে মাদক ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক ব্যক্তি জানান, মাদক ব্যবসায়ীদের সাথে একজন দু’একজন পুলিশের বেশ সখ্যতা রয়েছে। তাদের ম্যানেজ করেই অপরাধমুলক কর্মকান্ড চালিয়ে যাচ্ছে তারা। শহরের কেন্দ্রিয় শহীদ মিনার সংলগ্ন ডুগলা বাড়ির সুশিল শব্দকর ও নকুল শব্দকর মদ ও গাঁজা ব্যবসার সাথে জড়িত। শহরের প্রধান সড়কের একটু আড়ালে হওয়ায় তারা অনেকটা নিরাপদে মদ-গাঁজার ব্যবসা করে যাচ্ছে। সুশিল শব্দকরের বিরুদ্ধে রয়েছে একাধিক মাদক মামলা। ইতিমধ্যেই কয়েকবার কারাবাসও করেছে সে। এ ছাড়া শহরের শহীদ মিনারের পিছনে, রেল কলোনী, লাফার্জ ফেরী ঘাট, ফকিরটিলা পয়েন্ট, সিমেন্ট কারখানা ৪নং এলাকা, নোয়রাই-ইসলামপুর, বাসষ্ট্যান্ড এলাকা, লাকি কমিউনিটি সেন্টার সংলগ্ন এলাকাসহ বিভিন্ন স্পটে ভারতীয় মদ, গাঁজা ও ইয়াবা বিক্রি হচ্ছে। এসব মাদক ব্যবসায়ীরা নিজে বা সহযোগিদের মাধ্যমে মাদক দ্রব্য গন্তব্যে পৌছে দেয়া হয়। ছোরাব নগর এলাকাসহ শহরের তিনটি স্পটে চলছে পতিতাবৃতি। দিবা-রাত্রি অনেকটা ওপেন-সিক্রেটভাবেই এসব মিনি পতিতালয় চলছে। ভদ্রবেশী লোকজনদের এসব মিনি পতিতালয়ে আনা-গোনা করতে দেখা গেছে। বিনা প্রতিবন্ধকতায় এখানে পতিতাবৃতি পরিচালনা করছে কতিপয় পরিচিত দালাল। এতে যুব সমাজকে মারাত্মক অবক্ষয়ের দিকে ধাকিত করছে। সাবেক লাকি সেন্টারের পেছনে একটি টিন সেডের ঘরে এবং বাসষ্ট্যান্ড এলাকার ভেতর দিকে অপর একটি কক্ষে প্রতিদিনই বসে বড় রকমের জুয়ার আসর। বাসষ্ট্যান্ড এলাকার এ কক্ষে ভারতীয় তীর খেলার আসর বসে বলে জানা গেছে। কতিপয় বখাটে যুবক এ জুয়ার আসর পরিচালনা করে আসছে। ভুক্তভোগীরা জানান, থানা পুলিশকে ম্যানেজ করেই তারা জুয়া খেলার আসর পরিচলনা করছে। এদের কর্মকান্ডের বিরোধিতা করার দুঃসাহস কেউ দেখায় না। এখনই এসব অপরাধ কর্মকান্ড নিয়ন্ত্রন না করতে পারলে এখানের আইন-শৃঙ্ঘলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটার আশংকা করছেন সূধীমহল। এ ব্যাপারে ছাতক থানার আিফসার ইনচার্জ মোস্তফা কামাল জানান, ছাতকে মাদকের বিরুদ্ধে নিয়মিত পুলিশি অভিযান চলছে। মাদককে নির্মুল করতেই পুলিশের অব্যাহ আছে। অপরাধী যেই হোক তাকে আইনের আওতায় আনতে তিনি সব সময়ই সক্রিয় রয়েছেন। সব ধরনের অপরাধমুলক কর্মকান্ডের বিরুদ্ধে পুলিশের অবস্থান স্পষ্ট।

  •