ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করলে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক প্রতিষ্ঠায় রাজি সৌদি আরব

10

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
প্রথম উপসাগরীয় এবং তৃতীয় আরব দেশ হিসেবে গত ১৩ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চুক্তিতে পৌঁছানোর ঘোষণা দেয় সংযুক্ত আরব আমিরাত। ওই চুক্তিতে সৌদি আরবও যোগ দেবে বলে গত বুধবার (১৯ আগস্ট) আশা প্রকাশ করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে এই চুক্তি নিয়ে কয়েক দিন নীরবতার পর বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) সৌদি পররাষ্ট্রমন্ত্রী জানিয়ে দেন, ফিলিস্তিনিদের সঙ্গে শান্তি প্রতিষ্ঠার আগে তার দেশ ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার কোনও চুক্তিতে স্বাক্ষর করবে না। আর শুক্রবার পত্রিকায় নিবন্ধ প্রকাশ করে এই বিষয়ে সৌদি আরবের অবস্থান স্পষ্ট করেন রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল আল সৌদ।

রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল আল সৌদ একসময়ে সৌদি আরবের গোয়েন্দা প্রধান হিসেবে কাজ করেছেন। বর্তমানে তিনি সৌদি আরবের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক স্টাডিজের চেয়ারপারসন হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। শুক্রবার আশরাক আল-আওসাত সংবাদপত্রে লেখা এক নিবন্ধে তিনি লেখেন, ‘যেসব আরব রাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতকে অনুসরণের কথা বিবেচনা করছে তাদের ইসরায়েলের কাছ থেকে পাল্টা মূল্য দাবি করা উচিত আর তা হওয়া উচিত চড়ামূল্য।’

তুর্কি আল ফয়সাল লেখেন, ‘ইসরায়েল ও আরব দেশগুলোর মধ্যে চূড়ান্ত শান্তি প্রতিষ্ঠার একটি মূল্য নির্ধারণ করেছে সৌদি আরব। আর তা হলো প্রয়াত বাদশাহ আবদুল্লাহর উদ্যোগ অনুসরণ করে জেরুজালেমকে রাজধানী করে সার্বভৌম ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা।’ ২০০২ সালে আরব লীগের মাধ্যমে ওই পরিকল্পনা ঘোষণা করা হয়। এতে ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বিনিময়ে ১৯৬৭ সালের মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধের পর দখল করা পশ্চিম তীর, গাজা ও পূর্ব জেরুজালেমের সব এলাকা থেকে ইসরায়েলি দখল অপসারণ এবং সেখানে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রস্তাব দেওয়া হয়। তবে ইসরায়েল এই প্রস্তাব বাস্তবায়নের পক্ষে কোনও উদ্যোগই নেয়নি।

তারপরও ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করা নিয়ে আমিরাতের সিদ্ধান্ত নিয়ে বোঝাপড়ার পক্ষে কথা বলেন সৌদি রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল। তিনি মনে করেন, এই চুক্তির মধ্য দিয়ে রিয়াদের ঘনিষ্ঠ মিত্র আমিরাত অন্তত একটি মূল শর্ত নিশ্চিত করতে পেরেছে- আর তা হলো এর মাধ্যমে দখল সম্প্রসারণ পরিকল্পনা স্থগিত করেছে ইসরায়েল।

উল্লেখ্য, ওয়াশিংটনে নিযুক্ত সাবেক রাষ্ট্রদূত রাজপুত্র তুর্কি আল ফয়সাল আল সৌদ বর্তমানে সৌদি আরবের কোনও সরকারি দায়িত্বে নেই। তারপরও আরবের কিং ফয়সাল সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইসলামিক সেন্টারের চেয়ারপারসন হিসেবে সরকারি সিদ্ধান্তে যথেষ্ট প্রভাব রাখেন সাবেক এই গোয়েন্দা প্রধান।

  •