কমলগঞ্জে ইউপি চেয়ারম্যান ও চা শ্রমিক নেতাসহ ১৩ জনের উপর মামলা

10

কমলগঞ্জ প্রতিনিধি ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জের সীমান্তবর্তী ব্যক্তিমালিকানাধীন দলই চা বাগান টানা ২৭ দিন বন্ধ রয়েছে। চা বাগান চালু নিয়ে ম্যানেজমেন্টের কার্যক্রমে শ্রমিকদের মধ্যে উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত ১৯ আগষ্ট চা বাগান চালুর কথা থাকলেও সেদিন উত্তেজনাকর পরিস্থিতি ও শ্রমিকদের ক্ষোভের মধ্যে পুলিশি সহায়তায় চা বাগান ব্যবস্থাপকসহ কোম্পানীর এজিএম বাগান থেকে বের হয়ে যান। এঘটনায় শনিবার (২২ আগস্ট) রাতে এক ইউপি চেয়ারম্যান, চা শ্রমিক নেতাসহ ১৩ জন চা শ্রমিকের নামে মারপিট, গাড়ি ভাঙ্গচুর ও টাকা ছিনাইয়ের অভিযোগে থানায় মামলা করেন দলই চা বাগান কোম্পানীর এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, দি সিলেট টি কোম্পানী (দলই চা বাগান কোম্পানী)-র সহকারি মহাব্যবস্থাপক খালেদ মঞ্জুর খান উল্লেখ করেন মামলার আসামী মাধবপুর ইউপি চেয়রম্যান পুষ্প কুমার কানু, চা যুব নেতা মোহন রবিদাস ও চা শ্রমিক নেতা সীতারাম বীনের উস্কানীতে দলই চা বাগানের অন্য আসামীগণ চা বাগান ব্যবস্থাপকের কাছ থেকে নির্ধারিত মজুরীর চেয়ে অধিক মজুরি বে-আইনীভাবে আদায়ের স্বার্থে বেশ কিছুদিন যাবত পরিকল্পিতভাবে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত।

দলই চা বাগানের উৎপাদন কার্যক্রম পূণরায় সচল হওয়ায় এজিএম খালেদ মঞ্জুর খান কোম্পানীর সহকারী- মহাব্যবস্থাপক হিসেবে ১৯ আগস্ট সকাল ১১টায় তদারকি কাজে দলই চা বাগানে যান। এসময় চা বাগানের ব্যবস্থাপক, সহকারী ব্যবস্থাপকসহ বাগানের সকল কর্মচারীর জুলাই মাসের বেতন ও মজুরি পরিশোধের জন্য নগদ ১০ লাখ টাকা নিয়ে যান।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন শিব নারায়ন শীল (৫৫), তুলশী দাস মাদ্রাজী (৫০), পিংকা কালোয়ার (৫৫), অমৃত কুমার পাশী (৪৬), মো. ফরিদ আলী (৪৫), মো. ইরাজ আলী (২৭), লছমী ভর (৬০), সুদীপ্ত ভর (২৬),ভর (৬০),অজিৎ পাশী (২৫), দিপেন ভর (২৫)।

মামলার প্রধান আসামী মাধবপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যান পুষ্প কুমার কানু বলেন, দলই চা বাগানে ব্যবস্থাপক ও সহকারি মহাব্যবস্থাপক অবরুদ্ধ বলে নির্বাহী কর্মকর্তা ও থানার ওসির নির্দেশে দলই চা বাগানে গিয়ে বিক্ষোব্দ চা শ্রমিকদের বুঝিয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সুধীন চন্দ্র দাশসহ সাংবাদিকদের উপস্থিতিতে তাদের উদ্ধার করেন। চা বাগান কোম্পানী মিথ্যে অভিযোগ দিয়ে আসামী করেছে। কমলগঞ্জ থানার ওসি মো. আরিফুর রহমান মামলার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, তদন্ত করা হচ্ছে।

  •