কংগ্রেসের দায়িত্ব ছেড়ে দিচ্ছেন সোনিয়া গান্ধী

15

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
ভারতের পুরোনো রাজনৈতিক দল কংগ্রেসের অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানের পদ ছেড়ে দিতে চান সোনিয়া গান্ধী। দলটির শীর্ষ এই পদ থেকে সরে দাঁড়াবেন বলে ঘনিষ্ঠ সহযোগিদের জানিয়েছেন তিনি।

রবিবার কংগ্রেসের বিভিন্ন সূত্রের বরাত দিয়ে এ তথ্য প্রকাশ করেছে কয়েকটি ভারতীয় গণমাধ্যম।

প্রতিবেদনে বলা হয়, উপযুক্ত নেতৃত্বের অভাব এবং দলের একাধিক সাংগঠনিক সমস্যা তুলে ধরে সনিয়া গান্ধীকে সম্প্রতি চিঠি দিয়েছেন ২৩ জন শীর্ষস্থানীয় কংগ্রেস নেতা। আগামী সোমবার তা নিয়েই কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠক হতে যাচ্ছে। শিবিরের এমন সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে সনিয়া নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, তিনি অন্তর্বর্তিকালীন সভানেত্রীর দায়িত্ব ছাড়তে প্রস্তুত। কংগ্রেস ওয়ার্কিং কমিটির বৈঠকে তিনি ইস্তফা দেওয়ার কথাও বলতে পারেন বলেও সূত্রের খবর।

‘ইন্ডিয়া টুডে’ তাদের একটি প্রতিবেদনে দাবি করেছে, ‘২৩ জন কংগ্রেস নেতার চিঠির জবাবে সনিয়া বলেছেন, দলের অন্তর্বর্তিকালীন সভানেত্রী হিসাবে তার মেয়াদ এক বছর পূর্ণ হয়েছে। এ বার তিনি ওই পদ থেকে সরে দাঁড়াতে চান। তার দল যেন নতুন সভাপতি বেছে নেয়।’ ইতিমধ্যেই সনিয়া গান্ধীকে চিঠি দিয়ে দলের নানা সমস্যার তুলে ধরেছেন কংগ্রেসের নবীন-প্রবীণ ২৩ জন নেতা। তার প্রেক্ষিতেই সনিয়ার এই উত্তর বলে সূত্রের খবর। সনিয়া সরে গেলে দলের রাশ থাকবে কার হাতে? সোমবারের বৈঠকে এই সব বিষয়গুলিই ঘুরেফিরে উঠে আসবে বলে মনে করা হচ্ছে।

কংগ্রেস অবশ্য সনিয়ার এই সরে দাঁড়ানোর জল্পনা পুরোপুরি উড়িয়ে দিয়েছে। দলের নেতা রণদীপ সিংহ সূরজেওয়ালা বলছেন, ‘সনিয়া গান্ধী কোনও নেতার সঙ্গে কথা বলেননি, এমনকি কাউকে কোনও চিঠিও লেখেননি। আমরা এটা পুরোপুরি অস্বীকার করছি।’’

সূত্রের খবর, সূরজেওয়ালা যাই দাবি করুন না কেন, ঠিক তার উল্টোটাই ঘটে চলেছে কংগ্রেসের অন্দরে। জানা গেছে, দলের ব্যাটন এ বার অন্য কারও হাতে তুলে দেওয়া যায় কি না সে ব্যাপারে গুলাম নবি আজাদের সঙ্গে টেলিফোনে আলোচনাও সেরে ফেলেছেন সনিয়া।

গত বছর লোকসভা নির্বাচনে পরাজয়ের দায় নিয়ে কংগ্রেসের সভাপতি পদ থেকে সরে দাঁড়ান রাহুল গান্ধী। তার পর দলের অন্তর্বর্তিকালীন সভাপতির দায়িত্ব নেন সনিয়া। তখন কথা ছিল, নয়া সভাপতি নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত দায়িত্ব সামলাবেন সনিয়া। কিন্তু অন্তর্বর্তিকালীন সভাপতি হিসেবে সনিয়ার মেয়াদ শেষ হয়ে গেলেও এখনও পর্যন্ত সভাপতি নির্বাচন করে উঠতে পারেনি কংগ্রেস। তা নিয়ে গত কয়েক মাস ধরেই দলের মধ্যে অসন্তোষ জমা হচ্ছিল। প্রকাশ্যে তা নিয়ে মন্তব্যও করতে দেখা যায় একাধিক নেতাকে।

তার মধ্যেই কপিল সিব্বল, শশী তারুর, গুলাম নবি আজাদ, পৃথ্বীরাজ চৌহান, বিবেক তনখা, আনন্দ শর্মা, মণীশ তিওয়ারি, রাজ বব্বর, অরবিন্দ্র সিংহ লাভলি সন্দীপ দীক্ষিত-সহ দলের শীর্ষস্থানীয় ২৩ জন কংগ্রেস নেতা সম্প্রতি সনিয়া গান্ধীকে চিঠি লেখেন। তাতে বলা হয়, সকলের সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করবেন, বিপদে আপদে সকলের পাশে থাকবেন এবং ২৪ ঘণ্টা দলের মুখ হিসেবে যাকে তুলে ধরা যায়, এমন কাউকে পূর্ণমেয়াদের জন্য সভাপতি হিসাবে নির্বাচিত করা হোক।

  •