বিয়ানীবাজার গরু চুরির হিড়িক।। আতংকিত খমাারি ও কৃষকরা

34

বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি ::
বিয়ানীবাজার থেকে কৃষক ও খামরীদের গরু চুরির হিড়িক পড়েছে। ২২ দিনের ব্যবধানে উপজেলার মোল্লাপুর ও লাউতা ইউনিয়নের বিভিন্ন জায়গা থেকে ১১টি গরু চুরির বিষয়ে থানায় মামলা ও জিডি হয়েছে। অবশ্য এর মধ্যে গ্রামবাসী ও ভোক্তভোগীদের প্রচেষ্টা ৬টি গরু ও ৫ চোর আটক হলেও পুলিশের তৎপরতা নিয়ে হতাশা, ক্ষোভ আর আতংক বিরাজ করছে। ক্ষতিগ্রস্তরা বলছেন দৃষ্টান্তমূলক কোন ব্যবস্থা না নিলে চোর চক্ররা আরো সংক্রিয় হয়ে উঠবে।

সুত্র জানায়,গত ১১ আগষ্ট রাতে লাউতা ইউনিয়নের মধ্য পাহাড়িয়াবহর গ্রামের কুৃষক শরীফ উদ্দিনের গোয়াল ঘরের তালা ভেঙ্গে একটি গাভী ও একটি বাছুর নিয়ে যায় চুরেরা। এঘটনায় ১৩ আগষ্ট বিয়ানীবাজার থানায় চুরির বিষয়টি উল্লেখ করে সাধারণ ডায়রী ( জিডি নং ৫১৮) করেন শরীফ উদ্দিন। এত দিনেও গরু গুলোর সন্ধান কিংবা কোন অগ্রগতি না পাওয়ায় হতাশা প্রকাশ করেন তিনি।

এর আগে ২ আগষ্ট একই ইউনিয়নের জলঢুপ কমলাবাড়ি এলাকার খামারি আব্দুল লতিফ ভূইয়ার খামার থেকে দুই লক্ষাধিক টাকা দামের তিনটি গাভী গরু চুরির ঘটনা ঘটেছে। ৪ আগষ্ট বিয়ানীবাজার থানায় মামলা ( মামলা নং ০৪) দায়ের করেন তিনি। পুলিশ এ ঘটনায় বাড়ির কেয়ার টেকারকে সন্দেহভাজন হিসেব আটক করে নিয়ে আসে আদালতের মাধ্যমে জেল হাজতে প্রেরণ করে। । তবে চুরি যাওয়া গরুগুলো উদ্ধার কিংবা এর সাথে জড়িত কাউকে সনাক্ত করতে পারেনি পুলিশ।

এছাড়া ২৭ জুলাই গরু চুরি করে পালিয়ে যাওয়ার সময় মোল্লাপুর ইউনিয়নের পাতনে গ্রামবাসীর হাতে ৫টি গরুসহ আটক হন চোরচক্রের ৫ সদস্য। পরে পুলিশের কাছে গ্রামবাসী তাদের হস্তান্তর করলে তাদের দেয়া তথ্যমতে অভিযান চালিয়ে আরেক চোরকে আটক করে পুলিশ।
২১ জুলাই লাউতার নন্দিফল গ্রাম থেকে চুরি যাওয়া আরেকটি গরুসহ বড়লেখার বর্নি এলাকা থেকে হাতেনাতে আরেক চোরকে আটক করেন গরুর মালিক।পরে তাকে বিয়ানীবাজার থানা পুলিশের কাছে সোপর্দ করেন।

এদিকে উপজেলার বিভিন্ন গ্রাম থেকে প্রায়ই গরু চুরির ঘটনার অভিযোগ পাওয়া যায়। কৃষকরা তাদের হালের গরু ও খামারের গাভী এবং মোটাতাজা করণের ষাড় ও বলদ গরু চুরির ঘটনায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন। সম্প্রতি এলাকায় গরু চোরের উপদ্রবে কৃষক ও গরু খামারিরা বেশ আতঙ্কে আছে। রাতজেগে পাহাড়া দিয়েও চোরের হাত থেকে তারা গবাদিপশু রক্ষা করতে পারছেনা। ফলে তারা লাখ লাখ টাকার ক্ষতিগ্রস্থ হচ্ছেন। সংঘবদ্ধ চোরের দল একটু সুযোগ পেলেই রাতের আঁধারে গরু নিয়ে পালিয়ে যাচ্ছে। এ বিষয়ে প্রশাসনের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংশ্লিষ্টরা।

গরু খামারি আব্দুল লতিফ ভূইয়া বলেন, আমার প্রায় আড়াই লাখ টাকা মূল্যের ৩টি গাভী চুরির যাওয়ার ঘটনায় মামলা করেছি। পুলিশ একজনকে আটক করে নিয়ে গেলেও গরুগুলো উদ্ধার কিংবা কার্যক্রর কোন সফলতা দেখাতে পারেনি। জাতীয় পুষ্কারপ্রাপ্ত এই খামরি বলেন এভাবে চুরির ঘটনা ঘটলে মানুষ এই পেশা থেকে আগ্রহ হারাবে।

গরু চুরি যাওয়া আরেক কৃষক শরীফ উদ্দন বলেন, আমার ২টা গরু চুরি হওয়ার ঘটনায় থানায় জিডি করেছি। এখন পর্যন্ত থানা থেকে কোন সংবাদ পাইনি। লক্ষাধিক টাকার গরু চুরি হওয়াতে অনেকটা দুশ্চিতায় পরেছেন তিনি ও তার পরিবার।

এ ব্যাপারে থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) অবণী শংকর কর দাবী করেন পুলিশ গরু চোর চক্রের মূল হোতাদের ধরেত সক্ষম হয়েছে। বাকিদের ও ধরতে চেষ্টা অব্যাহত আছে।

  •