করোনার টিকা কিনতে প্রস্তুতি, ব্যয় হবে ৮ হাজার কোটি টাকা

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
করোনা মহামারি থেকে জনগণকে মুক্তি দিতে উৎপাদনের সঙ্গে সঙ্গে ভ্যাকসিন কিনতে চায় সরকার। এজন্য সরকারের অর্থ, স্বাস্থ্য ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জোরালোভাবে কাজ করছে। দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য ভ্যাকসিন নিশ্চিতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা ব্যয় হতে পারে বলেও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়কে জানিয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়। সংশ্লিষ্ট সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক অর্থ মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা বলেন, ‘দেশে মাথাপিছু আয় কম হওয়ায় বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মাধ্যমে মোট জনগণের ২০ শতাংশের জন্য ফ্রি ভ্যাকসিন পাওয়া যাবে। তবে, সেক্ষেত্রে দেরি হতে পারে। তাই দ্রুত ভ্যাকসিন পেতে কেনার দিকেই আগ্রহী সরকার। আর আমাদের সবার কাছে এ ভ্যাকসিন পৌঁছাতে আনুমানিক কত টাকা খরচ হতে পারে সে বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে আলোচনা করে জানতে পেরেছি প্রায় আট হাজার কোটি টাকা লাগতে পারে।’

তিনি বলেন, ‘ভ্যাকসিন কেনার জন্য বাজেটে আলাদা তেমন কোনো বরাদ্দ রাখা নেই। তবে, করোনা সংক্রান্ত জরুরি প্রয়োজনে খরচ করার জন্য ১০ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এ বরাদ্দ থেকেই ভ্যাকসিন কেনা সংক্রান্ত ব্যয় করা হবে। এজন্যই আমরা স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে এখনও ১০ কোটি টাকা থেকে কোনো বরাদ্দ দিচ্ছি না। তাদের জন্য যে অর্থ রাখা হয়েছে সেখান থেকেই বরাদ্দ দেয়া হচ্ছে’।

তিনি আরও বলেন, ‘প্রতিটি ভ্যাকসিনের দাম ৪০ ডলার হতে পারে বলে শুনেছিলাম। তবে পরে আরও কিছু প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমরা জানতে পারলাম ভ্যাকসিন কিনতে প্রায় আট হাজার কোটি টাকা প্রয়োজন হবে। তবে ভ্যাকসিন ক্রয়ের জন্য যে টাকা বরাদ্দ দেয়া হবে সেখানে সঠিক নিয়মে কার্যকরী ভ্যাকসিনটা যেন কেনা হয় সে শর্তাবলি দেয়া হবে’।

করোনার ভ্যাকসিন বিষয়ে জানতে চাইলে ২৪ আগস্ট সচিবালয়ে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেন, যেখানে দ্রুত ও সাশ্রয়ী মূল্যে কার্যকর ভ্যাকসিন বা টিকা পাওয়া যাবে সেখান থেকেই সংগ্রহ করা হবে।

তিনি বলেন, ‘ইতোমধ্যে বিশ্বের বেশ কয়েকটি দেশ ভ্যাকসিন উৎপাদনের অ্যাডভান্স স্টেজে চলে গেছে। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়, চায়নার বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ও রাশিয়া অ্যাডভান্স স্টেজে আছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ফাইজা এবং মডার্না অ্যাডভান্স স্টেজে আছে’।

মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা গত জুলাই মাসে এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগ করেছি। তারা আমাদের জানিয়েছে, যখন তারা ভ্যাকসিন পাবে নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোকে তারা ২০ শতাংশ পর্যন্ত ফ্রি দিতে পারবে। এমন আশ্বাস তাদের কাছ থেকে আমরা পেয়েছি’।

তিনি বলেন, ‘অন্যান্য দেশের যেসব প্রতিষ্ঠান ভ্যাকসিন উৎপাদনে এগিয়ে আছে তাদের সঙ্গেও যোগাযোগ আছে। এসব বিষয় প্রধানমন্ত্রীকে আমরা জানিয়েছি। চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত প্রধানমন্ত্রীই নেবেন। যখন সময় হবে প্রধানমন্ত্রীর কাছ থেকে আমরা সিদ্ধান্ত পেয়ে যাব। সিদ্ধান্ত পেলেই জানাতে পারব’।

এদিকে, প্রথম পর্যায়েই করোনার ভ্যাকসিন বাংলাদেশের সুলভ মূল্যে পাওয়া নিশ্চিতে গত ১০ আগস্ট সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বৈঠক করেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. আবদুল মান্নান। সভায় বিস্তারিত আলোচনা শেষে সর্বসম্মতিক্রমে বেশকিছু সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, দেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য করোনার টিকা নিশ্চিত করতে ১৩ মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে একটি সমন্বিত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বিশ্বের কোন দেশ থেকে কোন প্রক্রিয়ায় টিকা আনা হবে সে বিষয়টি নিয়ে আলাপ-আলোচনা ও দর কষাকষি শুরু করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সময়মতো প্রয়োজনীয় টাকা সরবরাহে অর্থ মন্ত্রণালয় কাজ শুরু করেছে।

যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া, চীন ও ভারতসহ বিশ্বের অনেক দেশ ভ্যাকসিন বা টিকা আবিষ্কারের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। কোন দেশের টিকা অধিক কার্যকর ও সহজলভ্য হবে সে বিষয়ে বুঝে সিদ্ধান্ত নিতে কাজ শুরু করেছে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। এছাড়া করোনার টিকা দেশের নাগরিকরা বিনামূল্যে পাবেন নাকি এর একটি আর্থিক মূল্য ধার্য থাকবে কিংবা কারা অগ্রাধিকার ভিত্তিতে টিকা পাবেন সে বিষয়েও রোডম্যাপে গাইডলাইন দেয়া হবে।

সূত্র আরও জানায়, সরকার এখন পর্যন্ত চার দেশের কাছে ভ্যাকসিন বিষয়ে তথ্য জানতে চিঠি দিয়েছে। দেশ চারটি হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, চীন এবং রাশিয়া। তবে তাদের কারও কাছ থেকেই ফিরতি কোনো জবাব পাওয়া যায়নি। কেবল চীন বাংলাদেশে তৃতীয় ধাপের ট্রায়াল দিতে চাইলেও অজানা কারণে তা এখনও সম্ভব হয়নি।

জানা গেছে, বিভিন্ন দেশ করোনার ভ্যাকসিন আবিষ্কারের পেছনে বিনিয়োগ করেছে। টিকা আবিষ্কার অনেক দূর এগিয়েছে। তাদের সঙ্গে সরকার যোগাযোগ রাখছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র সচিব মাসুদ বিন মোমেন।

সম্প্রতি এক অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, আমাদের উদ্দেশ্য হচ্ছে, যে ভ্যাকসিনগুলো আসছে বা আসবে সেটি কীভাবে দ্রুত এবং সুলভ মূল্যে পাওয়া যায় তা নিশ্চিত করা। এজন্য যে অর্থসংস্থান, সেটি রাখা আছে। প্রথম অবস্থায় ১৬ কোটি লোককে দেয়া যাবে না, তবে যারা স্বাস্থ্যকর্মী আছেন বা যারা অগ্রাধিকার পান, তাদের আগে দেয়া হবে।

মা-মেয়ে নির্যাতন : সেই চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে মামলা
সবুজ সিলেট ডেস্ক ::
কক্সবাজারের চকরিয়ায় গরু চুরির অপবাদে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের আলোচিত ঘটনায় অভিযুক্ত ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের বিরুদ্ধে মামলা করেছেন ভিকটিম পারভিন আক্তার। মামলায় চেয়ারম্যানসহ চারজনের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাত আরও ২০/৩০ জনকে আসামি করা হয়েছে।

মঙ্গলবার বিকালে চকরিয়া থানায় মামলাটি করেন পারভিন আক্তার। মামলা (নং-২২) জিআর ৩৫৭।

চকরিয়া থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) মো. হাবিবুর রহমান মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, ভুক্তভোগী পারভিন আক্তার বাদী হয়ে থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। ওই এজাহারটি মামলা হিসেবে লিপিবদ্ধ করা হয়েছে। এই মামলায় ইতিমধ্যে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বর্তমানে তারা জেলহাজতে রয়েছে। এই মামলার অন্যতম আসামি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামকে গ্রেপ্তারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।

বাদী পারভিন আক্তার চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া পৌরসভার আদিলপুর গ্রামের মৃত আবুল কালামের স্ত্রী। তারা বর্তমানে পটিয়া উপজেলার ৬নং ইউপির ৯নং ওয়ার্ডের শান্তিরহাট কুসুমপুর শহীদের বাড়ির ভাড়া বাসায় থাকেন।

গত ২১ আগস্ট চকরিয়ার হারবাং ইউনিয়নে কথিত গরু চুরির অভিযোগে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতন করে কিছু অতিউৎসাহী লোকজন। পরে তাদের প্রকাশ্যে সড়কে ঘুরিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে আসা হলে ইউপি চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম মিরানের নেতৃত্বে দ্বিতীয় দফায় মারধরসহ লাঞ্ছনা করা হয়। এমনকি চেয়ারম্যানের নির্দেশে কথিত গরু চুরির মামলা দিয়ে আদালতের মাধ্যমে পুলিশ তাদেরকে জেলহাজতেও পাঠায়।

ঘটনার একদিন পর মা-মেয়েকে রশি দিয়ে বেঁধে নির্যাতনের বিষয়টি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হলে পুরো দেশজুড়ে তোলপাড় শুরু হয়।

বাদী পারভিন আক্তার জানান, দুই বছর আগে তার স্বামী আবুল কালাম মারা যান। সংসারে দুই ছেলে ও পাঁচ মেয়ে রয়েছে। ছোট মেয়ে বেবি আক্তারের শ্বশুরবাড়ি চকরিয়া উপজেলার ডুলাহাজারা ইউনিয়নের মালুমঘাট হাইদারনাশি গ্রামে। সেখানে যাওয়ার উদ্দেশে তারা পটিয়া শান্তিরহাট থেকে মাইক্রোবাস যোগে সাতকানিয়া কেরানিহাট পর্যন্ত আসেন।

পারভিন জানান, তারা কেরানিহাট থেকে সিএনজি অটোরিকশা ভাড়া নিয়ে মেইন রোড দিয়ে চকরিয়া আসার পথে দুপুর দেড়টায় চকরিয়া মহাসড়কের হারবাং বৃন্দাবনখিল লালব্রিজ এলাকায় পৌঁছলে দুটি মোটর সাইকেলে করে ছয়জন লোক এসে তাদের সিএনজি অটোরিকশাটি ধাওয়া করতে থাকে। এক পর্যায়ে সিএনজি চালক ভয়ে হারবাং স্টেশন থেকে পশ্চিম দিকে রাস্তা দিয়ে চলতে শুরু করে। কিন্তু মোটরসাইকেলে থাকা ছয়জনসহ আরও লোকজন সিএনজিটি ধাওয়া করে হারবাং দক্ষিণ পহরচাঁদা এলাকা দিয়ে নির্মাণাধীন রেললাইনের রাস্তার পাশে এনে তাদেরকে আটক করে।

তিনি বলেন, আমরা (মা-মেয়েসহ পাঁচজন) সিএনজি থেকে নেমে শোর-চিৎকার শুরু করলে আশপাশের লোকজন জড়ো হয়। এসময় আমাদেরকে পেছনে ধাওয়া করে আসা মোটরসাইকেল আরোহীরাসহ আরও কয়েকজন ঘটনাস্থলে পৌঁছে আমাদেরকে আটক করে এবং ভীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে। ওই সময় মোটরসাইকেলে করে আসা লোকজন ও অজ্ঞাত লোকজন আমাদের বিরুদ্ধে মিথ্যে গরু চুরির অপবাদ দিয়ে মা-মেয়েসহ পাঁচজনকে বেধম মারধর, শ্লীলতাহানি ও নির্যাতন করে। এক পর্যায়ে আমাদের কাছে থাকা ব্যবহৃত স্বর্ণালংকার, নগদ ৫০ হাজার টাকা ও মোবাইল সেট লুট করে নিয়ে যায়। এরপর আমাদেরকে চুরির মিথ্যা অপবাদে কোমড়ে রশি দিয়ে বেঁধে বিভিন্ন ধরনের মানহানিকর, আপত্তিকর ও অশ্লীল গালিগালাজ দিয়ে রাস্তায় ঘুরিয়ে চেয়ারম্যানের নির্দেশে বিকাল ৫.৩০ টায় ইউনিয়ন পরিষদের কার্যালয়ে নিয়ে আসে।

ঘটনার বিবরণে বাদী পারভীন আক্তার আরও জানান, চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলাম তাদের কোনো কথা না শুনে ইউপি কার্যালয়ে দ্বিতীয় দফায় তাদেরকে কাঠের চেয়ার ও লাঠি দিয়ে মারধর ও নির্যাতন করেন। এক পর্যায়ে তার মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলির তলপেটে লাথি মারেন এবং অকথ্য ভাষায় গালিগালাজও করেন।

প্রাপ্ত তথ্যে আরও জানা গেছে, চুরির অপবাদে চেয়ারম্যান মিরানুল ইসলামের নির্দেশে মা পারভিন আক্তার (৪০), ছেলে মো. এমরান (২১), তার বন্ধু ছুট্টো (৩৫), দুই মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলি (২৮) ও রোজিনা আক্তারকে (২৩) পুলিশের কাছে সোপর্দ করে। কথিত গরুর মালিক দাবিদার মাহবুবুল আলমকে দিয়ে থানায় সাজানো একটি মামলা করেন। ওই মামলায় পুলিশ তাদেরকে গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে গত শনিবার (২২ আগস্ট) জেলহাজতে পাঠায়।

চকরিয়া আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. ইলিয়াছ আরিফ জানান, রবিবার সন্ধ্যায় ঘটনাটি তুলে ধরে চকরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিচারক রাজিব কুমার দেবের আদালতে আসামিদের জামিনের জন্য প্রার্থনা করেন তার নেতৃত্বে কোর্টের আইনজীবীরা। এ সময় আদালতের বিচারক আসামিদের আদালতে উপস্থিত করার জন্য নির্দেশ দেন। পরে পুলিশ সোমবার সকালে মা পারভীন আক্তার, মেয়ে সেলিনা আক্তার সেলি ও রোজিনা আক্তারসহ পাঁচজনকে আদালতে উপস্থিত করেন। এ সময় আদালত মা-মেয়েসহ তিনজনকে জামিন দেয়। অন্য দুজনের জামিন নামঞ্জুর করে জেলহাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেয়। তারা দুজন হলেন মো. ছুট্টো (২৭) ও মো. এমরান (২১)।

এদিকে, মা ও দুই মেয়েসহ পাঁচজনকে রশি বেঁধে নির্যাতনের ঘটনা গত শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়ে পড়লে প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের টনক নড়ে। এমনকি বিষয়টি ইলেক্ট্রনিক্স মিডিয়া, জাতীয়, আঞ্চলিক ও স্থানীয় পত্রিকা এবং অনলাইন মাধ্যমে ফলাও করে প্রচারিত হলে বিষয়টি চকরিয়ার সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট রাজিব কুমার দেবের নজরে আসে। তিনি জনস্বার্থে স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে একটি মামলা গ্রহণ করেন। মামলাটি চকরিয়া সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার কাজী মতিউল ইসলামকে সাত কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। নির্দেশনা পাওয়ার পর তিনি ঘটনাস্থলে সরেজমিনে তদন্তও শুরু করেছেন।

ঘটনাটি ইলেক্ট্রনিক্স, প্রিন্ট মিডিয়া ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের নির্দেশে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটি তদন্ত কমিটি গঠন করেন। কমিটিতে কক্সবাজারের স্থানীয় সরকার বিভাগের ডিডিএলজি (উপ-সচিব) শ্রাবস্তি রায়কে আহ্বায়ক ও চকরিয়ার সহকারী কমিশনার (ভূমি) তানভীর হোসেন এবং হারবাং ইউনিয়নের উপজেলা ট্যাগ অফিসারকে তদন্ত কমিটির সদস্য করা হয়েছে। তাদেরকে তিন কার্যদিবসের প্রতি মধ্যে সরেজমিনে তদন্ত করে প্রতিবেদন দেয়ার জন্য নির্দেশনা দেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে তদন্ত কমিটি গত সোমবার সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্য গ্রহণ করেন। এছাড়াও চকরিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সৈয়দ শামসুল তাবরীজ নিজেও একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে সরেজমিনে গিয়ে তদন্ত কাজ শুরু করেন।

ঘটনায় ভিডিও ফুটেজ দেখে থানা পুলিশ সোমবার বিকালে হারবাংয়ের মাহবুবুল হকের ছেলে নজরুল ইসলাম, ইমরান হোসেনের ছেলে জসিম উদ্দিন, জিয়াবুল হকের ছেলে নাছির উদ্দীনকে গ্রেপ্তার করেছে।

ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেয়া ন্যাশনাল হিউম্যান রাইটস কমিশনের সহকারী ডাইরেক্টর মো. শাহ পরাণ ঢাকা টাইমসকে বলেন, এটি একটি ন্যাক্কারজনক ঘটনা। এই ধরনের ঘটনা কোনোভাবেই মেনে নেয়া যায় না। এজন্য আমাদের পক্ষ থেকে ভুক্তভোগীদের আইনি সহায়তা দেয়া হচ্ছে। ইতিমধ্যে এজন্য আমরা একজন আইনজীবী নিয়োগ দিয়েছি।

চকরিয়া সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের আইনজীবী ও এপিপি অ্যাডভোকেট শহিদুল্লাহ এই মামলাটি পরিচালনা করবেন বলেও তিনি জানান।

ভারতে বহুতল ভবন ধসে নিহত ১১
আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
সোমবার সন্ধ্যা ৬টা ৫০ মিনিটের দিকে মহারাষ্ট্রের রায়গড় জেলার মাহাদ শহরের কাজলপুর এলাকায় আকস্মিকভাবে বাড়িটি ভেঙে পড়ে বলে জানিয়েছে ভারতীয় গণমাধ্যম। এলাকাটি মুম্বাই থেকে ১২০ কিলোমিটার দক্ষিণে।

আনন্দবাজার পত্রিকা জানায়, ঠিক কী কারণে ভবনটি ধসে পড়েছে তা পরিষ্কার হয়নি। তবে গত কয়েকদিন ধরে চলা ভারি বৃষ্টিপাতে কারণে ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

পাঁচ তলা ওই ভবনটিতে ৪৫টি ফ্ল্যাট ছিল এবং অধিবাসী ছিল ৯৫ জন। ঘটনার সময় ৭৫ জন বের হয়ে আসতে সক্ষম হয়েছে, বলছে পুলিশ। কয়েকটি খবরে বলা হয়েছে, বাড়িটি ১০ বছরের পুরোনো।

জাতীয় বিপর্যয় মোকাবিলা বাহিনীর উদ্ধারকাজ চালাচ্ছে। স্থানীয় মানুষরাও উদ্ধারকাজে নেমেছেন। ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে উদ্ধারের কাজ অব্যাহত আছে।

গত মাসে ভারি বৃষ্টিপাতের মধ্যে মুম্বাইয়ে একটি বহুতল ভবন ধসে পড়ে নয় জন নিহত ও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছিল।

হবিগঞ্জে পাওনা টাকা নিয়ে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ১
হবিগঞ্জ প্রতিনিধি ::
হবিগঞ্জে পাওনা টাকার জেরে ছুরিকাঘাতে যুবক খুন, আটক ১
হবিগঞ্জ শহরে পাওনা টাকা নিয়ে বিবাদে প্রতিপক্ষের ছুরিকাঘাতে জাহাঙ্গীর মিয়া (২৬) নামের এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত সুমন মিয়াকে (১৮) আটক করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের অন্ততপুর এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

নিহত জাহাঙ্গীর মিয়া শহরের মোহনপুর এলাকার আব্দুল মন্নাফের ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে শহরের অনন্তপুর এলাকায় ভাড়া থাকেন।

হবিগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাসুক আলী জানান, পাওনা টাকা নিয়ে জাহাঙ্গীর মিয়া ও সুমন মিয়ার মধ্যে বিরোধ চলছিল। এর জের ধরে বিভিন্ন সময় দু’জনের মধ্যে কথা কাটাকাটি হয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় জাহাঙ্গীর মিয়াকে একা পেয়ে ছুরিকাঘাত করে সুমন।

গুরুতর আহত অবস্থায় স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে হবিগঞ্জ সদর আধুনিক হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখান থেকে চিকিৎসকের পরামর্শে সিলেটে নিয়ে যাওয়ার পথে তার মৃত্যু হয় বলেও জানান তিনিই।

পুলিশের এ কর্মকর্তা আরও জানান, এ ঘটনায় পুলিশ অভিযান চালিয়ে সুমন মিয়াকে আটক করেছে। তার কাছ থেকে হত্যায় ব্যবহৃত ছুরিটি উদ্ধার করা হয়েছে।

  •