নগরীতে নম্বর প্লেইটবিহীন রিকশার ছড়াছড়ি

28

রাধে মল্লিক তপন ::
নগরীতে নম্বর প্লেটবিহীন রিকশার চলাচল ব্যাপকভাবে শুরু হয়েছে। নগরীর অলিগলি থেকে শুরু করে বিভিন্ন পয়েন্ট হয়ে সড়কে চলাচল করে এসব নম্বর প্লেটবিহীন রিকশা। এসব অবৈধ রিকশা চলাচলে নগরীতে বাড়ছে যানযট। যানযটের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে এসব অবৈধ রিকশা।
সিলেট সিটি কর্পোরেশনের হিসাব অনুযায়ী নগরীতে রয়েছে ১৩ হজার ৬৭টি বৈধ রিকশা। কিন্তু বৈধ রিকশার চেয়ে প্লেটবিহীন অবৈধ রিকশা প্রায় ৩ গুণ। এসব অবৈধ রিকশার ছড়াছড়ির কারণে নগরীতে যানজটসহ বিভিন্ন দুর্ঘটনা শিকার হচ্ছেন যাত্রী ও পথচারীরা। অবৈধ নম্বর প্লেটবিহীন রিকশা নিয়ন্ত্রণ আনতে কোনো উদ্যোগ নেই ট্রাফিক পুলিশ ও সিটি কর্পোরেশনের।

নগরীর কিছু কিছু এলাকায় প্রয়োজনের তুলনায় এসব রিকশা অনেক বেশী। তাছাড়া এসব রিকশার বৈধতা সম্পর্কে জানেন না অনেক চালকও। নগরীতে নম্বর বিহীন রিকশার চলাচল বাড়ায় এতে বড় অংকের রাজস্ব হারাচ্ছে সিলেট সিটি করপোরেশন। অবৈধ রিকশা নিয়ন্ত্রণ করে নির্দিষ্ট সংখ্যক রিকশা নিবন্ধনের আওতায় আনা হলে নাগরিক দুর্ভোগ কমার পাশাপাশি বাড়বে রাজস্ব।

কিছু দিন পূর্বে সিলেট সিটি কর্পোরেশন নগরীতে নম্বর প্লেটবিহীন অবৈধ রিকশা ও ভ্যান চলাচল বন্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করলে অনেক অবৈধ রিকশা ও ভ্যান জব্দ করা হয়। এতে সড়কে কিছুদিন যাবত নম্বর প্লেটবিহীন রিকশা চলাচল বন্ধ হলেও ফের নগরীতে চলাচল করছে এসব অবৈধ নম্বর প্লেট বিহীন রিকশা ও ভ্যান।

সরজমিনে নগরীর বন্দরবাজার, জিন্দাবাজার, সোবাহানীঘাট, শিবগঞ্জ, টিলাগড়, আম্বরখানাসহ বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিক নম্বর প্লেটবিহীন রিকশা নজরে পরে। আবার কখনো কখনো প্লেট দিয়ে একাধিক রিকশা চালাতে দেখা যায়।

এ বিষয়ে যাত্রী দিতি দাশ বলেন ‘নগরীতে রিকশা-ভ্যানের নিয়ন্ত্রণ নেই। অবৈধ রিকশার ছড়াছড়ি। বোঝাযায় বৈধ লাইসেন্সধারী রিকশার তুলনায় ১৫ গুণ বেশি রিকশা নগরীতে চলছে। প্রতিদিন রিকশা চড়ে বাসা থেকে অফিসে আসতে হয়। ভাড়ায়ও নেই নিয়ন্ত্রণ। অতিরিক্ত রিকশার কারণে সড়কে ঘটছে দুর্ঘটনা। আমি মনে করি এ ব্যাপারে প্রশাসনের একটু নজর দেওয়া উচিত।

সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা বিধায়ক রায় চৌধুরী বলেন, আমাদের এখানে এখনো নতুন ম্যাজিস্ট্রেট আসেননি। নতুন ম্যাজিস্ট্রেট আসলে অবশ্যই আমরা এসব অবৈধ রিকশার বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করবো। তাছাড়া প্রশাসন চাইলেই এসব অবৈধ রিকশা চলাচল নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। আমাদের তরফ থেকে মেয়রও অনেক সময় এসব অবৈধ যানবাহন ধরপাকড় করে। প্রয়োজনে আমরাও মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করব।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সিলেট সিটি করপোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকে কল দিলে তিনি রিসিভ করেননি।

  •