বিয়ানীবাজারে ডিজিটাল অপরাধে ৪শ’ জিডি

14

মিলাদ জয়নুল, বিয়ানীবাজার ::
বিয়ানীবাজারে উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে ডিজিটাল-প্রযুক্তিগত অপরাধ। হুমকি, যৌন হয়রানী, অশ্লীল কথোপকথন, মানসিক হয়রানী, প্রতারণা, ভয়-ভীতি প্রদর্শনসহ আধুনিক নানা অপরাধও সংঘটিত হচ্ছে মোবাইল ফোনের কারণে। এখানে ব্যক্তিগত, সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক জগতে ডিজিটাল অপরাধের শঙ্কা দিন দিন বৃদ্ধি পাওয়ার কারণে সচেতনমহলে বিরাজ করছে নানাবিধ উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা।

বিয়ানীবাজার উপজেলায় তথ্যপ্রযুক্তির সবচেয়ে বড় ব্যবহারকারী এখন নতুন প্রজন্মের তরুণ-তরুণী, যুবারা। এদের সিংহভাগ ছাত্রছাত্রী। একসময়ে তারা কেবল মোবাইল ফোন ব্যবহার করত। মোবাইলেও এখন আর কেবল কথা বলা নয়। ইন্টারনেটসহ বিভিন্ন ধরনের কাজে এখন ব্যাপকভাবে মোবাইল ব্যবহৃত হয়। মোবাইল ফোনের ক্যামেরা প্রযুক্তিও প্রচলিত ফটোগ্রাফির জগৎকে ব্যাপকভাবে ছাড়িয়ে গেছে। নানা ধরনের অ্যাপস এখন মোবাইলকে কম্পিউটারে পরিণত করেছে।

আধুনিক মোবাইল ফোন ব্যবহার করে তারা ওয়েবসাইটের বিভিন্ন পর্ণসাইটে ঢুকে মানসিকভাবে অনেকটা বিকৃত হয়ে পড়ে বলে জানান নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক। তিনি বলেন, মোবাইলে রেকর্ডকৃত বাংলা ও হিন্দি ছায়াছবির গান, ইংরেজী ছবির অশ্লীল ও ভয়ানক দৃশ্য, ইন্টারনেটে ঢুকে বিভিন্ন অশ্লীল চিত্র দর্শন করে। অনেক শিক্ষার্থী মোবাইল ব্যবহার করার কারণে অভিভাবকদের একটু অসচেতনতায় পড়ার টেবিলেও মোবাইল ফোনের অবাধ ব্যবহার করে। বিশেষ করে তরুণীদের মোবাইল ফোনে যৌন হয়রানী, মানসিক হয়রানী করে একশ্রেণীর অসাধু তরুণ। কেউ কেউ আবার অপরপ্রান্তে মেয়েলী কণ্ঠ শুনেই অশ্লীল কথোপকথন শুরু করে। মানসিক হয়রানীর অংশ হিসেবে সময়ে-অসময়ে অন্য মোবাইল ফোনে মিসড কল, ম্যাসেজ প্রেরণ করে থাকে। যা তরুণী কিংবা মহিলাদের মোবাইল ফোন ব্যবহারে বিড়ম্বনার প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

বিভিন্ন সূত্র জানায়, পূর্ব বিরোধের অংশ হিসেবে একজন অন্যজনকে ফাঁসাতে মোবাইল ফোনে নামে-বেনামে মিথ্যা হুমকিও প্রদান করে। চলতি বছরের পহেলা জানুয়ারি থেকে গত ৩১ জুলাই পর্যন্ত বিয়ানীবাজার থানায় মোবাইল ফোনে হুমকি, ভয়-ভীতি প্রদর্শন, মহিলাদের মানসিক হয়রানী জনিত বিষয় উল্লেখ করে প্রায় ৪ শতাধিক সাধারণ ডায়েরী করা হয়েছে বলে জানা গেছে। সবগুলো সাধারণ ডায়রী বা জিডি বেশ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করে পুলিশ।

এ সংক্রান্ত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থার কথা জানিয়ে ওসি অবণী শংকর কর জানান, আমরা প্রযুক্তির মাধ্যমে অপরাধীকে সনাক্ত করার চেষ্টা করি। চলতি বছরের বিভিন্ন সময়ে প্রায় এক ডজন যুবককে মোবাইল ফোন সংক্রান্ত নানা অভিযোগের জের ধরে থানা পুলিশ আটক করে। পরবর্তী সময়ে মুচলেকার মাধ্যমে তাদের ছেড়ে দেয়া হয়।
বিয়ানীবাজার আদর্শ মহিলা কলেজ কর্তৃপক্ষ একাধিকবার মোবাইল ফোন জব্দ করেও ছাত্রীদের ফোন ব্যবহার বন্ধ করতে পারেননি।
অনুসন্ধানে জানা যায়, তরুণ-তরুণীদের মোবাইল ব্যবহারের প্রবণতা বৃদ্ধি পাওয়ার সাথে সাথে অধ্যবসায়ের ক্ষেত্রে তারা পিছিয়ে যাচ্ছে। অনেক কলেজপড়–য়া শিক্ষার্থী গভীর রাত অবধি মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত থাকার কারণে দৈনন্দিন কাজেও তারা বাধাগ্রস্থ হচ্ছে। অথচ এই বয়সে তাদের শিক্ষা এবং অধ্যবসায়ের প্রতি মনোনিবেশ করার মোক্ষম সময়। কিন্তু মোবাইল আসক্তি তাদের বিপথগামীতার দিকে ধাবিত করছে বলে সচেতন মহল মনে করছেন।

এসব বিষয়ে পূর্ব মুুড়িয়া উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো: খালেদ আহমদ বলেন, পারিবারিক সতর্কতা প্রযুক্তিগত অপব্যবহার বন্ধ করতে পারে। তাছাড়া সরকারী বিধিমালাও অনেক ক্ষেত্রেও মোবাইলের অপব্যবহার নিয়ন্ত্রনে সহায়ক হতে পারে।

  •