ফারুকী হত্যা: ছয় বছর ধরেই তদন্ত চলছে

26
ফাইল ছবি

সবুজ সিলেট ডেস্ক :: ছয় বছরে আদালত থেকে দফায় দফায় সময় বাড়িয়ে নিয়েও বেসরকারি টেলিভিশনে ইসলামী অনুষ্ঠানের উপস্থাপক মাওলানা নূরুল ইসলাম ফারুকী হত্যার তদন্ত শেষ করতে পারেনি সিআইডি।

চার হাত ঘুরে পঞ্চম কর্মকর্তা হিসেবে মামলাটির তদন্তভার এখন সিআইডির সিরিয়াস ক্রাইম স্কোয়াডের অতিরিক্ত বিশেষ পুলিশ সুপার রাজীব ফরহানের হাতে।

তিনি বলতে পারেননি, কবে নাগাদ শেষ হবে আলোচিত এই হত্যা মামলাটির তদন্ত। যদিও তদন্ত শেষে দ্রুত অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার আশা ব্যক্ত করছেন এই পুলিশ কর্মকর্তা।

মাওলানা ফারুকী ‘চ্যানেল আই’র ধর্মীয় অনুষ্ঠান ‘কাফেলা’ ও ‘শান্তির পথে’, ‘মাই টিভি’র লাইভ অনুষ্ঠান ‘সত্যের সন্ধানে’র উপস্থাপক ছিলেন। তিনি আহলে সুন্নাত ওয়াল জামায়াত বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক সম্পাদক, সুপ্রিম কোর্ট জামে মসজিদের খতিব ছিলেন। একটি হজ এজেন্সিও ছিল তার।

২০১৪ সালের ২৭ অগাস্ট রাজধানীর পূর্ব রাজাবাজারের বাসায় তাকে কুপিয়ে ও গলা কেটে হত্যা করে দুর্বৃত্তরা। এ ঘটনায় তার ছেলে একটি ডাকাতি মামলা দায়ের করেন।

সর্বশেষ গত ২৩ এপ্রিল মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন আদালতে দাখিলের জন্য দিন ধার্য ছিল। কিন্তু করোনাভাইরাস মহামারীর সে সময় সাধারণ ছুটিতে আদালত বন্ধ ছিল। ছুটি শেষে আগামী ১ সেপ্টেম্বর প্রতিবেদন দাখিলের পরবর্তী তারিখ ধার্য করেছেন একজন মহানগর হাকিম।

আদালতের নথিপত্রে দেখা গেছে, মামলাটির তদন্ত প্রতিবেদন দিতে এ পর্যন্ত ৫০ বার সময় নিয়েছে তদন্ত সংস্থা।

মামলার বতর্মান তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব ফরহান বলেন, “মামলাটি তদন্তাধীন। মাঝে করোনাভাইরাসের কারণে তদন্ত কিছুটা বিলম্বিত হয়। এখন অগ্রগতি ভালো।”

তিনি বলেন, “হাদিসুর রহমান সাগর নামে এক আসামি আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে। জবানবন্দিতে আরো নতুন নতুন আসামি জড়িত থাকার তথ্য পাওয়া গেছে। তাদের মধ্যে কেউ দেশে আছে, আবার কেউ দেশের বাইরে।

“এদের মধ্যে একজন কলকাতায় আছেন। তার নাম ঠিকানা পাওয়া গেছে । তিনি একজন প্রাইম সাসপেক্ট। তাকে দেশে ফিরিয়ে আনতে রাষ্ট্রীয়ভাবে চিঠি চালাচালি হচ্ছে। আর একজন রাজধানীর বাড্ডা এলাকার একটি জঙ্গি তৎপরতায় যুক্ত হয়ে কারাগারে রয়েছেন। তাকে ফারুকী হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো ও রিমান্ড চেয়ে গত মার্চ মাসে ঢাকার মুখ্য মহানগর হাকিম আদালতে আবেদন করেছিলাম। কোভিড-১৯ সংক্রমণের কারণে আদালতে স্বাভাবিক কাজ বন্ধ থাকায় এগুনো যায়নি।”

এর আগে ফারুকী পুত্র ফয়সাল ফারুকী বলেছিলেন, হত্যাকারীরা অগতান্ত্রিক অন্ধ যুক্তিহীন ইসলামী ভিন্ন মতবাদীদের শিকার। তার বাবার প্রগতিপন্থী মতবাদ সহ্য করতে না পেরে পৃথক মাযহাবের গোষ্ঠীদের ইন্ধনে জঙ্গিগোষ্ঠী এ কাজ করেছে। তাদের সমর্থকরা আন্তজাতির্কভাবেও শক্তিশালী এবং রাজতন্ত্রের সমথর্ক।

এ প্রসঙ্গে তদন্ত কর্মকর্তা রাজীব ফরহান বলেন, নিহতের ছেলের মুখে তিনিও এমন কথা শুনেছেন, যা বিশ্লেষণ করার চেষ্টা করে তদন্তে সেদিকেও আলোকপাত করা হবে।

এদিকে আসামিপক্ষের একজন আইনজীবী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, তদন্ত শেষ না হওয়ায় আসামিদের ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

“প্রতি ধার্য তারিখে তাদের আদালতে হাজিরা দিতে হয়। এদের মধ্যে অনেকে গরিব। আদালতে আসার খরচও তাদের থাকে না,” বলেন এই আইনজীবী।

এই হত্যা মামলায় হাদিসুর রহমান সাগর ছাড়াও আব্দুল গাফ্ফার, মিঠু প্রধান ও খোরশেদ আলম, রাকিব ওরফে ইঞ্জিনিয়ার রাকিব, তারেকুল ইসলাম মিঠু, আলেক ব্যাপারি, মোজাফ্ফর হোসেন ওরফে সাঈদ গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে অনেকেই জামিন পেয়ে গেছেন।

বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, এছাড়া ৫৪ ধারায় আরো চারজন গ্রেপ্তার হয়েছেন। তাদের মধ্যে কাউকে এ মামলায় আসামির তালিকায় আনা হয়েছে আর কাউকে আনা হচ্ছে।

  •