করোনার পরে সাহিত্য….

4

শিল্প ও সাহিত্য ::প্রথম ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পরে অনেক কাজ হয়েছে। সেই অভিজ্ঞতার আলোকে দুনিয়ার সাহিত্য ভাণ্ডারে মূল্যবান সম্পদও জমা হয়েছে। করোনার মহামারী শেষ হতে চললেও সাহিত্যে করোনাকে বিষয় করে রচিত সাহিত্য মহামারীর মতো বিস্তার লাভ করার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে- করোনা-উত্তরকালে। করোনার পরের সাহিত্য কেমন হবে তা ইতিহাসের আলোকে আগাম বলা সম্ভব। উনিশ শতক ছিল রেনেসাঁর যুগ। বিশ শতক ছিল প্রযুক্তির, আধুনিকতা ও জাতিরাষ্ট্রের বিস্তারের যুগ আর একুশ শতক হল শুধু ডিজিটাল না বরং প্রকৃত ফ্যানাটিক/হুজুগের যুগ। তাই এ যুগের সাহিত্যও মোটা দাগে ফ্যানাটিক বা হুজুগে লেখকদের শব্দ-জঞ্জাল তৈরির কসরতে পরিণত হবে এটাই স্বাভাবিক।

কিন্তু এভাবে মোটাদাগে আগাম বলে দিলেই বিষয়টির সুরাহা হয় না। শুধু করোনা কেন? যে কোনো ঘটনার সঙ্গে সত্য ও সাহিত্যের সম্পর্ক বিচারের প্রশ্নটি খতিয়ে না দেখলে এ বিষয়ে চিন্তার হক আদায় করা হয় না। কিন্তু এখানে বিস্তারিত আলোচনার যেহেতু সুযোগ নেই তাই অতি সংক্ষেপে কয়েকটি পয়েন্টে আলোচনা করা হল।

১.

সাহিত্য কি? কেন এক ধরনের লেখা সাহিত্য বলে গণ্য হয় এবং এক ধরনের লেখা সাহিত্য হিসেবে বিবেচনায় নেয়া হয় না? এ প্রশ্নটা জ্যাক দেরিদা খুব গুরুত্ব দিয়ে তুলেছেন। সাহিত্যবিষয়ক ধারণা দেরিদার জন্মের আগে একরকম ছিল এবং তার জন্মের পরে সেই ধারণার আমূল বদল ঘটেছে। এবং বিষয়টি ইউরোসেন্ট্রিক বা পশ্চিমা ভূগোলেই সীমাবদ্ধ নয়। সাহিত্য, রচনা, অর্থ, ভাষা, প্রকাশ এবং খোদ লিখন প্রক্রিয়ায় দার্শনিক ভিত্তিই ডিকন্সট্রাক্ট বা পুনর্নির্মাণ থেকে শুরু করেছে দেরিদার ইন্টারভেনশনের পর থেকে। আমাদের জন্য সবচেয়ে দরকারি পয়েন্ট হল, খোদ লিখন প্রক্রিয়াটির দার্শনিক অনেকে দেরিদার এ ইন্টারভেনশনকে ভাষাতাত্ত্বিক ব্যাপার বলে চালিয়ে দিতে চান।

কিন্তু বিষয়টি কেবলই ভাষাগত নয়। আবার অনেক সময় তার চিন্তাকে খুব সরলভাবে অনুবাদ করার ফলে চটকদার ভাষ্য উনার নামে চাউর হতে শুরু করে। গভীর দৃষ্টি ও ধ্যানী মন নিয়ে চিন্তার প্রতি মনোযোগী হওয়ার মানসিকতা না থাকায় খণ্ডিত ও আরামদায়ক পাঠই মূল ভাষ্য হিসেবে দাঁড়িয়ে যায়। বাংলাদেশি বংশজাত পরিচিত তাত্ত্বিক গায়ত্রী স্পিভাক দেরিদার নামে অনেক আজগুবি কথা চালু করেছেন। ভুল অনুবাদও করেছেন, পরে সেগুলা আবার বাংলাতে মানুষ এমন ভাবে এনেছেন যে, দেরিদার বক্তব্যের উল্টো ভাষ্যই এখানে চালু হয়েছে। এটাও আবার পণ্ডিতরা বিনাবাক্যে মেনে নিয়ে গর্ব ভরে নাম জপেন। একটা ছোট উদাহরণ দিই- খুব জনপ্রিয় একটি কথা দেরিদার নামে চালু করা হয়েছে ‘there is nothing outside the text’, ‘রচনা’ বা লিখিত কিতাবের বাইরে কিছু নেই। ফরাসিতে, “il n’y a pas de hors-texte’, দেরিদার এই বিখ্যাত উক্তিটির প্রকৃত অনুবাদ হবে, ‘there is no outside-text’, অর্থ হবে, বাইরে থেকে বা ট্রান্সিডেন্টাল মানে লোকোত্তর বা মনুষ্যজ্ঞানের অতীত কোনো কিছু থেকে রচনা বা কিতাব সৃষ্টি হয় না (মনে রাখতে হবে, এখানে মানুষের লেখালেখি নিয়ে কথা হচ্ছে, ঐশী কিতাব নিয়ে নয়)। অথচ অনুবাদে ঠিক উল্টো অর্থটাই চালু করা হয়েছে। এবং এখন প্রশ্ন হল, এই যে মানুষের বাইরে কিতাবের কোনো আবির্ভাব নেই এ বিষয়টির সঙ্গে কোনো ঘটনা ও সত্যের সম্পর্ক কি? মানুষ যখন কোনো বিশেষ বা অবিশেষ অভিজ্ঞতার বা কোনো বাস্তবতার ভেতর দিয়ে যায় তখন কোন বিষয়কে, ইভেন্ট মানে ‘বিশেষ ঘটনা’ আর কোন বিষয়টিকে কোনো ঘটনাই মনে করে না তা কীভাবে নির্ণয় করা হবে? এখানেই কোনো ঘটনা পরবর্তী লিখিত বিষয়ের সঙ্গে ব্যক্তি মানুষের সত্যের সাধনার সম্পর্ক। দেরিদার আলোচিত মডেল বা আবিস্কার, ‘ডিফারেন্স’। এই যে কোন ঘটনা আদতে যা, আর মানুষ যা প্রকাশ করে এর মধ্যে যে পার্থক্য সূচিত হয় এটাই মানুষকে সত্যের প্রকৃত স্বরূপ বুঝতে অসুবিধায় ফেলে। এখানে আমাদের আলোচ্য বিষয় হল, সাম্প্রতিক মহামারী। তো এটার ওপর রচিত সাহিত্য বা লেখালেখি আর এটার প্রকৃত স্বরূপের পার্থক্য এতটাই যে আদতে আমরা এখনও জানি না করোনা আসলে কি? এক একজন এক এক রকম সত্য প্রচার করছে। ফলে এ অজানাকে ‘জানি’ বলে ধরে নেয়া এবং তার ওপর ভিত্তি করে সাহিত্য ও লেখালেখির পাহাড় নির্মাণ করা শুরু করলে সেটা একটা শব্দের বিশাল অট্টালিকা হতে পারে কিন্তু তার সঙ্গে সত্যের কোনো সম্পর্ক থাকবে না। এ পার্থক্যকে বুঝতে পারা এবং এটাকে মোকাবেলা করাই সত্যের জন্য সংগ্রাম করা। আর কে না জানে যে কোনো মহত্তম কর্ম তার আপন সত্যের কাছে পৌঁছানোর সংগ্রাম ছাড়া কোনো তাৎপর্য ধারণ করতে পারে না। ফলে করোনার পরের সাহিত্য প্রচেষ্টায় এ সাধনার লক্ষণ দেখা যাবে বলে মনে হয় না। কারণ আগেই বলেছি, যুগটাই যে হুজুগের।

২.

কোনটা বিশ্ব-সাহিত্য, কোনটা নয়? এটা কে ঠিক করবে? সাহিত্য বা লিখন বিষয়বস্তু সবসময়ই প্রচারের রাজনীতির সঙ্গে সম্পর্কিত। তো এমন ফ্যানাটিক যুগে কোনো বৈশ্বিক ঘটনাকে নিয়ে ‘সাহিত্য’ করার মানেই কি বিশ্ব-সাহিত্য চর্চা করা? বিশ্ব-সাহিত্য ধারণাটি আধিপত্য ও ক্ষমতার রাজনীতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। ভাষা একটি চিহ্ন ব্যবস্থা ফলে, যে কোনো চিহ্ন ব্যবস্থায় লিখিত সাহিত্যই বিশ্ব-সাহিত্য হয়ে উঠতে পারার কথা কিন্তু তা হয় না। একদিকে ইংরেজি অন্য দিকে দুনিয়ার সব ভাষা। আমির মুফতি যেটাকে বলছেন, ‘ইংরেজি বিশ্ব ও তার অপর’। বিশ্ব-সাহিত্যের বিশ্বটা কোথায় আসলে? ফলে এ বাস্তবতায় একটা মহামারীর মতো ঘটনাতে যখন দুনিয়ার সব লোকই কম বেশি কোনো না কোনো মাত্রায় ক্ষতিগ্রস্ত তখন সেই ঘটনা উত্তর সাহিত্যের ঢেউকে বিশ্ব-সাহিত্য কাঠামোর এ অসাম্যের অবস্থায় কিভাবে বিচার করা হবে তা নিয়ে চিন্তা করতে হবে। বাংলাদেশের চরের এলাকায় একটা গরিব লেখকের লেখা আর নিউইয়র্কের এক লেখকের করোনাবিষয়ক লেখালেখির মধ্যে যে বিপুল পার্থক্য তা তো শুধু কোন ‘সাহিত্য’বিষয়ক প্রশ্ন নয়।

৩.

খোদ লিখন প্রক্রিয়ার একটি রাজনীতি আছে। আগেই বলেছি যে কোনো ধরনের লেখালেখি এক ধরনের প্রচার প্রক্রিয়ার অংশ। আধুনিক এবং আধুনিকোত্তর সময়ে লেখালেখিতে সত্যের হাজিরার চেয়ে ভাষার কচকচানি একটি বড় মনোযোগের জায়গা দখল করে আছে। লেখালেখি যেন হয়ে উঠেছে, লিঙ্গুইসটিক পারফর্মের এক রঙ্গমঞ্চ। এবং এ ধরনের লিখন প্রক্রিয়ার সঙ্গে সেল্ফ-সেন্সরশিপের একটা সম্পর্ক আছে। সেটা সহজে ব্যাখ্যা করার জন্য উমবার্তো ইকোর ‘অ্যাবসুলেট লাইং’ বিষয়ক ধারণাটি কাজের। সাহিত্যে ট্রুথফুল লাইং বা সত্যিকারের মিথ্যার একটা স্বরূপ দেখা যায়।

অন্যদিকে, শব্দের সহযোগে উৎপাদিত সাহিত্য একধরনের সেল্ফ সেন্সর প্রক্রিয়া তৈরি করে। সত্য ও সত্তার সঙ্গে সম্পর্কগুলো বিবেচনায় না নিয়ে চলতি আমোদে মেতে বা নিজের ‘ব্যক্তি আমি’র বিকারের জন্য লিখিত সাহিত্য একধরনের সেল্ফ সেন্সর। কারণ, এ ধরনের সাহিত্যে নিজের সত্তার সত্যের প্রতি আকুলতার কোনো লক্ষণই থাকে না। সেই সাহিত্য তখন কোনো বিশেষ বিষয় বা ধারণার প্রচার কাজের বাহন হয়ে যায়। ফলে আমাদের মনে রাখতে হবে, শুধু ভাষা বা শব্দেই লেখক নিজের সাহিত্য বা লিখন কর্ম হাজির করতে সক্ষম নন। নীরবতারও একটা ভূমিকা আছে। শব্দ দিয়ে নৈঃশব্দের লিখন প্রক্রিয়া এখনও সাহিত্য আয়ত্ত করতে পারেনি। ফলে লেখালেখি অনেক সময় সত্তার দূষণে আক্রান্ত হয়। আধুনিক বাজার ও ব্যক্তির অহম্ প্রকাশের বহন হয়ে যায় ভাষা। এ কাজে সে চারপাশের সব কিছুকে ব্যবহার করে উপকরণ হিসেবে। নিজের জীবন ও চারপাশের হাজির জগতের সঙ্গে একটা হেজিমনিক সম্পর্ক তৈরি হয়। এভাবেই লেখালেখির নামে চলতে থাকে অসম ক্ষমতা সম্পর্কের চর্চা।

করোনার মধ্যে এ সমস্যা আরও প্রবল হবে। কারণ অভিজ্ঞতার এই যে বৈশ্বিক রূপ ও সাহিত্যে এটার হাজিরের মধ্যে বৈচিত্র্য আনতে লেখকরা এতো বেশি কসরত করবে যে, করোনাবিষয়ক সাহিত্য একটা বিরক্তির কারণ হয়ে উঠতে পারে।

৪.

লিখনের আগে কি, এ প্রশ্নটা গভীরভাবে বিবেচনার দাবি রাখে। দেরিদার কল্যাণে, আমরা জানি, একটি রচনার অসংখ্য অর্থ ও রিডিং সম্ভব। ফলে একটা রিডিং বা অর্থকে সমাজে চালু করা এবং বাকি রিডিংগুলো পাত্তা না পাওয়ার যে ঘটনা প্রতিনিয়ত ঘটে এর কারণ কি? এর কারণ হল, একটি রচনার রিডিং শুধু রচনার মধ্যেই মানে কিতাবের মধ্যেই নিহিত থাকে না। একটি সমাজে কোন ধরনের রচনার কি ‘পাঠ’ তৈরি হবে তা নির্ভর করে সেই সমাজে কোন ধরনের ডিসকোর্স যার বাংলা করেছি শাসনতান্ত্রিক হুকুমত বা বয়ান- চালু আছে তার ওপর। ফলে করোনা বিষয় সাহিত্যের বেলায় দেখা যাবে, যেহেতু একটা কমন বিজ্ঞানবাদী, প্রযুক্তিমুগ্ধ জনচৈতন্য আগাম হাজির আছে ফলে এ বিষয়ক সাহিত্যের মাল্টি রিডিং তৈরি হওয়া মুশকিল। অন্যদিকে লিখনের আগেই হাজির থাকা যে আগাম জনসংস্কৃতির ভেতর একজন লেখক কাজ করেন তার বিষয়ে একটি রচনা যদি কোনো পর্যালোচনার কাজ লিখার আগেই সুরাহা করে না নেন তখন চলতি ফ্যানাটিক বা হুজুগের জিকির থেকে সেই লেখক ও রচনা রক্ষা পাওয়ার সুযোগ কমে যায়। ঘটনা ও সত্যের সম্পর্ক বিচারের আগে ‘রচনা’ ও আমি’র সম্পর্ক কি, এটাও খতিয়ে দেখতে হবে।

ব্যক্তির হাজির থাকা আর কোনো ঘটনার হাজির থাকার মধ্যে যে পার্থক্য তা কীভাবে রচনায় ডিল করা হচ্ছে তা খুব গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন। এ প্রশ্নের সঙ্গে আরও আলোচিত হবে, নন্দনের রাজনীতি। যে কোনো রচনাকে সাহিত্য বলার জন্য কিছু ধারণাকে অভিভাবক হিসেবে হাজির করা হয়। কিছু বিষয়কে নির্ধারক হিসেবে উপস্থাপন করা হয়। এগুলোই সাহিত্যের নন্দনতাত্ত্বিক রাজনীতির আসল পুলিশ। যা দিয়ে একজনকে মহান লেখক, অন্যজনকে গার্বেজ বলে আখ্যায়িত করা হয়। ঘটনা, সাহিত্য, সত্য ও আমি’র সম্পর্ক আজ আর কোনো প্রশ্ন হিসেবে আমাদের সমাজে আলোচিত হয় না। করোনার পরের সাহিত্য এসব বিষয় নিয়েও নতুন কোনো জোয়ার আসবে এমনটা মনে করা মুশকিল।

ঘটনা ও ইতিহাস এবং সাহিত্যের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করার সময় একটা উপন্যাসের কথা না বললে মনে শান্তি হবে না। সেটা হল, ওয়ার অ্যান্ড পিস। মিলান কুন্দেরা ‘উপন্যাস, ইতিহাস, ব্যক্তি’ প্রবন্ধে এটা নিয়ে আলোচনা করেছেন। নেপোলিয়নের যুদ্ধের ৫০ বছর পরে তলস্তয় যুদ্ধের যে ছবি উপন্যাসে বর্ণনা করেছেন, তা ইউরোপ ও অ-ইউরোপের বাসিন্দাদের জন্য সমান মর্মঘাতী হয়ে দেখা দেয়। উপন্যাসটি এমনভাবে লেখা যাতে পাঠক ঠিক বুঝতে পারেন না কোনো যুদ্ধ কিন্তু তাতে পাঠকের কোনো সমস্যা হয় না। তলস্তয় এখানে মূলত যে বিষয়ে আগ্রহী তা হল, মানুষের সঙ্গে ইতিহাসের সম্পর্ক। গোটা উপন্যাসে এটাকেই তিনি অনুসন্ধানের বিষয় করে তুলেছেন। তিনি দেখান ইতিহাস নিজেই নিজেকে তৈরি করে। কোনো মহান ব্যক্তি বা ঘটনা ইতিহাসকে তৈরি করতে পারে না।

এ ঘটনা দেখা যাবে, আলবেয়ার কাম্যু’র বিখ্যাত উপন্যাস প্লেগ-এও। উপন্যাসটি মোটেও প্লেগ নিয়ে নয়। ওয়ার অ্যান্ড পিস যেমন- শুধু কোনো বিশেষ যুদ্ধ নিয়ে নয়। কাম্যু এখানে স্বৈরাচারী ক্ষমতা ও মহামারীর সময়ে মানুষের স্পিরিট বা এক্সিস্টেনশিয়াল প্রশ্নটাকে খতিয়ে দেখেছেন।

এখানে প্রাসঙ্গিক হল, ঘটনা ও লিখন প্রক্রিয়ার সঙ্গে স্পিরিট ও সত্যের সম্পর্কের জন্য ঘটনার তথ্যগত সত্যের বাইরেও আছে নিজের সত্ত্বাকে সত্যের সংগ্রামে নিয়োজিত করে সত্যকে বুঝার চেষ্টা।

ঘটনায় আসলে কি ঘটে? কোন ইভেন্ট কি দিয়ে গঠিত হয়? নায়িকার পর্নোভিডিও ভাইরাল হওয়া আর একটি মহামারী হওয়া অথবা একটি বিরাট চিত্র বা সাহিত্যকর্মের জন্ম বা প্রেমে পড়া- সবগুলোই ইভেন্ট! এসবগুলোই কোনো না কোনো মানুষদের আন্দোলিত করে রাখে। কিন্তু তারপরেও এসবগুলোই কোনোভাবেই একই মাত্রায় বিবেচিত হওয়ার মতো ঘটনা নয়।

এই যে বিবেচনার তারতম্য, এই যে এটাকে ঘটনা অন্যটাকে কোনো ঘটনাই মনে না করা। এ বিভাজনের ম্যাকানিজমটা কি? বিং অ্যান্ড ইভেন্ট (দেখুন, অ্যালান বাদিয়্যুর বই)। মানে কোনো ঘটনার সঙ্গে আমাদের সত্তার অবস্থানের বা আমাদের থাকার সম্পর্ক কি? অথবা, ঘটনা কীভাবে আমাদের সত্তার থাকাকে প্রভাবিত করে এ প্রশ্ন খুব জরুরি। অন্যদিকে যে কোনো ঘটনাকে নিয়ে সাহিত্য রচনা হলে তা সেই ঘটনার সাহিত্য হয়ে ওঠে না। সেটা কোনো না কোনোভাবে কনটেমপোরারি হয়ে ওঠে (জর্জ আগাবেন- হোয়াট ইজ কনটেমপোরারি)। যেমন- ৫ হাজার বছর আগে যদি কোনো বই লেখা হয়। এবং সেই বইটি যদি আপনি এখন বসে পড়েন সেটা কনটেমপোরারি।

কারণ, সেই বই ও বিষয় ৫ হাজার বছর পেছনে গিয়ে আপনার কাছে ধরা দেবে না। ধরা দিচ্ছে এখন। এ সময়। ফলে লিখন বা কিতাবের সঙ্গে সময়ের এ ধারণার বিচারও জরুরি। লিখন প্রক্রিয়ার রহস্যময়তা আসলে মানুষের আরোপিত অবিদ্যার ফল। এটাও চিন্তার একটা ক্ষেত্র। অমর সাহিত্য বলে কিছু নেই। কনটেমপোরারি সাহিত্যই অমর।