দিরাই পৌরসভা নির্বাচন: প্রার্থীদের দৌড়ঝাঁপ শুরু

424


দিরাই প্রতিনিধি :: বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশনের ঘোষণা অনুযায়ী দিরাই পৌরসভা নির্বাচন ডিসেম্বরে অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। বহু আলোচিত দিরাই পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য প্রার্থীরা শুরু করে দিয়েছেন তাদের নির্বাচনী তৎপরতা।

সরকারী দল আওয়ামী লীগের সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে বর্তমান মেয়র ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মোশাররফ মিয়া, বর্তমান কাউন্সিলর সাবেক ভিপি বিশ্বজিৎ রায় বিশ্ব, আওয়ামী লীগ নেতা আসাদ উল্লাহ দৌড়ঝাঁপ শুরু করেছেন।

এছাড়া বিএনপির সম্ভাব্য প্রার্থীরা হচ্ছেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার আব্দুল কাইয়ূম, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী ও সাবেক মেয়র হাজী আহমদ মিয়া। এছাড়াও সম্ভাব্য স্বতন্ত্র প্রার্থীর তালিকায় রয়েছেন সমাজকর্মী রশীদ আহমদ।

হাওর বেষ্টিত উপজেলা দিরাই। সুনামগঞ্জ জেলা সদর থেকে এ উপজেলার দূরত্ব প্রায় ৩৮ কিলোমিটার। হাওরের জনপদ এ উপজেলা সদরকে ১৯৯৯ সালে ভাটি বাংলার দুই কৃতিসন্তান জাতীয় নেতা আব্দুস সামাদ আজাদ ও সুরঞ্জিত সেনগুপ্তের প্রচেষ্টায় পৌরসভায় উন্নীত করা হয়।

এ পৌরসভার প্রথম নির্বাচনে প্রথম মেয়র নির্বাচিত হন বিএনপি মনোনীত প্রার্থী হাজী আহমদ মিয়া। পৌরসভা গঠনের সময় উপজেলা সদরের ১৭ টি গ্রাম নিয়ে এ পৌরসভা গঠিত হয়।

বর্তমানে ৯টি ওর্য়াডে এ পৌরসভায় সর্বশেষ শুমারি অনুযায়ী লোকসংখ্যা প্রায় ৩২ হাজার ১৫৪ জন। ৬.৫ বর্গ মিটার আয়তনের এ পৌরসভায় বর্তমান ভোটার প্রায় ১৯ হাজার। সর্বশেষ ২০১৫ সালে দলীয় প্রতীকে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী বর্তমান মেয়র মোশাররফ মিয়ার কাছে ৯ শতাধিক ভোটে পরাজিত হন ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতাকারী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক।

পৌরসভা নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য মেয়র ও কাউন্সিলর প্রার্থীরা বিভিন্ন সামাজিক অনুষ্ঠান, সভা-সমাবেশ সহ হোটেল-রেস্তোরায় উপস্থিত হয়ে ভোটারদের সাথে তাদের নির্বাচনী আগাম প্রচার-প্রচারনা ও মতবিনিময় সহ কুশল বিনিময় করছেন।

আওয়ামী লীগের একাধিক নেতা কর্মীদের সাথে আলাপ করলে তারা জানান, যদি দলীয় প্রতীকে নির্বাচন হয় তাহলে নমিনেশন পাওয়ার বেশি সম্ভাবনা দিরাই পৌরসভার বর্তমান মেয়র মোশাররফ মিয়া অথবা পৌরসভার প্যানেল মেয়র বিশ্বজিৎ রায়ের। দুজনই দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার আশাবাদী।

অপর দিকে বিএনপির একাধিক প্রার্থীর মধ্যে সাবেক সংসদ সদস্য নাছির উদ্দীন চৌধুরীর ছোট ভাই, দিরাই উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি এবং গত দুইটি পৌরসভা নির্বাচনে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বীতাকারী মঈন উদ্দিন চৌধুরী মাসুক, সাবেক ছাত্রনেতা এডভোকেট ইকবাল হোসেন চৌধুরী দলীয় মনোনয়ন পাওয়ার জন্য তদবির চালিয়ে যাচ্ছেন, তবে সবকিছুর সমাধান নাছির উদ্দীন চৌধুরীর সমর্থনের উপর। অবশেষে বিএনপি যদি দলীয়ভাবে নির্বাচনে অংশ নেয় তাহলে নাছির উদ্দীন চৌধুরী যাকে মনোনয়ন দিবেন তিনিই ধানের শীষের কান্ডারী হবেন। তবে আওয়ামী লীগের দলীয় কোন্দলের কারণে অনেকটা সুবিধাজনক অবস্থানে রয়েছে বিএনপি।