তিতাসের জরাজীর্ণ পাইপলাইন: ঝুঁকিমুক্ত সেবা নিশ্চিত করতে হবে

14


সবুজ সিলেট ডেস্ক :: রাজধানীর মাটির নিচে জালের মতো ছড়িয়ে আছে গ্যাসের জরাজীর্ণ লাইন। বৈধ লাইনের পাশাপাশি রয়েছে অবৈধ লাইন, যেগুলোর বেশিরভাগই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। বৈধ লাইনগুলো মাঝে মাঝে সংস্কার করা হলেও অবৈধ লাইনের কোনো সংস্কার হচ্ছে না।

সোমবার যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, তিতাসের অধিকাংশ পাইপলাইন পুরনো হলেও সেগুলোর সংস্কার হয়নি ৫৬ বছরেও। গ্যাসের জরাজীর্ণ লাইনের কারণে যে কোনো সময় ঘটে যেতে পারে ভয়াবহ দুর্ঘটনা। বিষয়টি বহুল আলোচিত হলেও কর্তৃপক্ষের এদিকে কোনো দৃষ্টি আছে বলে মনে হয় না। পাইপলাইন সংস্কারের পরিবর্তে বিতরণ কোম্পানিগুলোর উৎসাহ বেশি নতুন সংযোগে। অভিযোগ রয়েছে, নতুন সংযোগে অনেক প্রাপ্তির সুযোগও নাকি তৈরি হয়।

তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন অ্যান্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালকের মতে, গ্যাসলাইনে যত দুর্ঘটনা ঘটে তার মধ্যে তিতাসের ত্রুটির কারণে ঘটছে ১০ শতাংশ। বাকি ৯০ শতাংশ দুর্ঘটনা ঘটে অন্য সেবা সংস্থার উদাসীনতা ও দায়িত্বহীনতার কারণে। এভাবে অন্যের ওপর দায় চাপানোর সংস্কৃতি থেকে বেরিয়ে এসে সেবা সংস্থাগুলোকে সমন্বিতভাবে কাজ করতে হবে।

জানা গেছে, প্রতিষ্ঠার পর থেকে যেসব পাইপলাইন দিয়ে গ্যাস বিতরণ শুরু হয়েছে, সেই একই পাইপলাইনে এখনও বিতরণ অব্যাহত আছে। এসব পাইপলাইনের বেশিরভাগেরই লাইফ টাইম শেষ হয়ে গেছে। একদিকে বৈধ, অন্যদিকে অবৈধভাবে পাইপলাইন ফুটো করার কারণে বিতরণ লাইনগুলো এখন গ্যাসের চাপ নিতে পারছে না। এজন্য রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার মাটির নিচ থেকে প্রায়ই গ্যাসের বুদবুদ বের হতে দেখা যাচ্ছে। এ ধরনের বুদবুদ থেকে বড় ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। কয়েকদিন আগে নারায়ণগঞ্জে যে ট্র্যাজেডি ঘটে গেল, তা গ্যাসের জরাজীর্ণ লাইনের কারণে কিনা, এ নিয়েও চলছে নানা রকম আলোচনা।

২০০ চুলায় গ্যাস সরবরাহের ক্ষমতা আছে এমন লাইনের সঙ্গে ২০০০ চুলার সংযোগ দেয়ার আগে সংশ্লিষ্টরা কি এর পরিণতি ভেবে দেখেছেন? এসব বিষয়ে তিতাসের উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের তৎপরতাও দৃশ্যমান নয়। জানা গেছে, দেশে বিদ্যমান গ্যাস লাইনের বেশিরভাগই ঝুঁকিপূর্ণ; বিশেষ করে ঢাকা, কুমিল্লা ও চট্টগ্রামের গ্যাস লাইনের অবস্থা শোচনীয়।

গ্যাসের জরাজীর্ণ লাইনের কারণে মাঝারি বা তীব্রমাত্রার ভূমিকম্পের পর কী ভয়াবহ পরিণতি হতে পারে তাও বহুল আলোচিত। দুর্ঘটনা এড়াতে দেশের সব গ্যাস লাইন সময়মতো সংস্কারের উদ্যোগ নিতে হবে। অবৈধ লাইনের বিষয়ে কর্তৃপক্ষ কঠোর না হলে সংস্কারের সুফল মিলবে কিনা এ নিয়ে সন্দেহ থেকেই যায়। গ্যাস-বিদ্যুৎসহ সেবা সংস্থাগুলোর ত্রুটিপূর্ণ লাইনের কারণে যাতে কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, তা নিশ্চিত করতে হবে।