ধর্ষণ না করেও কেন স্বীকারোক্তি খটকায় হাইকোর্ট

2

ধর্ষণ-হত্যা মামলার আসামি আবদুল্লাহ, রকিব ও খলিল। ইনসেটে স্কুলছাত্রী

সবুজ সিলেট ডেস্ক

নারায়ণগঞ্জে ‘ধর্ষণ ও হত্যার’ শিকার পঞ্চম শ্রেণির এক ছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় ৫ আইনজীবীর করা রিভিশন আবেদনের ওপর আদেশের জন্য ২৪ সেপ্টেম্বর দিন ধার্য করেছেন হাইকোর্ট। গতকাল বৃহস্পতিবার এ মামলার সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা হাজির হওয়ার পর বিচারপতি এম ইনায়েতুর রহিম ও বিচারপতি মো. মোস্তাফিজুর রহমানের বেঞ্চ শুনানি নিয়ে আদেশের এ দিন ধার্য করেন। এ সময় আদালত মামলার তদন্তের সময় আসামির দোষ স্বীকার করা স্বাভাবিক কি না, এমন প্রশ্ন করেন। আদালত বলেন, ‘পৃথিবীতে এমন কোনো নজির নেই স্বতঃস্ফূর্তভাবে আসামি দোষ স্বীকার করেছে। সেখানে আসামিরা ধর্ষণ ও হত্যার দোষ না করেই তা স্বীকার করল? এটা বড় খটকা।’

আদালতে আবেদনের পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। সাবেক তদন্ত কর্মকর্তার পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. সারওয়ার হোসেন। জানা যায়, নারায়ণগঞ্জ শহরের দেওভোগ পাক্কা রোড এলাকার ওই স্কুলছাত্রী গত ৪ জুলাই নিখোঁজ হয়। গত ৬ আগস্ট নিখোঁজ স্কুলছাত্রীর বাবা নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় অপহরণ মামলা করেন। মামলার পর পুলিশ আবদুল্লাহ, রকিব ও খলিল নামে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেন। তারা আদালতে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন। স্বীকারোক্তিতে তারা বলেন যে, তারা ওই ছাত্রীকে গণধর্ষণের পর হত্যা করে মরদেহ শীতলক্ষ্যা নদীতে ভাসিয়ে দিয়েছেন। জবানবন্দি নেওয়ার পর আসামিদের জেলে পাঠানো হয়। কিন্তু ২৩ আগস্ট ওই ছাত্রীকে খুঁজে পাওয়া গেছে।

এ ঘটনায় নারায়ণগঞ্জ সদর মডেল থানায় করা মামলা এবং মামলাপরবর্তী প্রক্রিয়ার শুদ্ধতা, বৈধতা ও যৌক্তিকতা, মামলার নথি তলব চেয়ে গত ২৫ আগস্ট সুপ্রিমকোর্টের পাঁচ আইনজীবী আবেদনটি করেন। ‘ধর্ষণের পর নদীতে লাশ ফেলে দেওয়া স্কুলছাত্রীর ৪৯ দিন পর জীবিত প্রত্যাবর্তন’ শিরোনামে বিভিন্ন গণমাধ্যমে প্রকাশিত সংবাদ সংযুক্ত করে হাইকোর্টের সংশ্লিষ্ট শাখায় এ আবেদন করা হয়।

হাইকোর্টের উপরোক্ত বেঞ্চ গত ২৭ আগস্ট শুনানি শেষে ছাত্রীর জীবিত ফিরে আসার ঘটনায় সাবেক ও বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তাকে তলব করেন। তলব আদেশের পরিপ্রেক্ষিতে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টায় মামলাটির আগের তদন্ত কর্মকর্তা শামীম আল মামুন এবং বর্তমান তদন্ত কর্মকর্তা নারায়ণগঞ্জ সদর থানার এসআই মোস্তাফিজুর রহমান হাইকোর্টে উপস্থিত হন। এর পর শুনানি নিয়ে এ আদেশের দিন ধার্য করেন হাইকোর্ট।

পরে আইনজীবী শিশির মনির সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে বলেন, আদালত বলেছেন- দোষ স্বীকার করে ফেলাটা একজন মানুষের জন্য ন্যাচারাল কিনা, সাধারণ মানবীয় আচরণ কিনা, একজন মানুষ কি দোষ স্বীকার করতে চায়? সাধারণত কেউ দোষ স্বীকার করতে চায় না। কিন্তু এখানে যাকে কেন্দ্র করে দোষ স্বীকার করা, তিনিই আবার হাজির হলেন। বলা হলো তাকে ধর্ষণ করা হয়েছে, শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দেওয়া হয়েছে। নদীর কোন পয়েন্টে ফেলে দেওয়া হয়েছে, এ জন্য রিমান্ড চাওয়া হলো। কিন্তু ভিকটিম এসে বলল আমি মরিনি। এর পরও আসামিরা বলবে- না আমরা ধর্ষণ করেছি, আমরা তাকে শীতলক্ষ্যা নদীতে ফেলে দিয়েছি? আদালত বললেন- এ আচরণ কি স্বাভাবিক?

সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা কী ব্যাখ্য দিয়েছেন- এমন প্রশ্নে শিশির মনির বলেন, সাবেক তদন্ত কর্মকর্তা বলেছেন- আমি তাদের অ্যারেস্ট করেছি, রিমান্ডে নিয়েছি। তারা স্বেচ্ছায় স্বীকার করেছে। ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে দিয়েছি। ম্যাজিস্ট্রেট রেকর্ড করেছেন। আমার কী করার আছে।