হেফাজতের রাজনীতি কোন পথে?

1

সবুজ সিলেট ডে্স্ক ::
মহাপরিচালকের পদ থেকে স্বেচ্ছায় সরে দাঁড়িয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী। বৃহস্পতিবার (১৭ সেপ্টেম্বর) রাতে মাদ্রাসার মজলিসে শুরার বৈঠকে আহমদ শফী তার এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।

এদিকে হেফাজত মহাসচিব জুনায়েদ বাবুনগরীর সঙ্গে দূরত্ব বেড়েছে আল্লামা শফীর। দুর্নীতি, অনিয়ম ও নির্যাতনসহ তার বিরুদ্ধে নানা অভিযোগও আনা হয়।

এরপর থেকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রতিবাদে সরব হয়ে ওঠেন কওমিপন্থী তরুণরা। এর জেরেই বুধবার (১৬ সেপ্টেম্বর) দুপুর থেকে উত্তাল হতে থাকে হাটহাজারী মাদ্রাসা। আনাস মাদানীর অপসারণসহ কয়েক দফা দাবিতে শুরু হয় বিক্ষোভ।

নানা কারণে দেশে-বিদেশে অনেকের দৃষ্টিই ছিল সংগঠনটির দিকে। কার হেফাজতে হেফাজত এ প্রশ্নও আলোচনায় এসেছে বারবার। কিন্তু হেফাজত সদর দপ্তরে নজিরবিহীন পরিস্থিতি তৈরি হওয়ার পর সংগঠনটির ভবিষ্যতের প্রশ্ন আবার সামনে এসেছে। কোন পথে যাচ্ছে হেফাজত?

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, হেফাজত ধীরে ধীরে কার্যত দু’ ভাগ হয়ে গেছে। এক ভাগের নেতৃত্বে রয়েছেন আল্লামা শাহ আহমদ শফী, অন্যভাগের নেতৃত্বে আল্লামা জুনায়েদ বাবুনগরী। হাটহাজারীর ঘটনা যে বিভক্তিকে আরো সামনে নিয়ে এসেছে। যদিও জুনায়েদ বাবুনগরীকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে অপসারণের পরও পরিস্থিতি সামাল দেয়ার চেষ্টা করা হয় একবার।

হেফাজত সংশ্লিষ্টরা বলছেন, মূলত আদর্শগতভাবেই হেফাজতে বিভক্তি দেখা দিয়েছে। মৌলিক ইস্যুতে আহমদ শফী এবং জুনায়েদ বাবুনগরীর চিন্তাধারায় ফারাক তৈরি হয়েছে।

বাবুনগরীর সমর্থকদের অভিযোগ, অত্যধিক পুত্র স্নেহ আহমদ শফীকে ভুল পথে পরিচালিত করছে। দীর্ঘদিন ধরেই ছেলে যা বলছে তিনি তাই করছেন। আর ছেলে আনাস মাদানী জড়িয়ে পড়েছেন নানা অনিয়ম ও নিপীড়নমূলক কর্মকাণ্ডে।

অন্যদিকে, আল্লামা শফী সমর্থকদের অভিযোগ, জুনায়েদ বাবুনগরী হেফাজতকে সরকারের সঙ্গে দান্দ্বিক অবস্থানে নিয়ে যেতে চান। ভুল পথে পরিচালিত করতে চান সংগঠনটিকে।

পর্যবেক্ষকরা বলছেন, সব মিলিয়ে হেফাজত এখন বিভক্তির পথে। যে কসমেটিক্স ঐক্য রয়েছে তাও হয়তো বেশিদিন টিকবে না।

যদিও সংগঠনটির ভেতরে অনেকেই এখনো দাবি তুলছেন, শীর্ষ আলেমরা বসে যেন বিভেদ মিটিয়ে নেন।

এদিকে মাদ্রাসার মহাপরিচালক ও হেফাজতের আমির আল্লামা শাহ আহমদ শফীর সভাপতিত্বে বৃহস্পতিবার রাত ৮টা পৌনে ১১টা পর্যন্ত হাটহাজারী মাদ্রাসার মজলিসের শুরা কমিটির বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।

বৈঠকে মাদ্রাসার মহাপরিচালক আল্লামা শাহ আহমদ শফী অব্যাহতি নেন। তাকে বৈঠকের সিন্ধান্তনুসারে মাদ্রাসার কর্তৃপক্ষে প্রধান উপদেষ্টা নিয়োগ করা হয়েছে। অপরদিকে মাদ্রাসার এক শিক্ষক মাওলানা নুরুল ইসলাম কক্সবাজারিকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

শনিবার শুরা কমিটির বেঠক হওয়ার কথা থাকলেও বিক্ষোভকারীদের দাবির মুখে বৃহস্পতিবার রাত ৮টায় জরুরী বৈঠকের আয়োজন করা হয়।

এর আগে বুধবার রাতে আহমদ শফীর ছেলে এবং মাদ্রাসার সহকারী শিক্ষা পরিচালক মাওলানা আনাস মাদানীকে হাটহাজারী মাদ্রাসা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়।

বুধবার দুপুর থেকে মাদ্রাসার শিক্ষার্থীরা পাঁচ দফা দাবিতে বিক্ষোভ করেন। বিক্ষোভকারীদের দাবির প্রেক্ষিতে মাদ্রাসার মজলিশে শূরার স্থানীয় নেতৃবৃন্দ রাতে এক জরুরি বৈঠকে বসেন। রাত পৌনে ১১টার সময় দুই দফা দাবি মেনে নেয়া হয় সেগুলো হলো শিক্ষক আনাস মাদানীর বহিষ্কার ও মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের কোনো হয়রানি না করা।

এরপর বাকি তিন দফাও মেনে নেয়া হয় বলে শুরা সদস্যরা জানান।

এর মধ্যে বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক প্রজ্ঞাপনে হাটহাজারী মাদ্রাসা বন্ধের ঘোষণা দেওয়া হয়।