বিয়ানীবাজারের লাউতার গ্রাম আদালতে এজলাসের উপর চেয়ার

7


বিয়ানীবাজার প্রতিনিধি :: বিয়ানীবাজার উপজেলার লাউতা ইউনিয়ন পরিষদ কমপ্লেক্সে অবস্থিত গ্রাম আদালতের নির্ধারিত এজলাসটি দীর্ঘদিন ধরে অযত্ন-অবহেলা আর অব্যবস্থাপনায় পড়ে আছে। এজলাসের রক্ষণাবেক্ষনে নেই সংশ্লিষ্ট দায়িত্বশীলদের তদারকি। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় ইউনিয়নবাসী।

স্থানীয়দের অভিযোগ, গ্রাম আদালত বিচার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হলেও এখানে ন্যায় বিচারের প্রয়োগ ঘটে। আর সেই আদালতের এজলাসের এমন করুণ দশা বিচার ব্যবস্থাকেই প্রশ্নবিদ্ধ করছে।

সরেজমিনে বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) সকালে লাউতা ইউনিয়নের কমপ্লেক্সের আদালত প্রাঙ্গনে গিয়ে দেখা যায়, খোদ এজলাসের ওপরেই রাখা রয়েছে বেশ কয়েকটি চেয়ার। আদালত কক্ষ জনশূন্য থাকলেও চলমান রয়েছে সেই কক্ষের সবগুলো বৈদ্যুতিক পাখা ও বাল্ব। এছাড়া যত্রতত্র ছড়িয়ে ছিটিয়ে রাখা রয়েছে এজলাস কক্ষের ব্রেঞ্চ ও চেয়ারগুলো। পাশাপাশি খুলে রাখা হয়েছে গ্রাম আদালতের প্রচারণামূলক লিফলেট-পোস্টারগুলো।

জানা গেছে, বাংলাদেশে বিচার ব্যবস্থার সর্বনিম্ন স্তর হচ্ছে গ্রাম আদালত। মূলত এটা হচ্ছে গ্রামাঞ্চলের কিছু কিছু মামলার নিষ্পত্তি এবং তৎসর্ম্পকীয় বিষয়াবলীর বিচার সহজলভ্য করার উদ্দেশো গ্রাম আদালত অধ্যাদেশ, ১৯৭৬ এর আওতায় গঠিত একটি স্থানীয় মীমাংসামুলক তথা সালিশি আদালত। ছোটখাটো ফৌজদারি ও দেওয়ানি বিরোধ স্থানীয়ভাবে মীমাংসার জন্য ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে স্থাপন করা হয়েছে গ্রাম আদালতের এজলাস। জনবলের তুলনায় বিচার প্রার্থীদের সংখ্যা যদি বেশি হওয়ায় মামলার দীর্ঘ সূত্রিতা দুরীকরণে এবং সাধারণ মানুষ যাতে ক্ষতিগ্রস্ত না হয় সেরূপ অবস্থা থেকেই প্রণীত হয় গ্রাম আদালত আইন।

এ বিষয়ে জানতে লাউতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গৌছ উদ্দিনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করলেও তিনি রিসিভ করেননি। এজলাসের এমন করুন দশার স্বচিত্র তার ফেসবুক মেসেঞ্জারে পাঠানোর পর তা দেখেও তিনি কোন মন্তব্য করেননি।

বাংলাদেশের গ্রাম আদালত সক্রিয়করণ ২য় পর্যায় প্রকল্পের সিলেট জেলার সমন্বয়ক সৌকত হাসান বলেন, এরকম ঘটনা দুঃখজনক। তবে গ্রাম আদালতের জন্য পৃথক কিংবা নিজস্ব কোন কক্ষ না থাকায় ইউনিয়ন কমপ্লেক্সের কক্ষ ব্যবহার করতে হচ্ছে। অন্য কোন প্রগ্রাম করতে গিয়ে অনিচ্ছাকৃতভাবেই হয়তোবা এমন ঘটনা ঘটেছে। তবুও তিনি বিষয়টি খোঁজ নিয়ে দেখছেন বলেও জানান।

সবুজ সিলেট/ ২৩ সেপ্টেম্বর/ এহিয়া আহমদ