লেবাননে সরে দাঁড়ালেন নতুন প্রধানমন্ত্রীও

8

আন্তর্জাতিক ডেস্ক ::
লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ধাক্কায় সরকার পতনের পর মুস্তফা আদিব নতুন প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হয়ে দেশকে উদ্ধারের মিশনে নেমেও শেষমেষ হাল ছেড়ে দিয়ে সরে দাঁড়িয়েছেন।

প্রায় একমাস চেষ্টার পরও নির্দলীয় মন্ত্রিসভা গড়তে ব্যর্থ হয়ে এবং বিশেষ করে অর্থ মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কাকে দেওয়া হবে তা নিয়ে বিরোধের জেরে আদিব সরে দাঁড়ালেন।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট মিশেল আউনের সঙ্গে বৈঠকের পর শনিবার এক টেলিভিশন ভাষণে আদিব সরকার গঠনের কাজ থেকে অব্যাহতি নিচ্ছেন বলে জানিয়েছেন।

গত ৪ অগাস্ট বৈরুতের বন্দরে রাসায়নিকের গুদামে ভয়াবহ বিস্ফোরণে প্রায় দু’শো মানুষের মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিক্ষোভের মুখে প্রধানমন্ত্রী হাসান দিয়াব সরকারের পদত্যাগের পর গভীর সংকটে পড়া লেবাননে নতুন প্রধানমন্ত্রী হিসাবে মুস্তফা আদিবের নাম ঘোষণা করা হয়েছিল।

জার্মানিতে নিযুক্ত লেবাননের সাবেক রাষ্ট্রদূত আদিব বেশিরভাগ এমপি’র সমর্থন পেয়ে গত ৩১ অগাস্টে প্রধানমন্ত্রী মনোনীত হন।এরপরই তার নতুন মন্ত্রিসভা গঠন করা নিয়ে রাজনৈতিক অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়।

লেবাননের সাম্প্রদায়িক রাজনৈতিক ব্যবস্থায় প্রধানমন্ত্রী হন একজন সুন্নি মুসলিম, প্রেসিডেন্ট পদ পান মারোনাইট খ্রিষ্টান এবং পার্লামেন্ট স্পিকার পদ পান শিয়া মুসলিমরা।

এই পদ্ধতি ভেঙে নির্দলীয় সরকার গড়তে চেয়েছিলেন মুস্তফা আদিব। স্বাধীন বিশেষজ্ঞ এবং টেকনোক্রেটদের নিয়ে মন্ত্রিসভা গড়তে চেয়েছিলেন তিনি।

কিন্তু লেবাননের জটিল রাজনৈতিক ব্যবস্থায় এভাবে মন্ত্রিসভা গঠন করা তার পক্ষে কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। বিশেষ করে সমস্যা সৃষ্টি হয় অর্থমন্ত্রীর পদে নিয়োগ নিয়ে।

লেবাননের মুখ থুবড়ে পড়া অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে এ মূহূর্তে অর্থমন্ত্রীর এই পদটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। প্রভাবশালী দুটি শিয়া রাজনৈতিক দল হিজবুল্লাহ ও আমাল এ পদটি ধরে রাখতে চেয়েছে।

তারা নিজ নিজ পক্ষ থেকে একজন শিয়াকেই অর্থমন্ত্রীর পদ দেওয়া এবং আরও কয়েকজন শিয়া মন্ত্রীকে মন্ত্রিসভায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি জানায়।তাছাড়া,আদিব যে পদ্ধতিতে সরকার গড়তে চেয়েছিলেন তারও বিরোধিতা করে তারা।

সংকট সমাধানে মুস্তফা আদিব ঊর্ধ্বতন শিয়া নেতাদের সঙ্গে কয়েক দফা বৈঠক করেও মন্ত্রী নিয়োগ নিয়ে মতৈক্যে পৌঁছতে পারেননি। শিয়া নেতাদের আশঙ্কা, সুন্নি মতালম্বী আদিব শিয়াদের দূরে সরিয়ে রাখবেন। যেমনটি চলে আসছে কয়েকবছর ধরে।

ফ্রান্স এমাসের শুরুতেই হুঁশিয়ার করে বলেছিল, তিন মাসের মধ্যে লেবানন পুনর্গঠনের কাজ শুরু না হলে রাজনীতিকরা নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়বেন।

লেবাননে ছয় থেকে ১২ মাসের মধ্যে একটি নির্বাচন আয়োজনসহ ‘বিশ্বাসযোগ্য প্রতিশ্রুতি’ এবং ‘নিয়মিত তদারকির মাধ্যমে একটি কার্যকর উন্নয়ন ব্যবস্থা চান ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল ম্যাক্রোঁ।

ফ্রান্সের এই চাপের মুখে মধ্য-সেপ্টেম্বরের মধ্যেই লেবাননে নতুন সরকার গঠনের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন রাজনীতিবিদরা। কিন্তু সে চেষ্টা বিফলে গেল।

লেবাননের অভিজাত মহলের দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণে আন্তর্জাতিক চাপ বাড়াতে এবং দেশটির রাজনৈতিক সংস্কার ও অর্থনীতি পুনরুদ্ধারে মূল ভূমিকায় থেকে কাজ করছেন ম্যাক্রোঁ।

শনিবার লেবাননের প্রধানমন্ত্রী আদিব পদত্যাগের ঘোষণা দিলেও ফ্রান্সের এ পরিকল্পনা থেকে সরে না আসার আহ্বান জানিয়েছেন এবং উদ্যোগ জারি রাখতে বলেছেন।

তবে আদিবের এই সরে দাঁড়ানোয় লেবাননের ধুঁকতে থাকা অর্থনীতি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতির আরও অবনতি ঘটতে পারে বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।

লেবাননের প্রেসিডেন্টও কিছুদিন আগেই বলেছিলেন, দ্রুতই একটি সরকার গঠন করতে না পারলে লেবানন ‘জাহান্নামে’ পরিণত হবে।

 

এস মায়াজ আহমদ তালহা