তদন্ত কমিটি নিয়ে বিতর্ক: অধ্যক্ষ ও সুপারের ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ

34


স্টাফ রিপোর্টার :: গত শুক্রবার এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেধে রেখে গৃহবধু ধর্ষনের ঘটনায় গঠিত তদন্ত কমিটি নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন । ছাত্রাবাস খোলা থাকার বিষয়ে হোস্টেল সুপারের ভূমিকা যেখানে প্রশ্নবিদ্ধ সেখানে হোস্টল সুপারকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন নিয়ে আলোচনা সমালোচনা চলছে সর্বত্র । আবার দিকে হোস্টেলের দারোয়ানদেও বরখাস্ত নিয়ে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন । বিশেষ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অনেকেই কলেজের প্রিন্সিপাল ও হোস্টেল সুপারের ভ’মিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ।

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় সারাদেশের যখন শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ছাত্রাবাস বন্ধ, তখন কি করে, কার নির্দেশে এমসি কলেজ ছাত্রাবাস খোলা ছিল। এ প্রশ্নের উত্তর এখনো মিলেনি। ছাত্রাবাস বন্ধ থাকার কথা থাকলেও গুটি কয়েক ছাত্র কিভাবে অস্ত্র, আগ্নেয়াস্ত্র নিয়ে ছাত্রাবাসে থাকে, এ দায়ভার কি কলেজ কর্তৃপক্ষ এড়িয়ে যেতে পারবে ? এমন প্রশ্ন এখন সচেতন মহল । ছাত্রাবাস বন্ধ থাকায় সুনশান নিরবতা ছিল ওই এলাকা। যার ফলে ধর্ষকরা ইচ্ছেমতো তাদের ধর্ষণের অভয়ারণ্য গড়ে তুলেছিল স্বনামধন্য এই বিদ্যাপীঠে।

সাইফুরের রুমের মধ্যে দা, রামদা, আগ্নেয়াস্ত্র পাওয়া যায়। যেখানে বই, খাতা, কলম থাকার কথা। এসব অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে ত্রাস সৃষ্টি করে আসছিলো ধর্ষকরা। কলেজ কর্তৃপক্ষ এসব বিষয়ে অবগত থাকার পরও কেন তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিলো না। ছাত্রাবাস বন্ধ থাকলে ধর্ষকরা সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালিয়ে এশিয়া মহাদেশের স্বনামধন্য বিদ্যাপীঠকে কলঙ্কিত করতে পারতো না। কলেজ কর্তৃপক্ষ এর দায় কোনভাবে এড়াতে পারে না।

এদিকে, স্থানীয় একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র জানায়, দারোয়ানদের হোস্টেলের কাজে ব্যবহৃত না করে হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনের বাসার কাজেই অধিকাংশ সময় নিয়োজিত রাখা হয় । স্থানীয় সূত্র জানায় জামাল উদ্দিনের বাসার খরচ করা এমনকি লন্ড্রিতে কাপড় দেওয়া সহ সব কাজেই হোস্টেলের দারোয়ানদের ব্যবহার করতেন তিনি। সূত্রটি জানায়, হোস্টেলের চাবি তিনি ঐ ছাত্রলীগ নেতাদের কাছে দিয়ে দিতেন । তিনি ছিলেন অনেকটাই অসহায় । তার কথা বলোর কোন সুযোগ ছিল না ।

হোস্টেল সুপার জামাল উদ্দিনের সাথে কথঅ বলতে তার ব্যক্তিগত মোবাইলে ফোন দেওয়া হলে তার মোবাইল বন্ধ পাওয়া যায় ।

এদিকে এমসি কলেজের প্রিন্সিপাল সালেহ আহমদ গতকাল একাধিক গণমাধ্যমকে নিজের অসহায়ত্বের কথা স্বীকার করেন । তিনি গতকাল একাধিক গণ মাধ্যমকে বলেন, দেখুন, আমি তো সব কথা বলতে পারি না। আমার মুখে তালা লাগিয়ে থাকতে হয়। অনেক কিছু আছে আমরা বলতে পারি না। সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে বলতে পারি না। ২০১২ সালে হোস্টেল পুড়িয়ে দেওয়ার পর ৬ কোটি টাকা খরচ করে নতুন ভবন নির্মাণ করে দেওয়া হয়েছে।

কিন্তু পোড়ানোর ঘটনার বিচার তো হয়নি। সেদিন ছাত্রলীগ ও ছাত্র শিবিরের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছিল। কারা ছাত্রাবাস পুড়িয়েছিল, সেটা প্রমাণের বিষয়, এ নিয়ে আমি কোনো কথা বলতে চাই না। তবে যারাই ছাত্রাবাস জ্বালিয়েছে, তাদের বিচার তো হওয়া প্রয়োজন। প্রকৃত দোষীদের বিচার হোক। তখন অন্যরা বুঝতে পারবে, দোষ করলে বিচার হবে। তবে জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কোর্টে এখন এ-সংক্রন্ত কেসটা আছে।

এদিকে, এমসি কলেজে ধর্ষনের ঘটনায় কলেজের অধ্যক্ষ সালেহ আহমদকে ’অদক্ষ’ দাবি করে পদত্যাগ দাবি করেছেন সিলেট জেলা ও মহানগর আওয়ামীলীগের নেতৃবৃন্দ ।

 

সবুজ সিলেট/ ২৭ সেপ্টেম্বর/ এহিয়া আহমদ