এমসি কলেজ ছাত্রবাসে গণধর্ষণের আসামি মাহফুজকে খুঁজছে পুলিশ

33


স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেট এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে গৃহবধুকে গণধর্ষণের এজাহারভুক্ত আসামি অনার্স ৪র্থ বর্ষের শিক্ষার্থী কানাইঘাটের দক্ষিণ বাণীগ্রাম ইউপির লামা দলইকান্দি গ্রামের সালিক আহমদের ছেলে মাহফুজুর রহমানকে (২৫) গ্রেফতার করতে মরিয়া হয়ে অভিযান চালাচ্ছে পুলিশ।

মাহফুজুর রহমানের পিতা কানাইঘাট স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের স্বাস্থ্য সহকারী সালিক আহমদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য রবিবার (২৭ সেপ্টেম্বর) ভোর রাতে থানায় নিয়ে যায় পুলিশ। এ সময় তার ছেলে ধর্ষণ মামলার আসামি মাহফুজুর রহমান কোথায় রয়েছে, এ বিষয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করছেন। তবে সরকারি চাকুরিজীবি সালিক আহমদ তার ছেলে মাহফুজুরের কোনো সন্ধান জানেন না বলে পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে বার বার বলে আসছেন। তিনি এও বলেছেন, তার ছেলে গণধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত থাকলে প্রচলিত আইনে তার বিচার হোক।

এদিকে গণধর্ষণের ঘটনার ছাত্রলীগের রাজনীতির সাথে জড়িত এজাহারভুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতার করতে ঘটনার পর থেকে তার নিজ এলাকা কানাইঘাটের বিভিন্ন স্থানে থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহার নেতৃত্বে অভিযান চালানো হয়েছে। শুধু তাই নয়, ভারতে পালিয়ে না যাওয়ার জন্য সীমানন্তে নজরদারী বাড়ানো হয়েছে।

এ ব্যাপারে কানাইঘাট থানার অফিসার ইনচার্জ শামসুদ্দোহা বলেন, এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে গৃহবধূ গণধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িতদের গ্রেফতার করতে পুলিশের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে নির্দেশনা এসেছে। সেই আলোকে সিলেটের পুলিশ সুপার ফরিদ উদ্দিন স্যারের নির্দেশে সিলেট জেলার অধিনস্থ সকল থানা পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে। যেহেতু এ মামলার একজন এজাহার ভুক্ত আসামি মাহফুজুর রহমানের বাড়ি কানাইঘাটে হওয়ায় তাকে গ্রেফতারের জন্য উপজেলার বিভিন্ন স্থানে আমরা অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি। সীমান্ত এলাকায় পুলিশ তৎপর রয়েছে। মাহফুজুর রহমানকে গ্রেফতারের সহযোগিতার জন্য তার পিতা সালিক আহমদকে থানায় এনে জিজ্ঞাসাবাদ করছি।

অপরদিকে ঐতিহ্যবাহী এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে নববধূকে গণধর্ষণের ঘটনার সাথে জড়িত মাহফুজুর রহমানসহ সকল আসামির দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবী করেছেন কানাইঘাটের সকল শ্রেণি পেশার মানুষ। তারা বলছেন, ধর্ষণকারীদের কোন দল নেই, তাদের উপযুক্ত বিচার করে দৃষ্টান্ত স্থাপনের মাধ্যমে সমাজে যাতে করে এ ধরনের কলঙ্কিত ঘটনা আর যাতে না ঘটে এজন্য সরকারের প্রতি দাবী জানান।

উল্লেখ্য, গত শুক্রবার সন্ধ্যায় এমসি কলেজে বেড়াতে গিয়েছিলেন নববিবাহিত এক দম্পতি। রাস্তার পাশে গাড়ি থামিয়ে স্বামী গিয়েছিলেন সিগারেট কিনতে। ফিরে এসে দেখেন কিছু যুবক তার স্ত্রীকে উত্যক্ত করছে। তিনি প্রতিবাদ করলে দুজনকেই ধরে ছাত্রাবাসের ভেতর নিয়ে যায় যুবকেরা। স্বামীকে মারধর করে বেঁধে রাখে এবং তরুণীকে ছাত্রাবাসের ৭ নম্বর ব্লকের একটি কক্ষের সামনে নিয়ে ধর্ষণ করা হয়। এ ঘটনায় শনিবার ছাত্রলীগের ৬ নেতাকর্মীর নাম উল্লেখ করে ৯ জনের বিরুদ্ধে মামলা করেন ধর্ষিতার স্বামী। ইতোমধ্যে পুলিশ প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, অর্জুন লস্কর, শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি ও রবিউল ইসলামকে গ্রেফতার করেছে।

 

সবুজ সিলেট/ ২৭ সেপ্টেম্বর/ এহিয়া আহমদ