এমসি কলেজে গণধর্ষণ: ৭ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন

8

স্টাফ রিপোর্টার :: সিলেটের এমসি কলেজ ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণের ঘটনায় শিক্ষা মন্ত্রণালয় কর্তৃক গঠিত তিন সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কাজ শুরু করেছে।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে এমসি কলেজে পৌঁছে ঘটনাস্থল ঘুরে দেখেন তারা। এমসি কলেজের প্রশাসনসহ অনেকের সঙ্গে কথা বলেন। তারা বুধবারও (৩০ সেপ্টেম্বর) তদন্ত কাজ চালাবেন।’

কাজ শুরুর পর তদন্ত কমিটির সদস্যরা সাংবাদিকদের জানান, তারা ৩ দিনের মধ্যে প্রাথমিক তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবেন আর ৭ দিনের মধ্যে দেবেন চূড়ান্ত প্রতিবেদন।

তদন্ত কমিটির প্রধান মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউসি) পরিচালক (প্রশাসন) শাহিদুল কবির চৌধুরী গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এ রকম শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গণধর্ষণ একটি নিন্দনীয় ঘটনা। যেহেতু আমরা শিক্ষার সঙ্গে জড়িত, তাই আমরা বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। মন্ত্রণালয় আমাদের বলেছে তিনদিনের মধ্যে প্রাথমিক এবং সাতদিনের মধ্যে চূড়ান্ত প্রতিবেদন দিতে।

তিনি আরও বলেন, ‘করোনা পরিস্থিতিতে কলেজ বন্ধ থাকার পরও ছাত্রাবাস কেন খোলা ছিল এ বিষয়টি অবশ্যই তদন্ত করে দেখা হবে।’

এর আগে সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (কলেজ ও প্রশাসন) শাহিদুল কবির চৌধুরীর নেতৃত্বে উচ্চপর্যায়ের এই কমিটি গঠন করে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। ওই তদন্ত কমিটির সদস্যরা আজ মঙ্গলবার বিকেলে সিলেটে এসে পৌঁছান এবং এমসি কলেজে গিয়ে নিজেদের তদন্ত কাজ শুরু করেন। তারা এমসি কলেজ কর্তৃপক্ষ কর্তৃক গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্যদের সঙ্গে কথা বলেন। এর পাশাপাশি তারা ছাত্রাবাসে গিয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

প্রসঙ্গত, গত শুক্রবার ২৫ সেপ্টেম্বর রাতে এমসি কলেজে স্বামীর সঙ্গে বেড়াতে গিয়ে গণধর্ষণের শিকার হন এক গৃহবধূ। সন্ধ্যার দিকে স্বামীর কাছ থেকে ওই গৃহবধূকে জোর করে তুলে নিয়ে ছাত্রাবাসে পালাক্রমে ধর্ষণ করেন ছাত্রলীগের কর্মীরা। এ সময় তার স্বামীকে আটকে রাখে কয়েকজন। এ ঘটনায় ওই গৃহবধূর স্বামী বাদী হয়ে পরদিন ২৬ সেপ্টেম্বর শাহপরাণ (রহ.) থানায় মামলা করেন। মামলায় ছাত্রলীগের ছয় নেতাকর্মীসহ অজ্ঞাত আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

চাঞ্চল্যকর এই মামলায় এখন পর্যন্ত এজাহারনামীয় পাঁচ আসামিসহ সাতজনকে গ্রেপ্তার করেছে সিলেট রেঞ্জ পুলিশ ও র‍্যাব-৯। তাদের মধ্যে ছয়জনকে ৫ দিনের রিমান্ডে নেওয়া হয়েছে।

তারা হলেন- মামলার প্রধান আসামি সাইফুর রহমান, চার নম্বর আসামি অর্জুন লস্কর ও পাঁচ নম্বর আসামি মুক্তিযুদ্ধ মঞ্চ এমসি কলেজ শাখার সভাপতি রবিউল হাসান, এজাহারভুক্ত আসামি মাহবুবুর রহমান রনি, সন্দেহভাজন আসামি রাজন ও আইনুদ্দিন। আর সোমবার গ্রেপ্তার হওয়া মাহফুজুর রহমান মাসুমকে সিলেটের শাহপরাণ (র.) থানায় রাখা হয়েছে।

সবুজ সিলেট/ ২৯ সেপ্টেম্বর/ এস মায়াজ আহমদ তালহা