আজও নিরুপায় ধর্ষকরা: আদালতে কোনো আইনজীবী পক্ষে ছিলেন না

13


স্টাফ রিপোর্টার :: এমসি কলেজের ছাত্রাবাসে স্বামীকে বেঁধে রেখে স্ত্রীকে গণধর্ষণ মামলায় আজ মঙ্গলবার আরও ৩ জনকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পক্ষেও দাঁড়াননি কোন আইনজীবী। মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তার পক্ষে রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত ৫ দিনের করে রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২ টায় সিলেট মহানগর ম্যাজিস্ট্রেট-২ আদালতের বিচারক সাইফুর রহমান এ রিমান্ড মঞ্জুর করেন। ২য় দিনে রিমান্ড মঞ্জুর হওয়া ৩ জন হলের মামলার এজাহারনামিও আসামি মাহমুদুর রহমান রণি, রাজন ও আইনুদ্দিন।

এসময় রাষ্ট্র পক্ষের আইনজীবী হিসেবে আদালতে উপস্থিত ছিলেন জেলা ও দায়রা জজ আদালতের এপিপি খোকন কুমার দত্ত। আর রাষ্ট্র পক্ষকে সহযোগিতা করেন এডভোকেট হাবিবুর রহমান হাবিব, এডভোকেট আলতাফ হোসেন, এডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন, এডভোকেট সৈয়দ মুক্তাদির, এডভোকেট মো. ফুরাহিম, এডভোকেট গোলাম রসুল সুজেল। তবে আদালতে আজও আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না।

আসামি পক্ষে কোন আইনজীবী না থাকা প্রসঙ্গে এডভোকেট দেবব্রত চৌধুরী লিটন বলেন, আসামিদের পক্ষে কোন আইনজীবী ছিলেন না। মূলত মানবিক দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সিলেটের আইনজীবীরা। যদিও আইনি সহায়তা পাওয়া প্রতিটি নাগরিকের অধিকার। কিন্তু এ ধরণের ন্যাকারজনক কর্মকাণ্ডকে সিলেটের আইনজীবীরা ঘৃণার সাথে প্রত্যাখ্যান করায় কোন আইনজীবী তার পক্ষ নেননি।

এর আগে গতকাল সোমবার মামলার প্রধান আসামি সাইফুররহমান, রবিউল ইসলাম, অর্জুন লস্করকে আদালতে হাজির করা হলে তাদের পক্ষেও কোন আইনজীবী উপস্থিত হননি।

উল্লেখ্য, শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাত সাড়ে ৭ টার দিকে সিলেট এমসি কলেজের হোস্টেলে এক তরুণীকে গণধর্ষণ করেছে মহানগর ছাত্রলীগের কয়েকজন নেতাকর্মী। অভিযুক্ত এসব কর্মীরা সিলেট জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক যুব ও ক্রীড়াবিষয়ক সম্পাদক রণজিৎ সরকারের অনুসারী বলে জানা গেছে।

এদিকে তরুণীকে গণধর্ষণের ঘটনায় ৬ জনকে আসামি করে এসএমপির শাহপরাণ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। নির্যাতিত ওই তরুণীর স্বামী মাইদুল ইসলাম বাদী হয়ে এ মামলা দায়ের করেন।

এ ঘটনায় তরুণীর স্বামীর দায়ের করা মামলায় আসামিরা হলেন- সুনামগঞ্জ সদর উপজেলার উমেদনগরের রফিকুল ইসলামের ছেলে তারেকুল ইসলাম তারেক (২৮), হবিগঞ্জ সদরের বাগুনীপাড়ার মো. জাহাঙ্গীর মিয়ার ছেলে শাহ মো. মাহবুবুর রহমান রনি (২৫), জকিগঞ্জের আটগ্রামের কানু লস্করের ছেলে অর্জুন লস্কর (২৫), দিরাই উপজেলার বড়নগদীপুর (জগদল) গ্রামের রবিউল ইসলাম (২৫) ও কানাইঘাটের গাছবাড়ি গ্রামের মাহফুজুর রহমান মাসুমকে (২৫)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও তিনজনকে আসামি করা হয়।

এ ঘটনায় এজাহারভূক্ত পাঁচজনসহ এ পর্যন্ত সাতজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে সাইফুর, অর্জুন ও রবিউলকে সোমবার পাঁচ দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

পরে রোববার দুপুরে সিলেট মহানগর হাকিম ৩য় আদালতের হাকিম শারমিন খানম নিলার কাছে সেই রাতের ঘটনার জবানবন্দি দেন নির্যাতনের শিকার তরুণী। এসময় তিনি ঘটনার বিস্তারিত বর্ণনা দেন। আর আদালত তরুণী জবানবন্দি রেকর্ড করেন।

 

 

সবুজ সিলেট/ ২৯ সেপ্টেম্বর/ এহিয়া আহমদ