নির্ঘুম দাপুটে রাত শেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ভোর আসে

40

সবুজ সিলেট :: নির্ঘুম দাপুটে রাত শেষে একরাশ ক্লান্তি নিয়ে ভোর আসে, বেদনার তীক্ষ্ণতা ও সংশয়ের দোলাচল পেরিয়েও প্রাণ হাসে!! ভালো থাকুন মা, ভালো থেকো বোন, মানবিক হোক, ধরায় সব আয়োজন !!!!!

এএসপি নাজমুল, আমার প্রিয় সহকর্মী। র‍্যাব-১১ আমার দ্বিতীয় কর্মস্থল আর তার প্রথম। আমার সাথেই তার কর্মজীবন শুরু। অনেক দু:সাহসিক অভিযানে আমার সহযোদ্ধা। ইতোমধ্যে বদলী হয়ে গেছে। কয়েক দিন পর হয়তো নারায়ণগঞ্জ ছেড়ে চলে যাবে।

নিজের কথা নয়, তার কথা বলছি। দায়িত্ব নিয়েই বলছি। র‍্যাবের কর্মজীবনে এক বিন্দু অনিয়ম সে করে নি। তার তোলা আসামীর সাথে আমাদের ছবি নিয়ে অনেকে নেতিবাচক মন্তব্য করছেন। তাতে দু:খ নেই। আমাদের শুভাকাঙ্ক্ষীদের কাছে বিনীত অনুরোধ, মর্মাহত হোন, তবে বিস্তারিত জেনে হোন।

আপনারা জানেন, নোয়াখালীর এখলাশপুরে সংঘটিত নারীর প্রতি বীভৎস ও লোমহর্ষক যৌন হয়রানির ভিডিও প্রকাশের পর দেশ ব্যাপী চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়। নৃশংস ঘটনায় যেকোন মানবিক মানুষের মত আমাদের হৃদয়েও রক্তক্ষরণ হয়েছে। নোয়াখালী জেলা র‍্যাব-১১ এর অধিক্ষত্রে হওয়ায় উর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে আমরা বিষয় টি নিয়ে অনুসন্ধান এবং ঘটনায় জড়িতদের গ্রেফতারে অভিযান শুরু করি।

সেদিন মধ্যরাতে গোপন সূত্রে জানা যায়, উক্ত ঘটনায় অভিযুক্ত দেলোয়ার নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছে। কিন্তু তার ব্যবহৃত মোবাইল টি বন্ধ পাওয়া যাচ্ছে। কিন্তু ঘটনার বীভৎসতা ও নৃশংসতা বিবেচনা করে আমাদের অভিযানের প্রতিটি সদস্য অভিযুক্তদের গ্রেফতারে শত কষ্ট মেনে নিতে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হয়ে ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের মত দেশের ব্যস্ততম পথে চেকপোস্ট বসিয়ে বাস তল্লাসি শুরু করি।

একজন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার ও একজন সহকারি পুলিশ সুপারের নেতৃত্বে প্রায় ৩ঘন্টা বাস তল্লাসি করে রাত আনুমানিক ২.৩০ ঘটিকায় সন্ত্রাসী দেলোয়ারকে অস্ত্রসহ গ্রেফতার করা হয়। (ছবিতে একজন অফিসারে গায়ে রিফ্লেক্টিং ভেস্ট দেখুন) প্রত্যেকটি ক্লান্তিকর ও কষ্টসাধ্য অভিযানের পর সফলতা আসলে আমাদের সকল শ্রম, শত কষ্ট নিমিষেই হারিয়ে যায়।

আমাদের কাছে গোপন তথ্য ছিল, অভিযুক্ত দেলোয়ার ঢাকায় গিয়ে প্রধান আসামী বাদলের সাথে দেখা করবে। তাই আমাদেরও প্রধান টার্গেট বাদল। কিন্তু দেলোয়ারের সহযোগিতা ছাড়া ঢাকায় আত্মগোপনে থাকা বাদলকে গ্রেফতার কঠিন ও সময় সাপেক্ষ। এদিকে আমাদের হাতে আটক দেলোয়ার যখন জানতে পারল আমরা র‍্যাবের সদস্য, তখন সে মৃত্যু ভয়ে কাঁপছে। তাছাড়া আমাদের দুইজন জুনিয়রের আগ্রাসী আচরনে সে আরো ভীত হয়ে কোন প্রশ্নের উত্তর দিতে পারছিল না। তখন আমরা দেলোয়ার কে পিছন থেকে সামনের সীটে এনে আমাদের মাঝখানে বসাই। গাড়ি তখন ঢাকার দিকে। বাদলের অবস্থান জানার জন্য তার সাথে উপস্থিত বুদ্ধি ও অভিজ্ঞতার আলোকে নানামুখী কৌশল অবলম্বন করা হয়।

দেলোয়ার বিশ্বাস করতে পারছিল না সে বেঁচে থাকবে। আমরা তার আস্থা অর্জনের জন্য চলন্ত গাড়িতে যা কিছু বলা যায়, কিংবা করা যায়, তাই করেছি। তার মধ্যে এই ছবি তোলাও একটি। এবং শেষ পর্যন্ত আমরা সফল হয়েছি। র‍্যাব-১১ এর কর্মজীবনে এর চেয়ে বহু দু:সাহসিক অভিযান আমরা করেছি। নিষ্ঠা ও সততার সাথে অর্পিত দায়িত্ব পালন করেছি। ভবিষ্যতেও তাই করে যাব। সামগ্রিক ৪ঘন্টা অভিযানের মধ্যে নেয়া আসামীর সাথে একটি ছবি আপনার মনে আঘাত দিয়ে থাকলে আন্তরিকভাবে দু:খ প্রকাশ করছি।

লেখক: মো. জসিম উদ্দীন চৌধুরী, পিপিএম
অতিরিক্ত পুলিশ সুপার, র‍্যাব-১১।

 

সবুজ সিলেট/ এহিয়া আহমদ

  •