সৌদি প্রবাসীদের সংকট নিরসনে উদ্যোগ নিন

14

সবুজ সিলেট :: করোনা দেখা দেয়ার আগে যারা ফেরত টিকিট নিয়ে দেশে ফিরেছিলেন কিংবা করোনা শুরু হলে যাদের কর্মক্ষেত্র বন্ধ হয়েছিল তারা সবাই দেশে এসে আটকে পড়েছেন। কিন্তু এখন সবকিছু স্বাভাবিক হয়ে আসলেও দেশে ফিরে আসা প্রবাসীরা যেতে পারছেন না তাদের কর্মস্থলে। পক্ষান্তরে ভারত, শ্রীলঙ্কার যারা বাংলাদেশের প্রবাসীদের সঙ্গে কাজ করত তারা সবাই ফিরে গেছে। এসব কারণে সৌদি প্রবাসীরা হতাশ হয়ে পড়ছেন। আবার বৈশ্বিক করোনায় দেশে আটকে পড়া প্রবাসীদের কর্মস্থলে ফেরা নিয়ে অচলাবস্থা কাটছে না। দিন যত যাচ্ছে ক্রমেই বাড়ছে সংকট।

গত তিন সপ্তাহেরও বেশি সময় ধরে তারা গ্রাম থেকে রাজধানীতে এসে সমস্যা নিরসনের দাবিতে বিক্ষোভ করছেন। গত রবিবার টিকিট-টোকেন ও চাকরি বাঁচানোর দাবিতে সকালে রাজধানীর কাওরান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের সামনে জমায়েতকালে পুলিশের লাঠিপেটার শিকার হন প্রবাসীরা। নানা আশ্বাস দিয়েও মানানো যাচ্ছে না কাওরান বাজারে সাউদিয়া এয়ারলাইন্সের ও মতিঝিলের বিমানের টিকিটের জন্য অপেক্ষারত প্রবাসীদের। তাদের সকলের চোখে-মুখে দুশ্চিন্তার ছাপ। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে ১৭ অক্টোবর পর্যন্ত ইকামা ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও সৌদি আরবে ভিসা প্রক্রিয়ার সঙ্গে জড়িত এজেন্সি ও বাংলাদেশ দূতাবাস সূত্র বলছে, আনুষ্ঠানিকভাবে এখন পর্যন্ত নতুন করে ছুটির মেয়াদ বাড়ানো হয়নি। সরকারিভাবে মেয়াদ বাড়ানোর কথা বলা হলেও তা আসলে মুখে মুখে।

সৌদি সরকারের পক্ষ থেকে কেন্দ্রীয়ভাবে কারও মেয়াদ বাড়েনি এবার। সবাইকে আলাদা করে কফিলের সঙ্গে যোগাযোগ করে মেয়াদ বাড়িয়ে নিতে হবে। কিন্তু সৌদি কর্তৃপক্ষ নবায়নের মাধ্যমে ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধিতে কঠিন শর্ত জুড়ে দিয়েছে, যা পূরণ করে একজন বাংলাদেশির পক্ষে নির্ধারিত সময়ে কাজে ফেরা প্রায় অসম্ভব। আবার অনেকের সব ঠিক থাকার পরও টিকিট পাচ্ছেন না। এতে তাদের যাত্রা নিয়ে তৈরি হয়েছে অনিশ্চয়তা। পত্রিকার সংবাদে প্রকাশ হয়েছে যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী একে আবদুল মোমেন বলেছেন, ‘সে দেশের কফিল (নিয়োগকর্তা) না চাইলে ভিসা ও ইকামার মেয়াদ বৃদ্ধি করবে না সৌদি কর্তৃপক্ষ। কারণ সেখানে ফিরে তো তাদের কফিলের সঙ্গে কাজ করতে হবে। কফিল যাদের চাচ্ছেন না, শুধু তারা যেতে পারবেন না, বাকিরা তো যাচ্ছেন।’ এরই মধ্যে ইকামা ও ছুটির মেয়াদ বাড়ানোর নামে অনেক সৌদি মালিকের বিরুদ্ধে ৩ থেকে ৪ লাখ টাকা নেওয়ার অভিযোগ তুলছেন সৌদি ফেরত প্রবাসীরা। আবার টাকা নিয়েও অনেক সৌদি মালিক ছুটি ও ইকামার মেয়াদ বাড়ায়নি, এমন অভিযোগ প্রবাসীদের। স্বয়ংক্রিয়ভাবে ভিসার মেয়াদ না বাড়ায় সৌদি কফিলদের ওপরই নির্ভর করছে সৌদিফেরত এসব প্রবাসীর পুনরায় কাজে যোগ দেয়ার বিষয়টি।

আসলে অনেক বাঙালি সৌদি আরবে থাকার কারণে এখানের কফিলদেরও বিভিন্ন ধরনের দাবি মেটাতে হয়। এবারেও অনেকে ইকামা বাড়ানোর জন্য তিন হাজার রিয়াল দাবি করেছে। অনেকে টাকা নিয়েও কাজ করেনি। এ ধরনের বিভিন্ন সমস্যায় সৌদি প্রবাসীরা। এদেশে বেকার বসে আছে অনেকদিন, তারা কী করবে? হতাশায় নিমজ্জিত সৌদি প্রবাসীরা। আমাদের অর্থনীতি সচলকরণে সৌদি প্রবাসীদের পাঠানো রেমিট্যান্স অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভ‚মিকা রাখে। সব মিলিয়ে আমাদের সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিৎ সৌদি সরকারের সঙ্গে জরুরি আলোচনায় বসা। সরকারি পর্যায়ের আলোচনায় এ সংকটের সুরাহা হতে পারে বলে আমাদের ধারণা। সরকার জরুরিভাবে এ সংকট নিরসনে ব্যবস্থা নেবেন-এ প্রত্যাশা আমাদের।

 

 

সবুজ সিলেট/ এহিয়া আহমদ