কুলাউড়ায় এমপি’র টিউবওয়েল বরাদ্দের ব্যাপক অনিয়ম

18

মোঃ নাজমুল ইসলাম,কুলাউড়া ::
বহুল আলোচিত, সমালোচিত কেন্দ্রীয় আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক, ঐক্যফ্রন্ট থেকে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে মৌলভীবাজার-২ কুলাউড়া আসন থেকে নির্বাচিত এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর আহমদের বরাদ্দকৃত ২০২০-২১ অর্থ বছরের (“সমগ্র দেশে নিরাপদ পানি সরবরাহ” প্রকল্পের আওতায় সরকার থেকে পাওয়া) ১ম পর্যায়ের ১৭০ টি টিউবওয়েল যারা বরাদ্দ পেয়েছেন সেই তালিকায় যাদের নাম তালিকাভুক্ত করা হয়েছে তাতে ব্যাপক অনিয়ম, দূর্নীতি, স্বজনপ্রীতি ও দলীয়করণ করা হয়েছে। সেই তালিকায় দেখা গেছে কুলাউড়া পৌর শহরসহ সবক’টি ইউনিয়নের অনেক ধর্নাঢ্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তি, প্রবাসী, আইনজীবি, শিক্ষক ও ব্যবসায়ীর নাম রয়েছে। তালিকা প্রস্তুুতে ইউনিয়ন পর্যায়ে কোন চেয়ারম্যান বা মেম্বারদের সাথে কোন ধরণের সমন্বয় করা হয়নি। যার কারণে এই তালিকা তৈরিতে ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। তালিকাটি এমপি’র ব্যক্তিগত সহকারী, অফিস সহকারী, সমন্বয়কারীসহ তাঁর অনুসারীরা সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রকাশ করলে মুহুর্তের মধ্যে দেশ ও বিদেশে চাউর হলে নেট দুনিয়ায় তা ভাইরাল হয়। এতে ক্ষোভ প্রকাশ করে এমপি’র প্রতি বিষেদাগার করেন বিভিন্ন শ্রেণী পেশার শত শত লোকজন। তবে এমপি সুলতান মোহাম্মদ মনসুর বলেছেন, এককথায় আমি বলতে পারি, আমি যারে প্রয়োজন মনে করেছি তাকেই টিউবওয়েল দিয়েছি।

এমপি সুলতান মনসুর গত বছরের ১৬ ডিসেম্বর বিজয় দিবসের অনুষ্ঠানে বিজয়ের ৩৮ বছর বলে বক্তব্য দিয়ে সমালোচিত হয়ে কুলাউড়া ছাড়েন।

করোনাকালীন সময়ে এমপি’র কাছে মুঠোফোনে কুলাউড়া সদর ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ত্রাণ চাইলে তিনি তাকে অশ্রাব্য ভাষায় গালিগালাজ করে হাকালুকি হাওরে গিয়ে ডুব দিয়ে মরতে বলেন। তাঁর এ ধরণের বক্তব্যের একটি ফোনালাপ সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। এরপর আর তিনি কুলাউড়া না ফিরে সাধারণ জনগণের সাথে কোন ধরণের যোগাযোগ ছাড়াই করোনা অজুহাতে দীর্ঘ ১০ মাস থেকে ঢাকায় অবস্থান করছেন। এই সুযোগে এমপি’র কুলাউড়ার দাপ্তরিক অফিস বিভিন্ন অনিয়ম ও দূর্নীতি আখড়ায় পরিণত হয়েছে। তাঁর সংশ্লিষ্ট বিভাগের প্রতিনিধিরা ইচ্ছামাফিক টাকার বিনিময়ে সরকারি টিউবওয়েল, স্যোলার (সৌর বিদ্যুৎ) বরাদ্দ দিচ্ছেন তাদের ঘনিষ্টজন ও এমপি’র অনুসারীদের।

সাম্প্রতি কিছু দিন আগে সরকারী স্যোলার (সৌর বিদ্যুৎ) বিতরণেও ব্যাপক অনিয়ম হয়েছে। এমপির বরাদ্দকৃত তালিকায় দেখা যায় নামী-দামী গাড়ি বাড়ির মালিক সহ এমপির গ্রামের ধন্যাঢ্য আত্মীস্বজনরা ব্যাপকহারে সৌর বিদ্যুৎ বরাদ্দ পেয়েছেন। এ নিয়ে কুলাউড়ায় তোলপাড় শুরু হয়েছিলো। কিন্তু বর্তমানে সরকারী টিবওয়েল বরাদ্দের তালিকা দেখে সামাজি যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকসহ এমপি সুলতান মনসুরকে নিয়ে দেশ-বিদেশে আলোচনা-সমালোচনা ঝড় উঠেছে।

উপজেলা যুবলীগের সভাপতি মোঃ আব্দুস শহীদ ও উপজেলা স্বেচ্ছাসেবকলীগের সাবেক সভাপতি মোঃ ছয়ফুর রহমান আওয়ামী রাজনীতির সাথে জড়িত থাকলেও ধানের শীষের এমপি সুলতান মনসুরের সরকারি টিউবওয়েলসহ আর বিভিন্ন কাজের সমন্বয় ও তদারকির দায়িত্বে রয়েছেন বলে জানা গেছে। ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে এমপি নির্বাচিত হয়ে বিএনপি নেতাকর্মীদের বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাঁর যুবলীগ প্রীতি (হৃদয়ে বঙ্গবন্ধু) দেখে অনেক বিএনপি নেতাকর্মীরা এখন তাকে ভূলতে বসেছেন। সবাই মনে করছেন, ধানের শীষে ভোট দিয়ে সুলতান মনসুরকে এমপি নির্বাচিত করে তারা চরম ভূল করেছেন। যার কারণে এখন সুলতান মনসুর বিএনপির অনেক নেতাকর্মীকে ভূলে গেছেন।

চলতি অর্থ বছরে সরকারি টিউবওয়েল বরাদ্দের তালিকায় যে সকল ধর্নাঢ্য ও রাজনৈতিক ব্যক্তির নাম রয়েছে তারা হলেন- বরমচাল ইউনিয়নে ইউনিয়ন আ’লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাহান উদ্দিন যার পরিবারের তিন ভাই লন্ডনে রয়েছেন এবং স্থানীয় ফুলেরতল বাজারে একটি বিশাল মার্কেট ও রয়েছে, উপজেলা আওয়ামীলীগের সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী সিরাজ উদ্দিন আহমদ সোহাগের চাচাতো ভাই সবুজ উদ্দিন, ধনাঢ্য ব্যক্তি মোঃ দলা মিয়া যার ছেলে আশরাফ আল পারভেজ মিশরের একজন প্রতিষ্ঠিত ব্যবসায়ী। লোকমুখে বিরাজমান, জাতীয় নির্বাচনের সময় এমপি সুলতান মনসুরকে দশ লক্ষ টাকা প্রদান করেন ওই মিশর প্রবাসী ব্যবসায়ী আশরাফ আল পারভেজ।
ভূকশিমইল ইউনিয়নে ধনাঢ্য ব্যক্তির তালিকায় রয়েছেন ডাঃ মামুন, উপজেলা যুবলীগ নেতা এনামুল ইসলাম, ইউনিয়ন যুুবলীগের সভাপতি বিরেন্দ্র কান্ত দাস।
ভাটেরা ইউনিয়নের তালিকায় রয়েছেন, উপজেলা যুবলীগের সহ-সভাপতি আব্দুল লতিফ, ইউনিয়ন জামায়াতের আমীর আব্দুল হামিদ খান, ইউনিয়ন বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সৈয়দ রনি হাসান ছালাম, যার পরিবারে একাধিক ব্যক্তি লন্ডন রয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী মুজিবুর রহমান তালুকদার, ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি সুমন মিয়া, স্বপন মিয়া যার পরিবার গত অর্থ বছরেও সরকারি টিউবওয়েল বরাদ্দ পেয়েছে।

সবুজ সিলেট/ এস মায়াজ আহমদ তালহা