পাইলট স্কুলের বিরুদ্ধে টিফিনের টাকা মেরে খাওয়ার অভিযোগ

46

নিজাম উদ্দিন টিপু
সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ের বিরুদ্ধে টিফিনের টাকা মেরে খাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেইসবুকে এই নিয়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে। করোনা পর থেকে স্কুল বন্ধ হয়ে যাওয়ার ফলে ছাত্ররা স্কুল যায় নি, কিন্তু বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ অভিভাবকদের মোবাইল ফোনে ম্যাসেজ দিয়ে টিফিনের টাকাও নিচ্ছেন। মহামারি করোনার জন্য গত মার্চ মাস থেকে বন্ধ আছে বিদ্যালয়টি। বিদ্যালয়ের ছাত্ররা ঘরে থেকে পড়াশোনা চালিয়ে যাচ্ছেন। করোনার কারনে সরকার বিভিন্ন শ্রেণিতে অটোপাস ও জেএসসি পরীক্ষাও অটোপাসের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন।
বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান যখন করোনাকালীন এই সময়ে মানবিক হচ্ছে ঠিক উল্টে ঘটছে সিলেটের শত বৎসরের ঐতিহ্যবাহী প্রতিষ্ঠান সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ে।
সিলেট সরকারি উচ্চবিদ্যালর কৃর্তপক্ষ অভিভাবকদের মোবাইলে ম্যাসেজ দিয়ে ছাত্রদের বেতন দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানাচ্ছেন। ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর মাসের বকেয়া বেতন আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধের তাগদা দেন।
তবে অভিভাবকদের অভিযোগ তাদের সন্তানরা যেহেতু করোনার পর থেকে স্কুলে যায় নি, তাহলে কেন তারা বিদ্যালয়ের চাপিয়ে দেওয়া অতিরিক্ত টিফিন বাবাদ টাকা দিবেন। বাংলাদেশ সরকার যখন করোনাকালীন সময়ে মানবিক হচ্ছে তখন লুটপাঠ চালাচ্ছে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, নবম শ্রেণির এক ছাত্রের অভিভাবকেদর মোইফোনে ফেব্রুয়ারি থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত এক হাজার ৪ শত টাকা আগামী ২৮ অক্টোবরের মধ্যে পরিশোধ করার জন্য বলা হয়। সেখানে প্রধান শিক্ষক এই বকেয়া টাকা পরিশোধের নির্দেশন দেন। এই এক হাজার ৪শত টাকার মধ্যে মুদ্রণ ১৭৫, টিফিন ৭৫, ম্যগাজিন ৬০, ক্রীড়া ১০০, সংস্কৃতি ৭৫, মিলাদ-পূজা ৭৫, লাইব্রেরী ৭৫ টাকা ধরা হয়েছে।
এগার মাসে ৭৫ টাকা করে টির্ফিনের টাকা আসে ৮২৫। এই ১১ মাসের মধ্যে ৭ মাসই বিদ্যালয় বন্ধ ছিল কিন্তু তাদের কাছ থেকে ৮২৫ টাকা করে নেওয়া হচ্ছে। বাকী টাকাগুলো কার পকেটে যাচ্ছে তা নিয়ে অভিভাবকদের প্রশ্ন?
সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে অভিভাবকদের অভিযোগ টিফিনের টাকা নিয়ে। তারা জানা আমাদের বাচ্ছারা যেহেতু স্কুলেই যায় নি, তাহলে কেন আমারা অযুক্তিক টিফিনের টাকা দেব। এটি সম্পূর্ণ অমানবিক ও অন্যায় কাছ করা হচ্ছে। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ হাজার হাজার ছাত্রের টিফিনের টাকা লুটপাট করছে।
এ ব্যাপারে সিলেট সরকারি পাইলট উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. কবির খান বলেন, এই অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা। আমরা প্রথমে টিফিনের টাকাটা এড করে সকল অভিভাবদের নিটক এই ম্যাসেজ প্রদান করি। পরে স্কুল কর্তৃপক্ষ বসে আমার করোনার বিষয়টি মাথায় রেখে তা বাতিল করে। আমার স্কুলের টিফিন বাবাদ কোনো টাকা নিচ্ছি না।
তবে প্রধান শিক্ষাক বিষয়টি অস্বীকার করলেও অভিযোগকারী এক অভিভাবক বলেন, মাসিক বেতন হলো ১৩০ টাকা এর মধ্যে টিফিন বাবাদ ৭৫ টাকা ধরা হয়। আমাদের কাছ থেকে ১৩০ টাকাই নেওয়া হয়েছে। আমি আজ বুধবার পাইলট উচ্চবিদ্যালয়ে গিয়ে মেসেজ অনুযায়ী এক হাজার ৪ শত ৩০ টাকা দিয়ে এসেছি। তাহলে কিভাবে টিফিনের টাকা নেওয়া হলো না। বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ রেজিস্ট্রার খাতার মধ্যে টাকার প্রদানের বিষয়টি লিখে রেখেছেন। তবে বিদ্যালয় কৃর্তপক্ষ আমাদের কোনো রিসিট প্রদান করেন নি। এ থেকেই বুঝা যায় এখানে নয়-ছয় হচ্ছে।
এ ব্যাপারে সিলেটের জেলা প্রশাসক এম কাজী এমদাদুল ইসলামের সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেন নি।