নারী যাত্রীদের অবমাননায় কাতার সরকারের দুঃখ প্রকাশ

7

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
দোহার হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নারী যাত্রীদের নগ্ন করে তল্লাশির পর অস্ট্রেলিয়া সরকারের অভিযোগের পর অবশেষে মুখ খুলেছে কাতার সরকার। আন্তর্জাতিক মিডিয়ার খবর ছড়িয়ে পড়ার তিনদিন পর বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিষয়টি তদন্ত করে দেখা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

বিমানবন্দরে নারীদের ঘনিষ্ঠভাবে মেডিকেল পরীক্ষার সিদ্ধান্ত গ্রহণের ফলে কাতার সরকার ‘যেকোনো ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতা লঙ্ঘনের জন্য অনুশোচনা জানিয়েছে তারা। এটিকে ‘জরুরিভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নেওয়া অনুসন্ধান’ হিসেবে বলা হয়েছে ওই বিবৃতিতে।

সরকারের তরফ থেকে বলা হয়েছে, হামাদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের টারমাকের একটি ‘ট্র্যাশ ক্যানে’ এক নবজাতকের পরিত্যক্ত দেহ পাওয়ার পর তাড়াহুড়া করে ওই তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। নবজাতকের দেহ প্লাস্টিকে মোড়ানো ও ময়লা দিয়ে চাপা দেওয়া অবস্থায় পাওয়া যায়। প্রথমবারের মতো এমন ঘটনা প্রত্যক্ষ করে তারা কিংকর্তব্যবিমূঢ় হয়ে তল্লাশির সিদ্ধান্ত নেন বলা জানানো হয়েছে।

বিবৃতিতে জানানো হয়, নবজাতক একটি মেয়ে শিশু যার দেহ প্লাস্টিকে মোড়ানো অবস্থায় ময়লার নিচে চাপা দেওয়া ছিল। তারা ধারণা করছেন শিশুটিকে হত্যার উদ্দেশ্যেই এভাবে ফেলে রাখা হয়েছিল, যা তাদের কাছে অত্যন্ত ভয়াবহ ও নিন্দনীয় বলে মনে হয়েছে তখন। তাদের উদ্দেশ্য ছিল কিছুতেই যেন শিশুটির জন্মদাত্রী দেশ ছেড়ে যেতে না পারে। শিশুটি স্বাস্থ্যকর্মীদের কাছে নিরাপদ আছে বলেও তারা জানায়। নারী যাত্রীদের পোশাক খুলে তল্লাশির ওই ঘটনায় যেকোন ভ্রমণকারীর ব্যক্তিগত স্বাধীনতার কোনো ধরনের সংকট বা লঙ্ঘনের জন্য কাতার দুঃখ প্রকাশ (regret) করছে এবং তদন্ত করার ঘোষণা দিয়েছে।

কাতারের প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী শেখ খালিদ বিন খলিফা বিন আব্দুল আজিজ আল থানী এই ঘটনার সুস্পষ্ট ও স্বচ্ছ তদন্তের নির্দেশ দিয়েছেন। এই তদন্তের ফলাফল তাদের আন্তর্জাতিক মিত্রদের সঙ্গে ভাগ করা হবে। কাতার সরকার সে দেশের মধ্য দিয়ে সব যাত্রীর নিরাপত্তা, সুরক্ষা এবং স্বাচ্ছন্দ্য নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুদ্ধ।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মরিস পেইন বলেছেন ২ অক্টোবর দোহা থেকে সিডনিগামী কাতার এয়ারওয়েজের ফ্লাইটে ১৮ জন নারী যাত্রী ছিলেন যাদের মধ্যে ১৩ জন অস্ট্রেলিয়ান নাগরিক। প্রতিটি নারী যাত্রীর পোশাক খুলে বাধ্যতামূলক মেডিকেল পরীক্ষা করে দেখা হয় কেউ সদ্য সন্তান জন্ম দিয়েছেন কি না। ৩ অক্টোবর অস্ট্রেলিয়ান নারীরা অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষের কাছে বিষয়টি জানায়। কেউ কেউ বিমানবন্দর পুলিশের কাছে অভিযোগও করেন। ডিএফএটির একজন কর্মী সেদিন রাতেই তার অফিসে মেইল করে ঘটনা জানান।

ঘটনা জানার পরপরই অস্ট্রেলিয়ান কর্তৃপক্ষ সেদেশে অবস্থিত কাতার দূতাবাসে অভিযোগ করে। এমনকি ৬ অক্টোবর একজন অফিসিয়াল সেদেশে নিযুক্ত কাতারের রাষ্ট্রদূতের কাছে রিপোর্ট করেন।

এদিকে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী স্কট মরিসনও এই ঘটনায় ক্ষোভ জানিয়েছেন। তিনি একে ‘অগ্রহণযোগ্য’ ও ‘আতঙ্কজনক’ হিসেবে অভিহিত করে বলেন, তার সরকার এ ব্যাপারে কঠোর পদক্ষেপ নিতে থাকবে যাতে এমন ঘটনার পুনরাবৃত্তি না ঘটে আর। সংবাদমাধ্যমকে তিনি আরও বলেন, ‘এ ধরনের দুর্ঘটনা’ ছাড়াই ভ্রমণ করার অধিকার রয়েছে সবার। অস্ট্রেলিয়া আশা প্রকাশ করে তদন্তকাজ যেন দ্রুত শেষ করা হয়। তদন্তে সহায়তার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকার ভুক্তোভোগী নারীদের বয়ান কাতার সরকারের কাছে পৌঁছে দেবে। তিনি আরও বলেন, কন্যাসন্তানের বাবা হিসেবে অস্ট্রেলিয়াই শুধু নয় যেকোনো দেশের নারীদেরই এমন ঘটনার মুখোমুখি হওয়ার কথা চিন্তা করলে তিনি ‘কেঁপে উঠছেন’।

উল্লেখ্য, করোনা অতিমারির কারণে বিভিন্ন দেশে আটকে পড়া অস্ট্রেলিয়ান নাগরিকদের দেশে ফিরিয়ে আনতে কাতার এয়ারওয়েজ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করছিলো। দ্য গার্ডিয়ানের তথ্য অনুযায়ী এপর্যন্ত তারা প্রায় ১৫ শতাংশ অস্ট্রেলীয় নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে এনেছে।