আফগানিস্তানে ৯ মাসে ৬ হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত

5

আন্তর্জাতিক ডেস্ক
২০২০ সালের প্রথম নয় মাসে আফগানিস্তানে প্রায় ছয় হাজার বেসামরিক নাগরিক হতাহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ। খবর রয়টার্স।মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে ইউএন অ্যাসিসট্যান্স মিশন ইন আফগানিস্তান(ইউএনএএমএ) জানিয়েছে, মূলত তালেবান বিদ্রোহীদের সঙ্গে সরকারি বাহিনীগুলোর লড়াইয়ে এসব হতাহতের ঘটনা ঘটেছে।

এ ব্যাপারে বার্তাসংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, শান্তি প্রচেষ্টার উদ্যোগ সত্ত্বেও এই সময়কালে বিদ্রোহীদের তৎপরতা বেড়েছে।

ওই প্রতিবেদনের তথ্য অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত নয় মাসে দেশটিতে পাঁচ হাজার ৯৩৯ জন হতাহত হয়েছেন। এদের মধ্যে দুই হাজার ১১৭ জনের মৃত্যু এবং তিন হাজার ৮২২ জন আহত হয়েছেন।

এছাড়াও, আফগানিস্তানে বেসামরিক নাগরিকদের ওপর ধ্বংসাত্মক প্রভাব বিস্তারকারী উচ্চ মাত্রার সহিংসতা অব্যাহত আছে। দেশটি এখনও বেসামরিক নাগরিকদের জন্য বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর স্থানগুলোর মধ্যে রয়েছে – বলে মিশনের ত্রৈমাসিক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

পাশাপাশি, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এবার হতাহতের সংখ্যা ৩০ শতাংশ কম বলে ইউএনএএমএ জানিয়েছে।

মিশনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, সেপ্টেম্বরে কাতারের রাজধানী দোহায় সরকারি ও তালেবান মধ্যস্থতাকারীদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ার পরও সহিংসতা কমেনি।

এদিকে, বেসামরিক হতাহতের ৪৫ শতাংশ ঘটনার জন্য তালেবান, ২৩ শতাংশের জন্য সরকারি সেনারা এবং ২ শতাংশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন বাহিনী দায়ী বলে জানিয়েছে তারা।

অবশিষ্ট অধিকাংশ হতাহতের ঘটনা দুই পক্ষের গোলাগুলির মাঝে পড়ে যাওয়ার কারণে অথবা ইসলামিক স্টেটের (আইএস) জঙ্গিদের কারণে বা ‘অনির্ধারিত’ সরকারবিরোধী অথবা সরকারপন্থি বিভিন্ন উপদলের হামলার কারণে ঘটেছে – বলে জানানো হয়েছে।

অন্যদিকে, হতাহতের অধিকাংশ ঘটনা ঘটেছে স্থলযুদ্ধে। এরপর কারণ হিসেবে রয়েছে আত্মঘাতী এবং রাস্তার পাশে পেতে রাখা বোমা হামলা। তারপর তালেবানের পূর্বপরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড এবং আফগান বাহিনীর বিমান হামলায় বেসামরিক হতাহতের ঘটনা ঘটেছে – বলছে জাতিসংঘ মিশন।

প্রসঙ্গত, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের টুইন টাওয়ারে হামলার কয়েক সপ্তাহের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন সামরিক বাহিনী আফগানিস্তানের ক্ষমতা থেকে তালেবানকে উৎখাত করে। তারপর থেকে গত ১৯ বছর ধরে দেশটিতে বহুপাক্ষিক লড়াই চলে আসছে। ওই লড়াই শেষ করার লক্ষেই দোহায় শান্তি আলোচনা শুরু হয়।