সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালী মামলা থেকে বেকসুর খালাস:: বাদীর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহনের আদেশ আদালতের

18

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর উপজেলার সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বনামধন্য চেয়ারম্যান সুনামগঞ্জ জেলা আওয়ামী লীগের কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য তৈয়ব মিয়া কামালী সহ তার স্বজনদের ওপর সৈয়দ জুম্মান আহমদ বাদী হয়ে দায়েরকৃত মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত বিবাদীদের মামলার দায় হতে অব্যাহতি দিয়ে মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমদের বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় নন এফআইআর প্রসিকিউশন দাখিলের জন্য আদেশ দিয়েছেন।

মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর ) সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট শুভদীপ পাল এই আদেশ দেন। আজ সোমবার (২৬ অক্টোবর) জগন্নাথপুর থানার অফিসার ইনচার্জ মো. ইখতিয়ার উদ্দিন চৌধুরী জানান , মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমদের বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য ইতোমধ্যে বিজ্ঞ আদালতের আদেশ পেয়েছি।

জানা যায়, সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের জননন্দিত চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী সহ তার স্বজনদের বিরুদ্ধে ২০১৯ সালের নভেম্বর মাসে হামলার অভিযোগ এনে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়নের সৈয়দপুর গোয়াল গাওঁ গ্রামের সৈয়দ বাদশা মিয়ার ছেলে সৈয়দ জুম্মান আহমদ বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় মামলা দায়ের করে।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা কর্তৃক চুড়ান্ত রিপোর্টে ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান তৈয়ব কামালী সহ তার স্বজনের ওপর দায়ের করা সৈয়দ জুম্মানের মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়েছে।

পাসপোর্ট করার জন্য নাগরিক সনদপত্র আনতে গিয়ে হেনস্তার শিকার পরবর্তীতে সৈয়দপুর বাজার হতে তার বাড়িতে আসার সময় রড,লাঠি,লোহার পাইপ দিয়ে হামলা করা হয়েছে। এমন অভিযোগে জুম্মান বাদী হয়ে জগন্নাথপুর থানায় এই মিথ্যা মামলাটি দায়ের করেন।

বিবাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. নুরে আলম সিদ্দিকি(উজ্জ্বল) বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, রড,লাঠি,লোহার পাইপ দিয়ে হামলার ঘটনায় থানায় দায়ের করা মামলাটি তদন্ত শেষে তদন্তকারী কর্মকর্তা বিজ্ঞ আদালতে দাখিলকৃত চূড়ান্ত রিপোর্টে এজহারনামীয় সকল আসামীদেরকে মামলার দায় হতে অব্যাহতি প্রার্থনা সহ মামলার বাদী কর্তৃক মিথ্যা মামলা দায়ের করায় বাদীর বিরুদ্ধে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় প্রসিকিউশন এর অনুমতি প্রার্থনা করেন। আদালত দীর্ঘ শুনানি ও সাক্ষ্য গ্রহণ শেষে প্রতীয়মান হয় যে, মামলাটি মিথ্যা, বানোয়াট ও উদ্দেশ্য প্রণোদিত।

মিথ্যা মামলা দায়ের করে ওই মামলার আসামিদের যে ভোগান্তি দেয়া হয়েছে তার একটা ন্যায় ও সুবিচার হোক। তিনি বলেন,বিজ্ঞ আদালত রায় ঘোষণার সময় মামলার আসামি তৈয়ব কামালী সহ সকল আসামীদের বেকসুর খালাস দিয়েছেন।

একই সঙ্গে প্যানাল কোডের ২১১ ধারায় মামলার বাদী সৈয়দ জুম্মান আহমেদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেয়ার আদেশ দিয়েছেন আদালত।
এ ঘটনার মধ্যদিয়ে আইনের শাসন ও ন্যায় বিচার প্রতিষ্ঠার স্বার্থে মিথ্যা মামলা দায়েরকারী সৈয়দ জুম্মানের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থার নির্দেশ প্রদান করা হয়েছে।

এ ব্যাপারে সৈয়দপুর শাহারপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের স্বনামধন্য চেয়ারম্যান তৈয়ব মিয়া কামালী বলেন, মহামান্য আদালতের ন্যায় বিচারে আমি সহ সকলেই খুশি হয়েছেন। কদিন পর পর সৈয়দপুর এলাকায় এই সন্ত্রাসী বাহিনী বিভিন্ন মানুষের ওপর হামলা করে থাকে। এবং স্বনামধন্য এই ইউনিয়নকে অশান্ত করে রাখে এই সন্ত্রাসী বাহিনী। যা এই রায়ের পর তাদের সন্ত্রাসী কর্মকা- ও মিথ্যা মামলা দেয়ার প্রবণতা কমে আসবে।

তিনি আরো বলেন আমি প্রবাসে ছেলে মেয়ে এবং পরিবারের সদস্যদের রেখে বিলাস বহুল জীবনযাপন ত্যাগ করে দেশের নিজ ইউনিয়নের জনসাধারনের সেবা প্রদানে নিররসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কতিপয় স্বার্থান্বেষী মহল নিজ স্বার্থে অনুসারীদের দিয়ে আমি ও আমার স্বজনদের হেনস্তার চেষ্টা করে আসছে। আমি এসব হীন চক্রান্তের তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। বিজ্ঞ আদালতের দেয়া রায় একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে।