জগন্নাথপুরের আছিমপুর গ্রামের শাহনুর মিয়া কর্তৃক বিয়ের প্রলোভনে জর্ডান প্রবাসী নারীর সর্বনাশ ! মামলা দায়ের

62

জগন্নাথপুর প্রতিনিধি ::
জগন্নাথপুর উপজেলার রানীগঞ্জ ইউনিয়নের আছিমপুর গ্রামের মৃত আব্দুর রহমানের ছেলে শাহনুর মিয়া কর্তৃক বিয়ের প্রলোভনে প্রতারণার মাধ্যমে নবীগঞ্জ উপজেলার বাসিন্দা জর্ডান প্রবাসী জুমি বেগমের বিপুল পরিমান অর্থ ও স্বর্নালংকার হাতিয়ে নিয়েছে।

এ ঘটনায় জুমি বেগম বাদী হয়ে প্রতারক শাহনুর মিয়াকে (২৯) প্রধান আসামী করে ৫জনের বিরুদ্ধে প্রতারনার মাধ্যমে টাকা , মালামাল আত্মসাৎ, মারধর ও শারীরিক সর্ম্পকের কারনে জোড়পূর্বক গর্ভপাত ঘটানোর অভিযোগ এনে সুনামগঞ্জের আমল গ্রহনকারী জুডিসিয়াল ম্যাজিষ্ট্রেট আদালতে মামলা দায়ের করেছেন।

মামলার অন্যান্য আসামীরা হলেন প্রতারক শাহনুর মিয়ার ভাই ফয়সল আহমদ (৪২), শাহিন মিয়া (৩৪), আব্দুল মতিনের স্ত্রী রঙ্গু বেগম (৪৫), ফয়সল আহমদের স্ত্রী লাকি বেগম (৩৫)।

প্রতারনার শিকার গরীব অসহায় পরিবারের মেয়ে জুমি বেগম মামলার অভিযোগে উল্লেখ করেন পারিবারিক অভাব অনটনের কারনে বিগত ২০১৫ সালের মাঝামাঝি সময়ে গৃহকর্মীর ভিসায় জর্ডানে যান। সেখানে থাকা অবস্থায় মোবাইল ফোনের রং নাম্বারে কল করার মাধ্যমে শাহনুর মিয়ার সাথে পরিচয় হয়। ওই সময় প্রতারক শাহনুর মিয়া সে একটি ঔষধ কোম্পানির সেলসম্যান পরিচয় দিয়ে মন ভোলানো কথা বলে প্রেমের সর্ম্পক গড়ে তুলে । এক পর্যায়ে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দেয়। ওই সময়ে শাহনুর মিয়া তার পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের সাথে ফোনলাপের মাধ্যমে গভীর সর্ম্পকের সৃষ্টি হয়। ২০১৬ এবং ২০১৮ সালের মাঝামাঝি সময়ে শাহনুর মিয়াকে চাকুরির পাশাপাশি সুবিদাজনক ব্যবসা করার জন্য ৩ লাখ টাকা প্রদান করা হয়।

জুমি বেগম মামলার এজাহারে আরো উল্লেখ করেন , প্রতারক শাহনুর মিয়ার দেয়া বিয়ের প্রতিশ্রুতির ফলে ২০১৮ সালের ৬ জুলাই জর্ডান থেকে দেশে ফেরেন। নিজ এলাকায় আসার পর বিয়ের আয়োজন করার জন্য শাহনুরকে জানালে প্রতারক নারীলোভী পারিবারিক সমস্যা দেখিয়ে গোপনে বিয়ের প্রস্তাব দেয়। সরল বিশ^াস এবং গভীর প্রেমের কারনে গোপনে বিয়ে করার প্রস্তুতি নিলে পূনরায় প্রতারক শাহনুরের কথা অনুযায়ী নগদ আরো ১ লাখ টাকা ৩ ভরি স্বর্নালংকার ও কাপড় ছোপড় দেই। ওই সময়ে প্রতারক শাহনুর গোপনে বিয়ে করার জন্য সিলেট মহানগরীর একটি আবাসিক হোটেলে নিয়ে স্ত্রী পরিচয়ে ওই হোটেল কক্ষে জোরপূর্বক শারিরীক সর্ম্পকের চেষ্টা করে, পরবর্তীতে পরবর্তীতে মিথ্যা তথ্য দিয়ে ৩লাখ টাকা মোহরানা উল্লেখ করে দুটি স্টাম্পে স্বাক্ষর নেয়। পরবর্তীতে কাবিন রেজিষ্ট্রি করার প্রতিশ্রুতি দেয়।

শাহনুরের প্রতারনার বিষয়টি না বুঝে সিলেট শহরে তার এক বন্ধুর বাসায় এবং বিভিন্ন সময়ে আবাসিক হোটেলে অবস্থান করে স্বামী স্ত্রী হিসেবে শারিরীক সর্ম্পকে মিলিত হয়। এ ঘটনার প্রায় দুই মাস পর প্রতারক শাহনুর কৌশলে আমার গর্ভের সন্তান নষ্ট করে।
জুমি বেগম এজাহারে আরো উল্লেখ করেন, স্ত্রীর মর্যাদার জন্য শাহনুরকে তার বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার কথা বলায় প্রতারক শাহনুর এলোপাতাড়ি ভাবে মারধর সহ গলা টিপে হত্যা করার চেষ্টা চালায়। সুবিচার প্রার্থনায় আদালতে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানান জুমি বেগম।