মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার

6

সবুজ সিলেট ডেস্ক :: কিশোরগঞ্জের কটিয়াদীতে বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজের একদিন পর বসতঘরের পাশে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় স্বামী-স্ত্রী ও তাদের ১২ বছর বয়সী শিশুপুত্রের মরদেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার বনগ্রাম ইউনিয়নের জামষাইট এলাকা থেকে গলাকাটা মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।

নিহতরা হলেন- জামষাইট গ্রামের মৃত মীর হোসেন খানের ছেলে আসাদ মিয়া (৫২), তার স্ত্রী পারভিন আক্তার (৪০) ও তাদের শিশুপুত্র লিয়ন (১২)।

পারিবারিক বিরোধের জেরে এ চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ড হয়েছে বলে ধারণা পুলিশের। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিহত আসাদের ভাই, দুই বোন ও এক বোনের স্বামীকে আটক করেছে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, বৃহস্পতিবার সকালে বাড়ি থেকে রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হন আসাদ ও তার স্ত্রী-সন্তান। তাদের দুই ছেলে মোফাজ্জল ও তোফাজ্জল আজ ঢাকা থেকে বাড়ি ফিরে বাবা-মা ও ছোট ভাইকে পাচ্ছিলেন না। ঘরের ভেতর রক্ত দেখতে পেয়ে তারা আশপাশের লোকজনকে জানান। বিকেলে পুলিশে খবর দিলে কটিয়াদী থানা পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরে বসতঘরের পাশে একটি গর্তে মাটিচাপা দেয়া তিনজনের মরদেহ পাওয়া যায়।

নিহত আসাদের ছেলে মোফাজ্জল হোসেন জানান, আজ সকালে তিনি নানাবাড়ি থেকে বাড়ি ফিরে দেখেন ঘরে তার মা-বাবা এবং ভাই নেই। কিন্তু ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ রয়েছে। এ ঘটনা আশপাশের লোকজনকে জানান তিনি।

পরে গ্রামবাসী পুলিশে খবর দিলে পুলিশ বসতঘরের পাশে মাটিচাপা দেয়া অবস্থায় তিনজনের মরদেহ উদ্ধার করে। ঘটনার পরপরই পুলিশ, সিআইডি ও পিবিআইএয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মাশরুকুর রহমান খালেদ জানান, প্রাথমিকভাবে পারিবারিক বিরোধের জেরে এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে জানা গেছে। পুলিশ নিহত আসাদের ভাই দীন ইসলাম, দুই বোন নাজমা ও তাসলিমা এবং তাসলিমার স্বামী ফজলু মিয়াকে আটক করেছে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আসাদের মাকেও আটক করা হয়েছে।

নিহতদের মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য কিশোরগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠানো হয়েছে।