জামায়াত নেতার পক্ষে মিসবাহ সিরাজের ওকালতি ; সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে ঘরে-বাইরে বিতর্ক

510
ফাইল ছবি

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে মারজান উল হক নামে এক জামায়াত নেতার জামিনের জন্য আদালতে শুনানীতে অংশ নিয়েছেন বাংলাদেশ আওয়ামীলীগের সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক ও সিলেটের সাবেক পাবলিক প্রসিকিউটর এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। গত ২৪ ও ২৬ নভেম্বর দু’দফা তিনি এই জামায়াত নেতার জন্য প্রধান কৌশলী হিসেবে জামিন শুনানীতে অংশগ্রহণ করেন। প্রথম দফা না জেনে অংশ নিয়েছেন বলে উল্লেখ করে দু:খপ্রকাশ করার পরও দ্বিতীয় দফায় তিনি আবারো একই কাজ করায় ক্ষুব্ধ হয়েছেন অনেকে।

জানা যায়, গত ১০ নভেম্বর শাহপরাণ থানায় তেরোরতন এলাকার বাসিন্দা জামায়াত নেতা মারজান উল হকের বিরুদ্ধে ১ কোটি ৮০ লক্ষা টাকা আত্মসাৎসহ প্রতারণা মামলা করেন নগরীর রায়নগর রাজবাড়ি এলাকার বাসিন্দা মুজিবুর রহমান। যার মামলা নং ১০/১৭২। এই মামলায় গত ১৭ নভেম্বর আদালতে আত্মসমর্পন করে জামিন আবেদন করেন অভিযুক্ত মারজান উল হক। এসময় বিজ্ঞ আদালত জামিন না দিয়ে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেন।
এরপর গত ২৪ নভেম্বর আবারো মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ১ এর বিচারক সাইফুর রহমানের আদালতে প্রধান কৌশলী হিসেবে জামিনের জন্য শুনানী করেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এদিনও বিজ্ঞ আদালত জামিন না মঞ্জুর করেন। এদিকে জামায়াত নেতার মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণের বিষয়ে এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জামায়াত নেতার পক্ষে আদালতে জেনেশুনে দাঁড়াইনি। এক জুনিয়র আইনজীবির কথায় অবস্থান নিয়েছিলাম। যখন জানতে পেরেছি, তখন বিরত থেকেছি। জানতে অভিযুক্ত জামায়াত নেতার পক্ষে অবস্থান নিতাম না। কিন্তু এরপরও ২৬ নভেম্বর বৃহস্পতিবার আবারো এই মামলার শুনানীতে প্রধান কৌশলী হিসেবে অংশ নেন মহানগর দায়রা জজ আব্দুর রহিমের আদালতে। যদিও বিজ্ঞ আদালত তাৎক্ষনিক জামিন না দিয়ে পরবর্তী শুনানীর জন্য আগামী ৭ ডিসেম্বর তারিখ নির্ধারণ করেন। একের পর এক জামায়াত নেতার পক্ষে আদালতে মামলার শুনানীতে অংশ নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছেন এডভোকেট মিসবাহ উদ্দিন সিরাজ। এ ব্যাপারে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন আদালত পাড়ার আওয়ামী ঘরাণার ও মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষের আইনজীবিরা। তারা বলেন, একজন মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ও আওয়ামীলীগের নেতা হয়ে দেশবিরোধী জামায়াত নেতার পক্ষে মামলার শুনানীতে অংশগ্রহণ একটি লজ্জাজনক ঘটনা। তারা এর তীব্র প্রতিবাদ জানিয়ে এরকম কাজ থেকে বিরত থাকার জন্য মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের প্রতি আহবান জানান।
উল্লেখ্য, মারজান উল হক ও তার স্ত্রী সহ পুরো পরিবার জামায়াত-শিবিরের রাজনীতির সাথে জড়িত। ভাই আল মামুন জামায়াত পরিচালিত একটি প্রাইভেট হাসপাতের পরিচালক। এছাড়া জামায়াত-শিবির পরিচালিত বিভিন্ন সংগঠন ও ব্যবসা বাণিজ্যেও সাথে তার পুরো পরিবারের সংশ্লিষ্টরা রয়েছে।
এদিকে মিসবাহ উদ্দিন সিরাজের সাম্প্রতিক অনেক কর্মকান্ড বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিশেষ করে রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী কাজের কারণে আলোচিত ও সমালোচিত হচ্ছেন তিনি। সবশেষ রায়হান হত্যার ঘটনায় তার ভূমিকা ছিলো রাষ্ট্র ও সরকার বিরোধী। বিভিন্ন সময়ে তিনি সরকারের বিরুদ্ধে বিষোদগার করেছেন যার সবশেষ প্রমাণ কুমারগাঁওয়ে বিদ্যুতকেন্দ্রে অগ্নিকান্ডের ঘটনা। এ ঘটনায় মন্তব্য করতে গিয়ে দেশকে ব্যর্থ রাষ্ট্র হিসেবে উল্লেখ করেছেন। সব মিলিয়ে সাবেক একজন কেন্দ্রীয় রাজনীতিবিদের সাম্প্রতিক কর্মকান্ডে বিব্রত সিলেটের মানুষ। বিশেষ করে নিজ দল আওয়ামীলীগ ও মুক্তিযুদ্ধেও পক্ষের মানুষজন কোনভাবেই তার এই কর্মকান্ড মেনে নিতে পারছেন না বলে মন্তব্য করেছেন অনেকে।

  •