কমলগঞ্জে মণিপুরি মহারাস উৎসব সমাপ্ত

12

জয়নাল আবেদীন,কমলগঞ্জ ::
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জে ঐতিহ্যবাহী মণিপুরী তরুনীদের অংশগ্রহনে মহারাস উৎসব ঊষা লগ্নে সূর্যোদয়ের সাথে পরিসমাপ্তি ঘটে। রাসোৎসবে জাতি, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে হাজারোও ভক্ত ও দেশী-বিদেশী পর্যটকের ভিড়ে মুখরিত হয়েছিল মণিপুরী পল্লী। উপজেলার মাধবপুর ও আদমপুর ইউনিয়নের তিনটি পৃথক স্থানে এ মহারাসলীলা উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে।

মাধবপুর শিববাজার এলাকায় মণিপুরি ললিতকলা একাডেমীর সংলগ্ন জোড়া মন্ডপে বিষ্ণুপ্রিয়া মণিপুরি সম্প্রদায়ের মহারাসলীলা রাতভর রাধাকৃষ্ণের প্রণয়োপখ্যানের রাসলীলা উপভোগ করেন আগত ভক্ত ধর্ম বর্ণ নির্বিশেষে আগত দর্শকরা। আদমপুরে মণিপুরি কালচারাল কমপ্লেক্সসহ দুটি পৃথক মন্ডপে মৈতৈ মণিপুরি সম্প্রদায়ের শিশু কিশোরদের অংশ গ্রহনে শ্রীকৃষ্ণের ছোট বেলার রাখাল নৃত্য পরিবেশন করা হয় সন্ধ্যা পর্যন্ত। মণিপুরি কালচারাল সেন্টার প্রাঙ্গণে রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হয় আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,সিলেট সিটি কর্পোরেশনের মেয়র আরিফুল হক চৌধুরী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন লেখক ও গবেষক এ কে শেরাম প্রমুখ।

মাধবপুর শিববাজার জোড়ামন্ডপ এলাকায় মণিপুরী রাসলীলা উৎসব পরিদর্শনে আসেন মৌলভীবাজারের জেলা প্রশাসক মীর নাহিদ আহসান, পুলিশ সুপার ফারুক আহমদ বিপিএম, উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. রফিকুর রহমান, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আশেকুল হক ও ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আরিফুর রহমানসহ প্রশাসনের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, কবি, সাহিত্যিক, লেখক, সাংবাদিকসহ নানা শ্রেণি পেশার লোকজন।

জানা যায়, ১৭৭৯ সালে মণিপুরের মহারাজা ভাগ্যচন্দ্রস্বপ্নদৃষ্ট হয়ে যে নৃত্যগীতের প্রর্বতন করেছিলেন তাহাই রাসোৎসব। ভাগ্যচন্দ্রের পরবর্তী রাজাগনের বেশরিভাগই ছিলেন নৃত্যগীতে পারদর্শী এবং তারা নিজেরাও রাসনৃত্যে অংশগ্রহণ করতেন। এর ফলে মণিপুরী সম্প্রদায়ের মধ্যে এ কৃষ্টির ধারাবাহিকতায় কোন ছেদ পড়েনি। অতীতের সেই ধারাবাহিকতার সূত্র ধরেই কোন রুপ বিকৃতি ছাড়াই রাসলীলায় মণিপুরী নৃত্য শুধু কমলগঞ্জের নয়, গোটা ভারতীয় উপমহাদেশের তথা সমগ্র বিশ্বের নৃত্য কলার মধ্যে একটি বিশেষ স্থান দখল করে নিয়েছে।

সবুজ সিলেট/ এস মায়াজ আহমদ তালহা