সিলেটে ৯৮৬ জন এইডস আক্রান্ত, ৪১২ জনই মারা গেছেন

9

স্টাফ রিপোর্টার
সিলেটে এ পর্যন্ত এইচআইভি-এইডসে আক্রান্ত হয়েছেন ৯৮৬ জন। এর মধ্যে মারা গেছেন ৪১২ জন। বাকীদের মধ্যে ৫২৯ জন সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং মৌলভী বাজার জেলা সদর হাসপাতালে অবস্থিত এআরটি সেন্টার হতে নিয়মিত ওষুধ সেবন করে যাচ্ছেন।

মঙ্গলবার (১ ডিসেম্বর) বিশ্ব এইডিস দিবসে ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে আয়োজিত একটি অনুষ্ঠানে এসব তথ্য জানানো হয়।

এ অনুষ্ঠানে হাসপাতালের নবাগত পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদার বলেন, এইচআইভি আক্রান্ত মানুষদের জন্য সিওমেক হাসপাতালে দীর্ঘদিনের বিদ্যমান চিকিৎসা সুবিধা আরো বিস্তৃত করা হবে। সিলেট বিভাগের এইচআইভি আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার সবচেয়ে বৃহৎ এই প্রতিষ্ঠানে পিসিআর টেস্ট এবং ভাইরাল লোড টেস্টিং সহ বিভিন্ন ধরনের চিকিৎসা সুবিধা চালুর উদ্যোগ নেয়া হবে। দীর্ঘদিন ধরে এসব মানুষকে সেবাপ্রদান করে আমাদের চিকিৎসকগন এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।

১ ডিসেম্বর বিশ্ব এইডস দিবস উদযাপন উপলক্ষে সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতলে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়। দিনের শুরুতে হাসপাতালের সম্মূখস্থ গোলচত্বরে স্ট্যাডিং র‌্যালির আয়োজন করা হয়। করোনা পরিস্থিতি বিবেচনা করে সব ধরনের স্ব্যাস্থ্য সুরক্ষার নিয়ম মেনে র‌্যালীসহ এইডস দিবসের যাবতীয় কর্মসূচি পালন করা হয়। কর্মসূচিতে হাসপাতালের বিভিন্ন পর্যায়ের উর্ধ্বতন কর্মকর্তা, অধ্যাপক, চিকিৎসক, সেবিকা সহ বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মচারী ও সেবা গ্রহীতাগন অংশ গ্রহন করেন।

র‌্যালী শেষে হাসপাতালের সেমিনার কক্ষে এক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। হাসপাতলের পরিচালক বিগেডিয়ার জেনারেল ব্রায়ান বঙ্কিম হালদারের সভাপতিত্বে এবং পিএমটিসিটি প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোঃ মোতাহের হোসেনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সভার শুরুতে স্বাগত বক্তব্য রাখেন হাসপাতালের আবসিক চিকিৎসক এবং এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা কেন্দ্র এআরটি সেন্টারের ফোকাল পার্সন ডাঃ আবু নঈম মোহাম্মদ। তিনি তার বক্তব্যে উল্লেখ করেন হাসপাতালের বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে এইচঅঅইভি আক্রান্ত ব্যাক্তিদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসা প্রদান করা হয়। এতে করে নিয়মিত চিকিৎসার কারণে আক্রান্ত ব্যাক্তিগন এখন অনেক ভাল আছেন।

ইউনিসেফের সহযোগিতায় পরিচালিত “সিলেট বিভাগের বিভিন্ন সরকারী হাসপাতাল সমূহে পিএমটিসিটি সেবা জোরদারকরণ” প্রকল্পের কার্যক্রম এবং হাসপাতালের সামগ্রীক এইচআইভি কার্যক্রম নিয়ে মূল প্রতিবেদন উপস্থাপন করেন প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মোঃ মোতাহের হোসেন। সভায় অথিতি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ওসমানী মেডিকেল কলেজের উপাধক্ষ্য অধ্যাপক ডাঃ শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী, উপপরিচালক ডাঃ হিমাংশুলাল রায়, গাইনী বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ নাসরিন আক্তার, রক্তপরিসঞ্চালন বিভাগের প্রধান অধ্যাপক ডাঃ এফ এম এ মুসা চৌধুরী, সহকারী পরিচালক ডাঃ মাহবুবুল আলম, ডাঃ এ এস এম বাদরুল ইসলাম, সেবা তত্ত্বাবধায়ক রেনুয়ারা আক্তার, তৃতীয় শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি আবুল খায়ের চৌধুরী ও চতূর্থ শ্রেণীর কর্মচারী সমিতির সভাপতি মোঃ আব্দুল জব্বার প্রমূখ।

সভায় বক্তাগন তাদের আলোচনায় সিলেট বিভাগের এইচআইভি সংক্রমণের ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থা, এইচআইভি আক্রান্তদের চিকিৎসা সেবার আওতায় আনার প্রয়োজনীয়তা এবং এক্ষেত্রে সিওমেক হাসপাতালের ভূমিকাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলেকপাত করেন।

গাইনী বিভাগের প্রধান অধ্যপক নাসরিন আক্তার জানান চিকিৎসকদের আন্তরিক প্রচেষ্ঠা এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসায় এইচআইভি আক্রান্ত অনেক মা এইচআইভি মুক্ত সুস্থ স্বাভাবিক সন্তান জন্ম দিয়েছেন। এপর্যন্ত ওসমানী হাসপাতালের ৬০ জন এইচআইভি আক্রান্ত মা “মাহতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধ” কার্যক্রমের আওতায় এসে চিকিৎসা নিয়েছেন।

উপ-পরিচালক ডাঃ হিমাংশুলাল রায় তার বক্তব্যে এইচআইভি প্রতিরোধে হিজড়া জনগোষ্ঠি সহ বিভিন্ন ঝুঁকিপূর্ণ পেশায় নিয়োজিত ব্যক্তিদের সেবরা আওতায় নিয়ে আসর উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

সভায় উপধ্যক্ষ অধ্যাপক শিশির রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন যেহেতু অভিবাসী অধ্যূষিত এলাকা তাই এখানে এইচআইভি প্রতিরোধ কার্যক্রমের আঙ্গীক একটু ভিন্ন রকমের হতে হবে। প্রয়োজনের কোভিড-১৯ পরীক্ষার মতো বিমান বন্দর সমূহে এইচআইভি পরীক্ষার ব্যবস্থা করতে হবে।

সভায় আলোচকগন সিলেটের এইচআইভি কার্যক্রম গতিশীল করতে সকল শ্রেণী পেশার মানুষের অংশগ্রহন নিশ্চিত করার উপর গুরুত্ব আরোপ করেন।

উল্লেখ্য যে, সরকারী অর্থায়ানে এইডস রোগীদের মধ্যে ওষুধ এবং অন্যান্য সেবা বিনামূল্যে প্রদান করা হয়ে থাকে। পাশাপাশি এইচআইভি আক্রান্ত মা হতে শিশুর শরীরে এইচআইভি সংক্রমণ প্রতিরোধের মাধ্যমে এইচআইভির নতুন সংক্রমণ কমিয়ে আনার লক্ষ্যে ইউনিসেফের সহায়তায় এই দুটি হাপসাতালে পিএমটিসিটি প্রকল্প চলমান আছে।

সবুজ সিলেট/০১ ডিসেম্বর/সেলিম হাসান

  •