শীতের সবজির সরবরাহ বেড়েছে, কমেছে দাম

20

সবুজ সিলেট ডেস্ক::
নীলফামারীতে পাইকারি বাজারে বেড়েছে শীতকালীন সবজির সরবরাহ। বাজারে কয়েকদিন আগেও যে পাতাকপি, ফুলকপি, বেগুন, ধনে পাতা, লাউ, লালশাক, সিম ও মুলার দাম চড়া ছিল তা এখন ভোক্তাদের হাতের নাগালে।
মৌসুমের শুরুতেই অতিবৃষ্টির কারণে শীতের আগাম শাক-সবজির ক্ষতি হলেও এখন বেড়েছে সব ধরনের সবজির উৎপাদন। নতুন সবজিতে ভরে উঠেছে স্থানীয় বাজারগুলো।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর জানায়, জেলার ছয় উপজেলায় শীতকালীন আগাম শাকসবজির আবাদ করেও অতিবৃষ্টির কারণে ক্ষতিগ্রস্ত হন কৃষক। এতে সবজির বাজারে সরবরাহ কমে যায়। পাশাপাশি সরবরাহ না থাকায় দামও বেড়ে যায় দুই থেকে তিনগুন। অতিবৃষ্টি কাটিয়ে দফায় দফায় চারা তৈরির পর এখন শাক-সবজির উৎপাদন বাড়িয়েছে কৃষকরা। চলতি মৌসুমে আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় উৎপাদন বেড়েছে পাতাকপি, ফুলকপি, লালশাক, লাউ, মুলা, সিম, বরবটি, ঢেঁড়শ ও বেগুনসহ অন্য শীতকালীন সবজির।
সূত্র জানায়, চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নিয়ে মাঠে নামে কৃষি বিভাগ। আর অর্জিত জমির পরিমাণ ২ হাজার ৫৬০ হেক্টর (চলমান)। এতে উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ১ লাখ ২৪ হাজার ৩০০ মেট্রিক টন।
নীলফামারীর বাজারে শীতের সবজি জেলা সদরের (সবজির ভান্ডার) লক্ষীচাপ ইউনিয়নের দূর্বাছড়ি গ্রাম থেকে রাজধানী ঢাকাসহ বিভিন্ন উপজেলার পাইকাররা এসে কিনে নিয়ে যাচ্ছেন এসব শাক-সবজি। জানা যায়, রাজধানী ঢাকার চাহিদার প্রায় ৬৫ ভাগ সবজি সরবারহ হয়ে থাকে এই জেলা থেকে।
এদিকে, জেলা শহরের বড় বাজারের পাইকারি ব্যবসায়ী মো. দেলোয়ার হোসেন জানান, উৎপাদন ও সরবরাহ বাড়ায় কমে এসেছে সবজির দাম। বিগত দুই সপ্তাহে সব ধরনের সবজির প্রতি কেজিতে ৩০ থেকে ৩৫ টাকা কমেছে। পুরোদমে সবজির উৎপাদন শুরু হলে দাম আরও কমে আসবে বলে জানান তিনি।
জেলার জলঢাকা উপজেলার উত্তর দেশিবাই গ্রামের সবজি চাষি আব্দুস সামাদ বলেন, এবার এক বিঘা (৩০ শতক) জমিতে আগাম বিভিন্ন জাতের সবজির চাষ করেছিলাম। টানা বৃষ্টি আর বারবার বন্যার কারণে শীতের আগাম সবজির ফলনে লোকসান খেয়েছি। তবে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে নতুনভাবে সবজি লাগিয়েছি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় ফলনও বাম্পার হয়েছে। সবজির উৎপাদন বাড়ায় বাজারে দামও কমে এসেছে। হয়তো এখন লোকসান গুনতে হবে।
অপরদিকে, জেলার কিশোরগঞ্জ উপজেলার বাহাগিলী ইউনিয়নের অবিলের বাজারের কৃষক মোবারক আলীও একই কথা জানান, এ বছর বৃষ্টির কারণে শীতের আগাম সবজি উৎপাদন না হওয়ায় সবজি চাষ করে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছি। এখন উৎপাদন বাড়ছে, তবে দাম যদি বেশি কমে যায় আবারও লোকসান গুনতে হবে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতরের উপপরিচালক মো. ওবায়দুর রহমান মন্ডল বলেন, আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে এলাকায় সবজির পুরো উৎপাদন শুরু হলে দাম আরও সহনীয় পর্যায়ে চলে আসবে। উৎপাদন কম হলে দাম বেশি পেলেও কৃষকরা লাভবান হতে পারে না। তবে উৎপাদন বেশি হলে, দাম কিছুটা কম হলেও কৃষকরা লাভবান হবেন।
তিনি জানান, জেলায় চলতি মৌসুমে ৫ হাজার ৬৫০ হেক্টর জমিতে শাক-সবজির চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে । এরমধ্যে ২ হাজার ৫৬০ হেক্টর জমিতে সবজির চাষ হয়েছে। এখন উৎপাদন বাড়ছে, তবে দাম যদি বেশি কমে যায় তাহলে আবারও লোকসান গুনতে হবে কৃষকের।

সবুজ সিলেট/০২ডিসেম্বর/শামছুন নাহার রিমু

  •